স্বল্প আয়ের সংসারে অভাব ছিল নিত্যদিন। সিনিয়র নেইমার দ্য সিলভার ইচ্ছা ছিল, বড় ফুটবলার হয়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরাবেন। স্বপ্ন পূরণের জন্য ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের সাও ভিনসেন্ট শহর ছেড়ে সাও পাওলোতে চলে যান তিনি। কিন্তু পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নটা অধরাই থেকে যায় সিনিয়র নেইমারের। নিদারুণ ওই দুঃসময়ে স্ত্রী নাদিনের গর্ভে আসেন জুনিয়র নেইমার। সিনিয়র নেইমারের ভালোবাসার প্রতীক হয়ে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখা নেইমার জুনিয়রের জীবনের গল্পটা থেমে যেত মাত্র চার মাস বয়সে। মারাত্মক গাড়ি দুর্ঘটনায় রক্তাক্ত নেইমারকে কোলে করে হাসপাতালে নিতে নিতে বাবা সিনিয়র নেইমার ভেবেছিলেন, ছেলেকে বড় ফুটবলার বানানোর স্বপ্নটা বুঝি দুর্ঘটনাতেই ভেঙে যাবে। ঈশ্বরের কৃপায় সেদিন বেঁচে ফেরা নেইমার সাও পাওলোর বস্তির রাস্তায় বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবলের প্রেমে পড়ে যান। প্রতিভা দেখে অভাবের সংসার হলেও ছেলে নেইমারকে তার আঁচ লাগতে দেননি। শুরুর সেই রাস্তার ফুটবলারের উত্থান ঘটে ২০০৩ সাল থেকে। কিশোর প্রতিভা হিসেবে ওই বছরই কিংবদন্তি পেলের সাবেক ক্লাব সান্তোসে যোগ দেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি নেইমারকে। সময়ের সঙ্গে এখন ব্রাজিল তথা বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। এক বেলা খাবার আনতে যাদের কষ্ট হতো, নেইমারের হাত ধরে সে পরিবারটি এখন ব্রাজিলের অন্যতম ধনী। আর ট্রান্সফারের হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের এ তারকার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় হলুদ জার্সিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার। রোববার সেই স্বপ্ন পূরণের দিন ২৯ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ডের। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা তথা বন্ধু লিওনেল মেসির দলকে হারাতে পারলেই স্বপ্নের ভেলায় ভাসবেন তিনি।

দেশের জার্সিতে অলিম্পিক, কনফেডারেশন কাপ জেতা নেইমারের বড় স্বপ্ন মারাকানায় ট্রফি জেতা। ২০১০ সাল ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক হওয়া দেশটির নতুন তারকা নেইমারের সামনে সুযোগ হয়ে আসে ২০১৪ বিশ্বকাপ। হোমগ্রাউন্ডে পরিস্কার ফেভারিট থাকা ব্রাজিল সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরে ছিটকে যায়। তার আগে কোয়ার্টার ফাইনালেই নেইমারের স্বপ্নটা ভেঙে দেন কলম্বিয়ান হুয়ান জুনিগা। তার মারাত্মক ট্যাকলে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায় নেইমারের। ইনজুরির কারণে ২০১৯ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত কোপায় ব্রাজিল দলে ছিলেন না। দেশের শিরোপা জয় দেখেছিলেন গ্যালারিতে বসে। এবার মাঠে থেকেই জিততে চান শিরোপা। মারাকানায় ট্রফি নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসার স্বপ্ন পূরণ করতে চান নেইমার, 'নিজেকে একজন ব্রাজিলিয়ান ভাবতে আমি সবসময় গর্ব করি। আমার স্বপ্নটা সবসময় ব্রাজিল জাতীয় দল নিয়ে। এটা আমার প্রথম কোপা আমেরিকার ফাইনাল হতে যাচ্ছে এবং এটা জিততে আমি আমার সবটুকু উজাড় করে দেবো।'

চলতি আসরে ব্রাজিলের স্বপ্নের সারথিই নেইমার। ইকুয়েডরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই খেলেছেন নেইমার। দুই গোল করার সঙ্গে সতীর্থকে দিয়ে তিনটি গোল করিয়েছেন তিনি। দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা পিএসজির এ ফরোয়ার্ডের দিকেই তাকিয়ে ব্রাজিলিয়ানরা।