জিম্বাবুয়ে সিরিজে টি২০ না খেললে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজেও খেলার সুযোগ থাকবে না। বিসিবির দেওয়া কোনো শর্ত নয় এটি। জাতীয় দল নির্বাচক বা টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) দেওয়া শর্তের কারণেই বাদ পড়তে হবে জিম্বাবুয়েতে টি২০ না খেলাদের। কারণ জিম্বাবুয়ে থেকে আগে ফিরলে বা ঢাকা থেকে টি২০ স্কোয়াডে সুযোগ পেলে ১০ দিন হোটেলে বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠনিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে দেশে ফিরলে পরিবারের সঙ্গে সময় দেওয়া হবে না  না মুশফিকুর রহিমের।

জিম্বাবুয়ে থেকে টি২০ দল ফেরা পর্যন্ত হোটেলেই থাকতে হবে তাকে। যে কারণে ছুটি বাতিল করে জিম্বাবুয়েতে টি২০ সিরিজ খেলার সিদ্ধান্ত মুশফিকের। মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাচক প্যানেলের প্রধান মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের টি২০ খেলার ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি তিনি।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি২০ সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন মুশফিক। বায়োসিকিউর বাবলে টানা খেলার ভেতরে থাকায় সাত দিনের একটা বিরতি নিতে চেয়েছিলেন। ২০ জুলাই হারারেতে শেষ ওয়ানডে খেলে ২২ জুলাই দেশে ফিরলে হোম সিরিজের আগে সেটা হয়েও যেত। বিসিবিও সে কারণে ছুটি মঞ্জুর করে টি২০ স্কোয়াডে রাখেনি মুশফিককে। কিন্তু তার সে পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জুড়ে দেওয়া শর্ত। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, 'যেহেতু আগে দেশে ফিরে লাভ হচ্ছে না, হোটেলেই থাকতে হবে তাকে। তাই মন পরিবর্তন করে টি২০ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'

টাইগার টি২০ স্কোয়াডকে জিম্বাবুয়ে থেকে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সোজা হোটেলের বায়োসিকিউর বাবলে যেতে হবে। অস্ট্রেলিয়া দলও ঢাকায় পৌঁছাবে একই দিন। দুই দল তিন দিনের আইসোলেশন শেষ করে ১ জুলাই থেকে অনুশীলন করতে পারবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। মুশফিককেও তাই তাল মেলাতে হচ্ছে দুই দলের পরিকল্পনার সঙ্গে। জাতীয় দল ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্য বলেন, 'মুশফিকের বিশ্রাম খুব প্রয়োজন হলেও সেটা সে নিতে পারছে না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্য সে মুখিয়ে আছে।'

মুশফিকের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। জাতীয় দল নির্বাচকরা তাকে নিয়ে টি২০ স্কোয়াড ১৭ জনে উন্নীত করেছেন। তবে মুশফিকের টি২০ খেলার সিদ্ধান্ত কপাল পুড়তে পারে আরেক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানের। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) টি২০তে দুর্দান্ত খেলে তিন সংস্করণের দলেই জায়গা করে নেন। যদিও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি তার। ওয়ানডে সিরিজেও ১১ জনে জায়গা পাওয়া কঠিন। টি২০ সিরিজই ছিল তার খেলার সুযোগ। অবশ্য নির্বাচকরা তাকে খেলানোর ব্যাপারে এখনও আশাবাদী। মুশফিক ফিল্ডিং করলে সোহানকে করা হবে কিপার ব্যাটসম্যান। ওপেনিং ব্যাটসম্যান শেষ পর্যন্ত না খেললে সোহানকে জায়গা দেওয়া কিছুটা সহজ হবে। তামিম টি২০ স্কোয়াডে থাকলেও একদিনের ক্রিকেট সিরিজ শেষে দেশে ফিরতে পারেন।

গুঞ্জন আছে, ৩২ বছরের এ ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজেও খেলতে চান না। যদিও তামিম বা বিসিবি কোনো পক্ষ থেকেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে অফিসিয়ালি কিছু পাননি বলে জানান ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান।