তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আজ স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি বাংলাদেশ। টস জিতে বাংলাদেশকে বোলিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে জিম্বাবুয়ে। হারারেতে ম্যাচ শুরু হয়েছে বিকাল সাড়ে ৪টায়।

প্রথম ওভারটা দেখেশুনে খেললেও দ্বিতীয় ওভারেই মারমুখী হয়ে উঠেছিল জিম্বাবুয়ে। মোস্তাফিজের করা দ্বিতীয় বলেই সেটি গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেছেন জিম্বাবুয়ের ওপেনার মারুমানি। করোনার কারণে দর্শকশূণ্য গ্যালারি থাকার ফলে ক্রিকেটারদেরকেই সেই বল কুড়িয়ে আনতে হয়েছে। পরপর দুই বলে ডট দিয়ে ওভারের পঞ্চম বলে দুর্দান্ত এক স্লোয়ারে মারুমানিকে বোকা বানালেন মোস্তাফিজ। উড়িয়ে মারতে গিয়ে সৌম্যের তালুবন্দী হয়ে মারুমানী ফেরেন ব্যক্তিগত ৭ রানে।

১০ রানে জিম্বাবুয়ে প্রথম উইকেট হারানোর পর ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন চাকাভা–মাধেভেরে জুটি। অবশেষে এই জুটি ভাঙলেন সাকিব আল হাসান। তাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ২৩ বলে ২৩ রান করেন মাধেভেরে। এতে ভাঙলো চাকাভা–মাধেভেরের ৩৮ বলে ৬৪ রানের জুটি। 

দলীয় স্কোরকার্ডে ১৭ রান যোগ হতেই রান আউট হয়ে ফিরেছেন খুনে মেজাজে থাকা চাকাভা। শরিফুল ইসলামের প্রথম বলে নুরুল হাসান সোহান তাকে রান আউট করেন। ২২ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে ৪৩ রান করেন জিম্বাবুয়ান ওপেনার। শরিফুলের ওভারে চার বলের ব্যবধানে সিকান্দার রাজাও আউট হন। তিন বল খেলে রানের খাতা না খুলে সোহানকে পেছনে ক্যাচ দেন স্বাগতিক অধিনায়ক।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও রানের গতি বাড়াচ্ছে জিম্বাবুয়ে। সৌম্য সরকার এসে নিজের দ্বিতীয় ওভারে পেলেন উইকেটের দেখা। ইনিংসের ১৪তম ওভারে মুসাকান্দাকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন সৌম্য। 

দলীয় ১১৯ রানে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নিলেন শরীফুল ইসলাম। স্ট্যাম্প উপড়িয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠা মায়ার্সকে থামালেন তরুণ এই পেসার। সাজঘরে ফেরার আগে ২২ বল খেলে ৩৫ রান তুলেছেন মায়ার্স।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১২০ রান।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে, সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শততম টি টোয়েন্টি খেলতে নামছে বাংলাদেশ। দুই দলের ১৩ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে টাইগাররাই। ৪ হারের বিপরিতে ৯ জয় বাংলাদেশের। এই সিরিজে যদিও তামিম, মুশফিককে ছাড়াই লড়তে হবে মাহমুদউল্লাহদের, তারপরেও টি টোয়েন্টিতে নিজেদের একশতম ম্যাচে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছেননা টাইগার অধিনায়ক রিয়াদ।

তবে সামগ্রিক হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে গত ৯৯ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৩২ ম্যাচে ও হেরেছে ৬৫ ম্যাচ। 

এর আগে তিন ম্যাচ সিরিজের ৩য় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। তামিমের নেতৃত্বে প্রায় এক যুগ পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের মাটিতে শেষ সিরিজ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এর পর ২০১১ ও ২০১৩ সালে হেরেছিল।