তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিম্বাবুয়েকে কঠিন লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ৯ উইকেটে ২৭৬ রান করেছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০২ রান করেন লিটন দাস। 

হারারেতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই তামিম ইকবালকে হারালো বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। পেসার মুজারাবানির বলে কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন তামিম। প্রথম দুই ওভারে বাংলাদেশ কোন রান তুলতে পারেনি।

শূরু থেকেই রান তুলতে তাড়াহুড়া করছিলেন সাকিব। চার মেরে রানের খাতা খুললেও সাকিবের ব্যাটিংয়ে ছিল না কোন দায়িত্বশীলতার ছাপ। নবম ওভারে মুজারাবানিকে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ১৯ রানে সাজঘরে ফিরেছেন সাকিব। বাংলাদেশ হারালো দ্বিতীয় উইকেট। 

বড় কিছুর আশা দেখাচ্ছিলেন মিঠুন। কিন্তু ১৯ রানেই শেষ তার লড়াই। চাতারার অফস্টাম্পের বাইরের বলে আলগা শট খেলে উইকেটের পেছনে মিঠুন ক্যাচ দেন। দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ। 

প্রস্তুতি ম্যাচে রান পেলেও প্রথম ওয়ানডের ম্যাচে হতাশ করলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ১৫ বলে ৫ রানেই সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। বাঁহাতি পেসার রিচার্ড নাগারাবার অফস্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। তার আউটে বিপদ বাড়লো বাংলাদেশের। 

৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তুলেছেন লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহ। দুজন মিলে গড়েছেন ৯৩ রানের জুটি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আউট হয়েছেন ব্যক্তিগত ৩৩ রানে। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর পরেই ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি পূরণ করেন লিটন দাস। ৭৮ বলে ফিফটির পর থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। সেঞ্চুরি পূরণে এরপর খেলেন মাত্র ৩২ বল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটি তার তৃতীয় শতক। তবে এরপর আর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি তিনি। এনগারাভার বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আউট হওয়ার পূর্বে ১১৪ বলে ৮টি চারের মারে করেছেন ১০২।

শেষদিকে অষ্টম উইকেট জুটিতে আফিফ-মিরাজ মিলে মাত্র ৪২ বলে ৫৮ রানের একটি কার্যকরী পার্টনারশিপ গড়েন। ৩৫ বলে ৪৫ রান তুলে আউট হন আফিফ। আর ২৫ বলে ২৬ রান করেন মিরাজ। এদিকে সাইফউদ্দিন ৮ রানে এবং শরিফুল শূন্যরানেই অপরাজিত থাকেন।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন লুক জংইউ। এছাড়া দুটি করে উইকেট পেয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগারাভা।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজটি ওয়ানডে সুপার লিগের অংশ। তাই এই সিরিজ থেকে ৩০ পয়েন্ট তুলে নেওয়া টাইগারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে ৯ ম্যাচে ৫ জয়ে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে সুপার লিগের পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

স্বাগতিকদের বিপক্ষে শেষ ১৬ ম্যাচের একটিতেও হারেননি তামিম-সাকিবরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে সবশেষ ২০১৩ সালে জয় পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে। দুদলের ওয়ানডে পরিসংখ্যানে অনেকটাই এগিয় রয়েছে বাংলাদেশ দল। একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুদলের মুখোমুখি হয়েছে মোট ৭৬ বার। যেখানে ৪৮টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ে জিতেছে মাত্র ২৮টি ম্যাচে।

তবে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে বরাবরই শক্তিশালী। তাই সিরিজ জিততে হলে দলীয় পারফরম্যান্সের কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ একাদশ:

তামিম ইকবাল (অধিনায়ক) লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মোঃ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইফুদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম।

জিম্বাবুয়ে একাদশ:

ওয়েসলি মাধেভেরে, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ব্রেন্ডন টেলর, ডিওন মেয়ার্স, টিমিসেন মারুমা, রেগিস চাকাবভা, রায়ান বার্ল, লুক জংওয়ে, টেন্ডাই চাতারা, আশীর্বাদ মুজারাবানি, রিচার্ড নাগারাভা।