টোকিও অলিম্পিকে ইতিহাস গড়া চলছেই। সর্বশেষ মেয়েদের শুটিং ট্র্যাপে ব্রোঞ্জ জিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলেন আলেসান্দ্রো পেরেল্লি। এর মাধ্যমে অলিম্পিক ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষুদ্র দেশ দেশ হিসেবে পদক জয়ের কীর্তি গড়ল সান মারিনো।

ইউরোপের অতি ক্ষুদ্র একটি দেশ সান মারিনো।  দেশটির আয়তন মাত্র ২৪ বর্গ মাইল এবং জনসংখ্যা মাত্র ৩৩ হাজার ৫০০। তবে আয়তনে ক্ষুদ্র ও জনসংখ্যা কম হলেও সেই ১৯৬০ সাল থেকেই অলিম্পিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে দেশটি। তবে এতদিন তাদের পদক জেতার স্বাদ পাওয়া হয়নি।

মেয়েদের শুটিং ট্র্যাপে ব্রোঞ্জ জিতেছেন আলেসান্দ্রা পেরেল্লি। আবেগের ঢেউ তিনি সংবরণ করতে পারেননি। কেঁদে ফেলেন সবার সামনেই।

চোখ মুছতে মুছতে পেরেল্লি বলেন, তাঁর ‘দেশ ছোট হলেও গর্বিত’। অলিম্পিক পদক এনে দিলে দেশ তো গর্বিত হবেই, আর সেটিও যদি হয় দেশের ইতিহাসে প্রথম অলিম্পিক পদক, তাহলে তো কথাই নেই!

মোট ১৪টি অলিম্পিকে খালি হাতে ফেরার পর এবার টোকিও গেমস দিয়ে সান মারিনোকে পদকের খাতা খোলালেন পেরেল্লি, ‘ভীষণ গর্ব হচ্ছে। কারণ, আমরা সবাই চেষ্টা করে এ পর্যন্ত পৌঁছেছি।’

পেরেল্লি কথাটা বলার সময় আনন্দাশ্রু আটকাতে পারেননি। তাঁর জন্ম ইতালির রিমিনিতে হলেও ১৮ বছর বয়সে সান মারিনোর নাগরিকত্ব পান। টোকিও অলিম্পিকে আসার আগেই তিনি ছিলেন দেশটির সবচেয়ে সফল অলিম্পিয়ান, ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে নিজের ইভেন্টে চতুর্থ হন।

লন্ডনের সেই স্মৃতি স্মরণ করে পেরেল্লি বলেন, ‘লন্ডনে পদক পাওয়ার খুব কাছাকাছি গিয়েও বিজয়মঞ্চে উঠতে পারিনি। এখন পেরেছি। এটা আমার প্রথম অলিম্পিক না হলেও আমার এবং আমার দেশের জন্য প্রথম পদক। আমার দেশটা খুব ছোট হতে পারে, কিন্তু ভীষণ গর্বিত।’

বাবার প্রেরণায় ২০০১ সালে শুটিংয়ে আসেন পেরেল্লি। তাঁর বোন আরিয়ান্না পেরেল্লিও শুটার। ইতালি ও সান মারিনোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আজারবাইজানে ২০১৭ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ট্র্যাপে সোনা জিতেছেন। অলিম্পিক ওয়েবসাইটে পেরেল্লির প্রোফাইল দেখে বোঝা যায়, বোনকে তিনি আদর্শ মানেন।