সেই ১৯০০ সালে ওই একবারই অলিম্পিকে দেখা গেছে ক্রিকেট। প্যারিসে ফ্রান্সকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছিল ব্রিটেন। এরপর আর আর কখনোই খেলাধুলার বিশ্ব আসরে আর ক্রিকেট স্থান পায়নি। পাঁচ দিনের টেস্ট কিংবা একশ ওভারের ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কাছেও সেভাবে আবেদন করার সুযোগ হয়নি আইসিসির। তবে গত দশকের শেষ দিক থেকে টি২০ জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় ফের অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির কানাঘুষা চলে। 

কিন্তু প্রতিবারই তা গুঞ্জনেই থেমে থাকে, ধারণা করা হয় যে, ভারত এ ব্যাপারে খুব বেশি আগ্রহী না থাকায় বিষয়টি আর এগোয়নি। তবে এবারে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির কথা ভাবছে আইসিসি এবং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তি করার জন্য একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছে আইসিসি।

এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে ইসিবির চেয়ারম্যান ইয়ান হোয়াটমোর। এ ছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন আইসিসির স্বাধীন পরিচালক ইন্দ্রা নুয়ি, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের প্রধান তাবেঙ্গা মুকুলানি, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সহসভাপতি মাহিন্দ্রা ভালিপুরাম ও যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটের প্রধান পারাগ মারাঠে। 

এক বিবৃতিতে আইসিসির চেয়ারম্যান গ্রেগ বার্কলে বলেন, 'ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ হিসেবে অলিম্পিকে এই খেলাটি রাখতে চাই আমরা। বিশ্বজুড়ে একশ কোটির বেশি ক্রিকেট সমর্থক রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়াতেই প্রায় ৯২ শতাংশ সমর্থক আছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন কোটি। আশা করছি, অলিম্পিকে ক্রিকেট হবে দারুণ এক সংযুক্তি।' 

এবারের টোকিও অলিম্পিকে পাঁচটি নতুন খেলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালে পরের অলিম্পিকে প্যারিসে হয়তো ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নেই। কেননা অলিম্পিকে নতুন কোনো খেলা অন্তর্ভুক্তি করতে হলে প্রায় পাঁচ বছর আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হয় এবং এজন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির বৈশ্বিক সভায় ভোটাভুটিও হয়। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে না হলেও লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিককে। কেননা সেখানে ক্রিকেট মাঠসহ অন্যান্য অবকাঠামো রয়েছে। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসেও কোনো কারণে না হলে পরবর্তী ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকে ক্রিকেটের সম্ভাবনা প্রবল।