পর্ব-২
[পূর্বে প্রকাশিতের পর]
স্বাধীনতা আন্দোলন করার পক্ষে বাষট্টিতে কমিউনিস্ট পার্টির কাছ থেকে আশানুরূপ সমর্থন বা আশ্বাস পেলেন না শেখ মুজিবুর রহমান। কেন্দ্রের সমর্থন না পাওয়ায় তারা তখনও বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং তার জন্য আন্দোলনে সমর্থন দিতে পারল না। শেখ মুজিবুর রহমান এতে বেশ ক্ষুব্ধ ও মনঃক্ষুণ্ণ হলেন। এমন একটা পরিস্থিতিতেই তিনি গেলেন তার পুরোনো বন্ধু মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরীর কাছে। মোয়াজ্জেম চৌধুরী এবং তাদের ইনার গ্রুপের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ আছে- এমন একটা বিশ্বাস ছিল তার। তাই মোয়াজ্জেম চৌধুরীকে বললেন, তোমরা তো বলো- ভারতের সঙ্গে তোমাদের যোগাযোগ আছে; আমাকে নিয়ে চলো, আমি নেহরুর সঙ্গে দেখা করতে চাই। মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরী সাক্ষাৎকারে আমাকে বলেছেন, তখন তিনি যোগাযোগ করেন। ঢাকা ক্লাবের সুইমিংপুলে সাঁতাররত অবস্থায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ হয়। সেখান থেকেই যোগাযোগটা শুরু হয়েছিল। সে পরিপ্রেক্ষিতেই শেখ মুজিবকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে ঢাকা থেকে সিলেট নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সিলেটের এক চা বাগান থেকে তারা একসঙ্গে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে ভারতের দিকের লোকজন প্রস্তুত ছিল। এ পর্যন্ত আমরা জানতে পারি মোয়াজ্জেম চৌধুরীর কাছ থেকে। এর বাইরে আরও দু'জন মানুষের সঙ্গে এ ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগতভাবে আলাপ হয়েছিল। একজন জাকির খান চৌধুরী, আরেকজন রেজা আলী। এরা মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরীর আত্মীয়। এরাই শেখ মুজিবকে সিলেট নিয়ে গিয়েছিলেন। একজন তেজগাঁও রেল স্টেশন পর্যন্ত, অন্যজন ট্রেনে সিলেট পর্যন্ত ছিলেন তার সঙ্গে।
নেহরুর সঙ্গে সে যাত্রায় দেখা হয়েছে কি হয়নি, এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে মোয়াজ্জেম চৌধুরীর কাছ থেকে জানা যায়, যাত্রাপথে আগরতলায় শেখ মুজিবকে এক দিন জেলে থাকতে হয়েছিল। আর ভারতযাত্রা যে খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি, এ ব্যাপারটা বোঝা যায় ফিরে আসার পর শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য থেকে। তিনি বলেছিলেন, 'ওরা আমার সাথে ভালো ব্যবহার করে নাই।' মোয়াজ্জেম চৌধুরীদের ওপরেও স্বাভাবিকভাবে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। মোয়াজ্জেম চৌধুরী অবশ্য বলেছেন, তিনি যোগাযোগের সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেখ মুজিব তাকে উত্তরে বলেছেন- 'ইন্ডিয়ানরা তোমাদেরকে সিরিয়াসলি নেয় না।' অর্থাৎ, এটা যে খুব সংগঠিত কোনো প্রচেষ্টা ছিল, তেমনটা মনে হয় না।
ভারত থেকে ফেরার পরপরই শেখ মুজিব গ্রেপ্তার হন। ১৯৬২ সালে এ ছাড়াও বিশেষ কিছু ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে একটি হচ্ছে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে নিয়ে ছাত্র অন্দোলন। সে আন্দোলনটা রাজপথের আন্দোলন।

