১৭ মাস পর ন্যু ক্যাম্প গ্যালারিতে ঢোকার সুযোগ এসেছে, তাও আবার ধারণক্ষমতার তিনভাগের এক ভাগ মাত্র টিকিট ছাড়া হয়েছে। কোথায় টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়বে, তা না হয়ে উল্টো দর্শক আগ্রহে ভাটা দেখছে বার্সেলোনা। স্প্যানিশ মিডিয়ার ধারণা, লিওনেল মেসি না থাকার তাৎক্ষণিক প্রভাব এটি। আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের ক্লাব ছেড়ে যাওয়াটা এখনও ঠিকমতো হজম করে উঠতে পারছেন না সমর্থকরা।

বার্সেলোনা তাদের লা লিগা ২০২১-২২ মৌসুমের প্রথম ম্যাচটি খেলতে নামবে আগামীকাল, রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ন্যু ক্যাম্পের ম্যাচটি দেখতে ২৯ হাজার ৮০৩ জন দর্শক গ্যালারিতে ঢোকানো যাবে। এক্ষেত্রে প্রথম সুযোগটি দেওয়া হয় ক্লাবের নিবন্ধিত দর্শক বা সাবস্ট্ক্রাইবারদের। নিয়মানুযায়ী আসন সংখ্যার বেশি মানুষ টিকিট বুকিং দিলে লটারি করে দর্শক বাছাই করা হয়। ৯৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ন্যু ক্যাম্পে তিন ভাগের এক ভাগ আসন থাকায় এবারও লটারি করতে হবে বলে ধরে নিয়েছিল বার্সা কর্তৃপক্ষ। বিশেষত দীর্ঘদিন পরে গ্যালারি খোলা হচ্ছে বলে। এই মাঠে সর্বশেষ দর্শক প্রবেশ করানো সম্ভব হয়েছিল ২০২০ সালের ৭ মার্চ, বার্সেলোনা-সোসিয়েদাদ ম্যাচে। এরপর করোনার কারণে প্রথমে খেলা বন্ধ এবং খেলা শুরুর পর গ্যালারি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৭ মাস পর আরেকটি বার্সেলোনা-সোসিয়েদাদ ম্যাচ দিয়ে নু ক্যাম্প গ্যালারি জীবন্ত হতে যাচ্ছে।

দর্শক আগ্রহ উত্তুঙ্গ থাকারই প্রত্যাশা ছিল সংশ্নিষ্টদের। কিন্তু ৮৩ হাজার ৫০০ সাবস্ক্রাইবার মধ্যে বার্সার ম্যাচটি দেখতে টিকিট বুকিং করেছেন মাত্র ১৫ হাজার ৮২০ জন। প্রায় অর্ধেক সংখ্যক টিকিটই গতকাল পর্যন্ত অবিক্রীত বলে জানিয়েছে স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক এএস। এর পেছনে কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে দৈনিকটি লিখেছে- 'মেসির বিদায়ের পর তার ও ক্লাব দর্শকরা যে মানসিক ধাক্কা খেয়েছেন, সেটিই খেলা দেখার অনাগ্রহে প্রধান কারণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।' তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। আর মৌসুম শুরুর মুহূর্তে সাবস্ক্রাইবাররা সাধারণত বেশি মাত্রায় আগ্রহী থাকেন না, যতটা লিগ টেবিল জমজমাট বা বড় প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে খেলার সময় ঘটে থাকে।

এদিকে মেসি-অধ্যায়কে পেছনে ফেলে ভবিষ্যৎমুখী হওয়ার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বার্সেলোনার টিম ম্যানেজমেন্ট। কোচ রোনাল্ড কোম্যান এক্ষেত্রে দার্শনিক দিকটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন সবাইকে, 'এটা সবাইকে বুঝতে হবে যে, সব খেলোয়াড়ের একটা শেষ আছে। এখন এই (মেসি) অধ্যায়ের সমাপ্তি টানা দরকার। ফোকাস দেওয়া দরকার নতুনদের দিকে। আমাদের নতুন কিছু খেলোয়াড় আছে। যাদের নিয়ে সামনে কীভাবে যাওয়া যায়, সেটাই ভাবতে হবে।' 

বার্সেলোনা মেসিবিহীন হয়েছে আচমকাই। গত ৫ আগস্ট বার্সা প্রেসিডেন্ট হুয়ান লাপোর্তা জানিয়ে দেন, লা লিগার আর্থিক বিধিমালা ও ক্লাবের বিপুল দেনার কারণে মেসিকে আর রাখা যাচ্ছে না। এর পাঁচ দিন পর মঙ্গলবার ফ্রান্সে গিয়ে পিএসজির সঙ্গে দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন মেসি। হুট করে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির ধাক্কা অনেকে সামলে না উঠলেও কোম্যানের পরামর্শ বাস্তবমুখী হওয়ার।