এক সেকেন্ডের একশ ভাগের এক ভাগ- ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই মুহূর্তের জন্য সাঁতার থেকে মন উঠে গিয়েছিল তার। পাঁচ বছর বয়সে সাঁতার শুরু, আট বছর বয়স থেকে প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারে। কিন্তু উনিশ বছর বয়সে যখন সেকেন্ডের ভগ্নাংশের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রিও অলিম্পিকে সুযোগ মেলেনি, তখন পুলের লড়াই ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তাতজানা স্কোনমেকার।

পাঁচ বছর পর সেই স্কোনমেকারই গতকাল টোকিও অলিম্পিকে ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের স্বর্ণ জিতলেন। শুধুই স্বর্ণ নয়, সঙ্গে গড়েছেন বিশ্বরেকর্ডও। এবারের অলিম্পিকে এটিই ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে প্রথম বিশ্বরেকর্ড। সেই সঙ্গে স্কোনমেকারের এই পদকটির মাধ্যমে পঁচিশ বছর পর প্রথম স্বর্ণের দেখা পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

মঙ্গলবার মেয়েদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে রৌপ্য জিতে দেশকে এবারের আসরের প্রথম পদক এনে দিয়েছিলেন স্কোনমেকার। তখনই আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে শুরু হয় তার বন্দনা। তবে ২৪ বছর বয়সী মেয়েটি যে আরও বড় কিছু জমিয়ে রেখেছেন, সেটি নিজেই ধারণা করেনটি।

শুক্রবার টোকিও অ্যাকুয়াটিক সেন্টারে নেমে ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে সাঁতার শেষ করেন সবার আগে। যখন টের পান যে সময় নিয়েছেন মোটে ২ মিনিট ১৮.৯৫ সেকেন্ড, যা বিশ্বরেকর্ড- তখন পুলেই কেঁদে ফেলেন স্কোনমেকার। অভিনন্দন জানাতে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন দ্বিতীয় ও তৃতীয় হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের লিলি কিং, অ্যানি ল্যাজোর এবং পঞ্চম হওয়া স্বদেশি কেইলিন করবেট।

এতদিন এই ইভেন্টে বিশ্বরেকর্ড ছিল ২০১৩ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ডেনমার্কেল রিকি মোলার পেডারসনের ২ মিনিট ১৯.১১ সেকেন্ড। রিও অলিম্পিকে বাছাই উতরাতে না পারা স্কোনমেকার পদক গলায় ঝুলিয়ে নিজের দুঃসহ সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন, 'এত কষ্ট পেয়েছিলাম, আবার যে খেলায় মনোযোগ দিতে পারব ভাবিনি।'