১৯৬২ সালের পর শেখ মুজিবুর রহমান গোপন বা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি থেকে সরে গেছেন। তখন তিনি প্রক্রিয়ার রাজনীতিতেই বেশি মনোনিবেশ করেন। তখন আরও বেশি রাজপথের রাজনীতিতে চলে আসেন তিনি। বাষট্টি, তেষট্টি এবং তার পরবর্তী সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায় ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের যে রাজনীতি, যেটা মোয়াজ্জেম চৌধুরীরা করতে চেয়েছিলেন; সে রাজনীতি আর শেখ মুজিব করেননি। তিনি তখন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছেন। ধীরে ধীরে আন্দোলনের মাত্রা বাড়াচ্ছেন। এবং ভারত থেকে ফেরত আসার তিন বছরের মধ্যেই ছয় দফা নিয়ে হাজির হলেন। ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ অত্যন্ত অরক্ষিত। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টো বলছেন, পূর্ব পাকিস্তান যদি দখল হয়ে যায়, আমরা কাশ্মীর দখল করে ভারতকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পিছু হটতে বাধ্য করব। এসব ফালতু কথায় মানুষ আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছে। এ রকমই একটা পরিস্থিতিতে ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব ৬ দফা ঘোষণা করলেন। এই বাষট্টি থেকে ছেষট্টির মধ্যে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটা বিরাট পরিবর্তন সাধিত হয়। কিন্তু ৬ দফা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতারই চূড়ান্ত পর্যায়। অর্থাৎ এই ধারাবাহিকতার সবচেয়ে বড় আন্দোলন। এই ধারাবাহিকতা হচ্ছে ২১ দফার আন্দোলন, পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার ইশতেহার। এই ধারাবাহিকতার দিক থেকে দেখতে গেলে শেখ মুজিবের ১৯৬২ সালের কার্যক্রমকেই বরং ব্যতিক্রম মনে হয়। কারণ শেখ মুজিব এ ধরনের গোপন রাজনীতি কখনও করেননি। তিনি মোয়াজ্জেম আহমেদ চৌধুরীদের ইনার গ্রুপেরও সক্রিয় সদস্য ছিলেন না। তিনি সবার সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করেছেন, কিন্তু তার নিজের রাজনীতি হচ্ছে রাজপথের রাজনীতি। সে কারণে আমি মনে করি, বাষট্টি, তেষট্টির ঘটনাগুলো অর্থাৎ শেখ মুজিবের ভারতে যাওয়াটা দুটো জিনিস প্রমাণ করে। এক, শেখ মুজিব তার উদ্দেশ্য সফল করার জন্য কতদূর পর্যন্ত যেতে রাজি ছিলেন এবং দ্বিতীয় হচ্ছে, প্রয়োজনে সশস্ত্র আন্দোলনেও যেতে রাজি ছিলেন। তিনি এটাও মনে করেছিলেন যে, এ সমর্থনের জন্য ভারত এখনও প্রস্তুত নয়।
শেখ মুজিব ও কয়েকটি রাজনৈতিক বাস্তবতা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যিনি আওয়ামী লীগের প্রধান ছিলেন; উনিশশ বাষট্টির রাজনীতির সময়ে এসে তার অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে রাষ্ট্রবিরোধী কাজের অপরাধ দেখিয়ে বাষট্টির জানুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং করাচি সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ করা হয়। আগস্টে তিনি মুক্তি পান। এ সময়ে স্বাস্থ্যও তার ভেঙে পড়েছে এবং তখন মার্শাল ল বিরোধী যে রাজনীতি তৈরি হচ্ছে, তার সঙ্গেও তিনি খুব একটা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। এর প্রধান কারণ আমার মনে হয়- এক, তার পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি দীর্ঘদিনের মমত্ববোধ, আরেক হচ্ছে এই শারীরিক অবস্থা। স্বাস্থ্যগত কারণেই ১৯৬৩ সালে তিনি দেশের বাইরে চলে যান। তিনি লেবাননে ছিলেন এবং সেখানেই বৈরুতে তার মৃত্যু হয়।

