সাকিব তার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে এত লম্বা সময় 'রানে ছিলেন না', তা কখনও হয়নি। এক বা দুই ম্যাচে খারাপ গেলে তৃতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াতে দেখা গেছে তাকে। এবার যে কোনো কিছুতেই কিছু হচ্ছে না বাঁহাতি এ অলরাউন্ডারের। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের একাদশ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করতে না পেরে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ গেল বাজে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি২০-তে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেও ব্যাটে ছন্দ ফেরাতে পারেননি। জিম্বাবুয়েতে টেস্টের পর প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেও হাসেনি তার ব্যাট। তবে বোলিংয়ের উন্নতি ছিল চোখে পড়ার মতোই। টেস্টে উইকেটপ্রাপ্তিতে মেহেদী মিরাজের পেছনে থাকলেও একদিনের ম্যাচে দেখা গেল পুরোনো সাকিবকে। ৯.৫ ওভার বল করে ৩০ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট।

বিকেএসপির ক্রিকেট পরামর্শক নাজমুল আবেদীন ফাহিমের বিশ্বাস, এই বোলিং পারফরম্যান্সই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে সাকিবের ব্যাটিংয়ে। রানে ফিরতে সাকিবের জন্য একটি পরামর্শও রেখেছেন তিনি। বড় ইনিংস খেলতে শীর্ষ ওয়ানডে অলরাউন্ডারকে ব্যাটিংয়ের স্টাইলে সামান্য পরিবর্তন আনতে বলছেন ফাহিম।

সাকিবের মতো সব্যসাচী ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দলের চাওয়া একটু বেশিই থাকে। কিছুদিন ধরে দলের সে প্রত্যাশা মেটাতে পারছেন না তিনি। যদিও অভিজ্ঞতা ও অলরাউন্ডার হাওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে রান না করেও পছন্দের ব্যাটিং অর্ডার ধরে রেখেছেন। এভাবে আরও কিছুদিন চলতে থাকলে প্রশ্ন উঠে যেতে পারে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাকে তিন নম্বরে খেলানো নিয়ে।

ফাহিমের প্রত্যাশা, 'সাকিব ফেল করতে অভ্যস্ত নয়। এবার কেন যেন হচ্ছে না। আশার জায়গা হলো, গত ম্যাচে বোলিং ভালো করেছে। এই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে ব্যাটিংয়েও ভালো করবে বলে আশা করি। গত ম্যাচে কিছু ভালো শট খেলেছে, সেগুলোকে একটু বড় করতে পারলেই হতো।'

২৫ বলে ১৯ রান করে স্কয়ার কাট খেলে ক্যাচ আউট হন সাকিব। এই ছোট্ট ইনিংসেও তিনটি বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি।

লিটনও ছন্দে ছিলেন না। তিনি রানের দেখা পেলেন আট ইনিংস পর। এজন্য উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যানকে শট খেলার লোভ সংবরণ করতে হয়েছে। যেটা পারেননি সাকিব। এই ম্যাচে লম্বা ইনিংস খেলার মানসিকতা নিয়ে সাকিবকে উইকেট ধরে রাখার পরামর্শ দিলেন ফাহিম, 'যেভাবেই হোক ওকে উইকেটে থাকতে হবে। ব্যাটিং স্টাইলে একটু স্যাক্রিফাইস বা কমপ্রোমাইজ করার প্রয়োজন হলে করতে হবে। ও যেভাবে খেলে অভ্যস্ত সেখান থেকে কাটছাঁট করে হলেও উইকেটে থাকা জরুরি। লম্বা সময় উইকটে থাকতে পারলে আস্তে আস্তে ছন্দ ফিরবে এবং বড় ইনিংস চলে আসবে। আমার মনে হয়, ৫০টি বলও ঠিকভাবে খেলতে পারলে ওর কনফিডেন্স ফিরে আসবে। আর এটা হতে হবে মূল ম্যাচে, প্র্যাকটিস ম্যাচে নয়।'

নাজমুল আবেদীন ফাহিমের মতো ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালও অলরাউন্ডার সাকিবকে পাওয়ার অপেক্ষায়। প্রথম ওয়ানডের ব্যাটিং পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে টাইগার অধিনায়ক বলেন, 'কম রানে তিনটি উইকেট যাওয়া আইডিয়াল না। আমাদের টপঅর্ডার থেকে আমি বা সাকিব একটা বড় ইনিংস খেলতে পারলে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হয় না। সুযোগ এলে পরের ম্যাচে আমরা চেষ্টা করব।'

বহু সাক্ষাৎকারেই বলেছেন সাকিব, বোলিংটা তার সহজাত। পরিশ্রম যা করার ব্যাটিংয়ের জন্যই করেন। তাই পাঁচ উইকেটপ্রাপ্তির চেয়েও একটি ফিফটি বা সেঞ্চুরি হলে বেশি খুশি হন তিনি। সেখানে টানা চার ম্যাচে রান না পাওয়ার চাপে ভুগছেন সাকিব। ব্যাটপ্যাঁচ থেকে বের হতে হারারেতে একক অনুশীলনও করছেন তিনি। তাই টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়া, বোলিংয়ের ছন্দে আজ ব্যাটিংয়ে ভালো করবেন সাকিব।