সিরিজ নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৯৪ রানের টার্গেট দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান করে। বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের এটিই সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে একবারই এতো রান তাড়া করে জিতেছে বাংলাদেশ। তাই সিরিজ জিততে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে বাংলাদেশ।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই তেড়েফুড়ে খেলেন জিম্বাবুয়ে দুই ওপেনার। তাসকিনের করা প্রথম ওভার থেকে ৮ রান তুলে নেন স্বাগতিকরা। সাইফউদ্দিনের করা দ্বিতীয় ওভারে কোনো বাউন্ডারি না আসলেও ৭ রান পায় জিম্বাবুয়ে। তৃতীয় ওভারে শরিফুল ১টি করে চার ও ছক্কা হজম করে মোট ১৩ রান খরচ করেন। 

চতুর্থ ওভারে তাসকিনের ৬ বলে ৫টি চার মারেন মাধেভেরে। দুই ওপেনারের তাণ্ডবে শুরুতেই এলেমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার যখন ঝড়ের বেগে উড়ছেন, তখনই ওপেনার মারুমানিকে থামান সাইফউদ্দিন। নিজের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে মারুমানিকে ফেরালেন টাইগার এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার। জিম্বাবুয়ের এই ওপেনার ফিরেছেন ২০ বলে ২৭ রান করে। তার বিদায়ে ভেঙেছে ৬৩ রানের ওপেনিং জুটি।

জিম্বাবুয়ের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দল যখন এলেমেলো, তখনই নাঈম-শামীমের যুগল ক্যাচে ফেরেন আগ্রাসী চাকাভা। সৌম্যের বলে উড়িয়ে মারেন চাকাভা, বাউন্ডারির একেবারে ওপর গিয়ে সেটি ধরেন নাঈম। কিন্তু ব্যালেন্স রাখতে না পারায় বাউন্ডারি পার হওয়ার আগে সেটি ছুড়ে দেন বাউন্ডারির ভেতরে। ছুটে গিয়ে সেটি নেন শামীম হোসেন। ২২ বলে ৪৮ রান করে ফেরেন চাকাভা। গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এলো সৌম্যর বোলিংয়েই। এরপর নিজের পঞ্চম বলে বোল্ড করলেন সিকান্দার রাজাকে। খালি হাতেই ফেরেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক।

এরপর চার-ছক্কার ফুলঝুড়িতে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে চতুর্থ ফিফটি পান ওয়েসলি মাধেভেরে। দলীয় ১৪৬ রানে মাধেভেরের তাণ্ডব থামান সাকিব। ৩৬ বলে ৫৪ রান করেই ফেরেন তিনি, ইনিংসে মারেন ৬ চার। এছাড়া ব্যক্তিগত ২১ রানে আউট হন ডিওন মেয়ার্স। শেষদিকে বার্লের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৯৩ রান তুলে স্বাগতিকরা। ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন বার্ল।

বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট নেন সৌম্য সরকার। একটি করে উইকেট নেন সাকিব, সাইফউদ্দিন ও শরীফুল।

প্রথম টি–টোয়েন্টিতে ৮ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ে জিতেছে ২৩ রানে। আজ দুই দলের জন্যই তিন ম্যাচের এই সিরিজ জিতে নেওয়ার সুযোগ।

শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ দলে আছে একটি পরিবর্তন। মেহেদী হাসানের বদলে এসেছেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। অন্যদিকে আগের ম্যাচের একাদশ নিয়েই নামছে স্বাগতিকরা। 

বাংলাদেশ একাদশ:

মোহাম্মদ নাঈম, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান (উইকেটকিপার), শামীম হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শরীফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও তাসকিন আহমেদ।

জিম্বাবুয়ে একাদশ:

রায়ান বার্ল, সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), রেজিস চাকাভা, টেনডাই চাতারা, লুক জঙ্গুয়ে, ওয়েসলি মাধেভেরে, তাদিওয়ানশে মারুমানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, ব্লেসিং মুজারাবানি, ডিওন মায়ার্স, মিলটন শুম্বা।