রাজনৈতিক জগতে যিনি শেখ মুজিবের সবচেয়ে নিকটজন ছিলেন, যিনি তাকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলেন; সেই মানুষের চলে যাওয়াটা তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে খুবই কষ্টদায়ক ছিল। একই সঙ্গে এটাও স্মরণযোগ্য, যে রাজনীতি সোহরাওয়ার্দী করে আসছিলেন, অর্থাৎ পাকিস্তানকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার রাজনীতি; তার প্রতি শেখ মুজিবের আস্থা ততটা ছিল না। তার মানে এই নয়, পরের দিনই তিনি পাকিস্তান ভেঙে বের হয়ে আসবেন। এ প্রক্রিয়া মূলত দুটো আলাদা ভাবনা, আলাদা চিন্তা থেকে এসেছে। যদিও এ বিষয়টা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস চর্চায় কম আসে। কম আসে কারণ, এক দিক থেকে শেখ মুজিবের গুরু ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ১৯৫৭ সালে যখন কাগমারীতে আওয়ামী লীগ ভাঙে, তখন শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে ছিলেন। আমাদের রাজনীতির ইতিহাসে কেবল এ বিষয়গুলোকে অনেক বেশি ওপরে তুলে প্রকারান্তরে শেখ মুজিবকে কিছুটা হলেও আমরা সোহরাওয়ার্দীকরণের চেষ্টা করি। এটা বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন কারণে করে। এর ফলে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দীর বিশ্নেষণগুলো অনেকটা দুর্বল রয়ে গেছে। তাকে মহান প্রতিপন্ন করার একটা চেষ্টা তো থাকেই; পাশাপাশি তার সঙ্গে যে পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশের যে একটা মৌলিক দ্বন্দ্ব ছিল, সেটাকেই এড়িয়ে যাই। শেখ মুজিবের গুরু হিসেবে তাকে দেখি, কিন্তু স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখি না।
নিশ্চিতভাবেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতান্ত্রিক পাকিস্তান চেয়েছিলেন বা নিশ্চিতভাবে তিনি পাকিস্তানপন্থি ছিলেন। অন্যদিকে শেখ মুজিব পাকিস্তানপন্থি ছিলেন না। তার মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা অবশ্যই ছিল, কিন্তু নিজের দেশের ব্যাপারে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের তুলনা পাকিস্তানে নেই। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেখ মুজিব- এ দুটো আলাদা ঐতিহ্য মিলে এখানে একটা ফ্রন্টে পরিণত। অর্থাৎ এখন যেটা পাকিস্তান এবং এখন যেটা বাংলাদেশ; তার রাজনীতিবিদরা একসঙ্গে মিলিত হয়ে রাজনীতি করছেন, কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য ও ইতিহাস এক নয়। এই যে একটা মানুষ দেশের ভেতরে অর্থাৎ পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি হয়েও গণতান্ত্রিক পাকিস্তানের প্রতি আস্থাশীল; অন্যদিকে আরেকটা মানুষ প্রধান শত্রু-দেশ ভারতে গিয়েছেন আলোচনা করার জন্য; কীভাবে দেশ স্বাধীন করা যায়- এই যে দু'জনের মৌলিক পার্থক্য, এটা চিহ্নিত করে আমাদের বোঝার চেষ্টা করা উচিত।
তেষট্টিতে সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগে একটি মৌলিক পরিবর্তন হয়ে যায়। কারণ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু মানে আওয়ামী লীগের পাকিস্তানপন্থি রাজনীতিবিদ এবং পাকিস্তানপন্থি আওয়ামী লীগ সমর্থক যারা আছেন তাদেরও বিলুপ্ত বা ম্লান হয়ে যাওয়া। সে কারণে পাকিস্তান আওয়ামী লীগ বলতে যেটা ছিল; ১৯৬৩ সালের পরে তা আর কোনোদিন সবল হয়নি। আমি মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র নিয়ে কাজ করার সময় এ বিষয়টি অনেক খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছি; তেষট্টির পরে কোথাও পাকিস্তান আওয়ামী লীগকে আর তেমনভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শেখ মুজিব গোপালগঞ্জের লোক। তিনি কলকাতায় গেছেন লড়াই করতে; সেখান থেকে ঢাকায় এসে রাজনীতি করেছেন। তার পাকিস্তানের প্রতি কোনো ধরনের আস্থা কখনোই ছিল না। তার কাছাকাছি যেসব মানুষ ছিলেন, তাদেরও ছিল