জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু একটি বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে আজীবন কাজ করে গেছেন। তার লক্ষ্য ছিল শোষণ-বৈষম্যহীন একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ার, যেখানে দেশের সকল নাগরিক উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ পাবে। 

বুধবার মেহেরপুরে 'সমগ্র দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন এবং সংস্কার' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মন্দির নির্মাণ ও সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়নে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অবদান রয়েছে। তাই সকল নাগরিকের সমান উন্নয়নের মাধ্যমেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব হয়। বঙ্গবন্ধু এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেই বাংলাদেশকে একটি শোষণ বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে মেহেরপুর অঞ্চলে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে। এই সরকারের আন্তরিকতার কারণেই এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষ স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের সুযোগ পাচ্ছে। এই অঞ্চলকে বাংলাদেশ আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মেহেরপুরের প্রতিটি মানুষকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। 

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড মো. মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রঞ্জিত কুমার দাস, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্যামল সরকার, পাবলিক প্রসিকিউটর পল্লব ভট্টাচার্য, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুল ইসলাম, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট ইব্রাহিম শাহিন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সভাপতি প্রফেসর হাসানুজ্জামান মালেক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

এ সময় মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলা ও পৌর এলাকায় ৯৯ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নয়টি মন্দির নির্মাণ ও সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।