না। পাকিস্তানপন্থিই যদি হতো, তাহলে তারা সত্তরের নির্বাচনে ভোটই পেত না। সুতরাং সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর শেখ মুজিব এবং আওয়ামী লীগ মুক্ত হয়ে গিয়ে যে রাজনীতিটা আরও বেশি জোরদার করলেন, সেটি হচ্ছে স্বাধীনতার রাজনীতি। সেই ধারাবাহিকতায় ৬ দফা এলো। এই ৬ দফা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনীতির চূড়ান্ত পর্যায়, যাকে এক রকম স্বাধীনতার ঘোষণা বলা যায়। আমরা জানি না, এই ৬ দফাটা আসত কিনা, যদি সোহরাওয়ার্দী বেঁচে থাকতেন। কারণ তার ভাবনার সঙ্গে তো এই ভাবনা মেলে না। লাহোর প্রস্তাবের দুটো পাকিস্তানের প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়ে এক পাকিস্তানের প্রস্তাব তো হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীই এনেছিলেন। অতএব তার তো ৬ দফার মতো প্রস্তাবের প্রতি একমত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তার বিদায়টি খুব দুঃখজনক, কিন্তু রাজনৈতিক দিক থেকে এটি আওয়ামী লীগকে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যে আন্দোলন, সেটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সুবিধা করে দিয়েছে।
এখানে অন্য ব্যক্তিটি স্বাভাবিকভাবেই মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। মওলানা ভাসানী যখন ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ থেকে চলে গেলেন, তখন রাজনীতিটা কিন্তু পুরোপুরি সোহরাওয়ার্দীর দখলেই চলে গেল। অথচ মওলানা ভাসানীই ছিলেন দলের সবচেয়ে সবল নেতৃত্ব। কিন্তু তিনি দল থেকে বেরিয়ে যাদের সঙ্গে গেলেন, তারা প্রধানত বাম রাজনীতিবিদ। এবং বাম রাজনীতিবিদরা এত বেশি আন্তর্জাতিকভাবে নির্ভরশীল ছিলেন যে, দেশের জন্য কোনো আন্দোলন করতে হলেও তাদের বিদেশি কেন্দ্র থেকে অনুমতি নিতে হতো। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের এই কেন্দ্রগুলো সবল ছিল, এই অনুমতির রাজনীতি করতে করতে তাদের ঐতিহ্যটাই এমন দাঁড়িয়েছে, তারা কোনোদিন স্বাধীন রাজনীতি করেছেন কিনা, তা আর আমরা বলতে পারি না। কোনোদিনই পারেননি। অন্তত ১৯৭১ পর্যন্ত তো পারেনইনি। তেষট্টিতে সোহরাওয়ার্দী চলে গেলেন; মওলানা ভাসানীও নেই দলে- এ রকম একটা পর্যায়ে প্রকাশিত হওয়ার যে সুযোগটা পেলেন শেখ মুজিবুর রহমান; আমি মনে করি, তার মাধ্যমেই ধারাবাহিকভাবে যে স্বাধীনতার রাজনীতি, সেটি সবল হয়েছিল। সোহরাওয়ার্দী এবং ভাসানী এই দু'জন কিন্তু ১৯৫৮ থেকে '৬৩ পর্যন্ত পাকিস্তানবিরোধী কোনো রাজনীতি করেননি। একজন পাকিস্তানের গণতন্ত্রের জন্য, অন্যজন জনগণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বামপন্থি রাজনীতি করেছেন; কিন্তু পাকিস্তানবিরোধী রাজনীতি করেননি কখনোই। পাকিস্তানের সঙ্গে সহাবস্থানে থেকে এবং আইয়ুব খানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হলেও মওলানা ভাসানী চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করেছেন। ১৯৬১ সালে সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক শিবির বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর ব্যাপারটি আরও প্রকট আকার ধারণ করে। কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানীর অবস্থান আবার স্পষ্ট হয় তেষট্টি-চৌষট্টির দিক থেকে। চীনের প্রতিও তার আস্থা হয়তো কমে গিয়েছিল ততদিনে। এ রকমই একটা পরিস্থিতিতে শেখ মুজিব ছয় দফার মাধ্যমে স্বাধীনতার আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে দাঁড়ান।
[এই প্রসঙ্গ সমাপ্ত]