২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অভিষেক হয় ব্রুনো ফার্নান্দেজের। এর মাসখানেক পরই করোনাভাইরাসের দাপটে ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল গ্যালারি। প্রায় দেড় বছর পর গতকাল ভরে উঠেছিল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের গ্যালারি। ৭৩ হাজার দর্শক ছিল মাঠে। এত দিন পর ভরা গ্যালারি পেয়েই কিনা হ্যাটট্রিক করে বসলেন ম্যানইউর পর্তুগিজ তারকা ব্রুনো। তার নৈপুণ্যে লিডসকে ৫-১ গোলে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছে সোলশায়েরের দল। ম্যানইউ দাপটে লিগ শুরু করলেও প্রথম ম্যাচেই হেরে বসেছে আরেক জায়ান্ট আর্সেনাল। ৭৪ বছর পর ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফিরে আর্সেনালকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে ব্রেন্টফোর্ড।

ম্যানইউর পক্ষে এটা ব্রুনো ফার্নান্দেজের প্রথম হ্যাটট্রিক। বাকি দুটি গোল করেছেন ম্যাসন গ্রিনউড ও ফ্রেড। এই পাঁচ গোলের চারটিই এসেছে পল পগবার পাস থেকে। প্রিমিয়ার লিগের এক ম্যাচে চার অ্যাসিস্টের এটি সপ্তম ঘটনা। গতকাল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৩০ মিনিটের সময় পগবার পাস থেকে ম্যানইউকে প্রথম এগিয়ে দেন ব্রুনো। দ্বিতীয়ার্ধেই অবশ্য দূরপাল্লার দারুণ শটে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে এনেছিলেন লিডস ডিফেন্ডার লুক আইলিং। এই গোলটি যেন ম্যানইউর অহমে আঘাতে হানে। চার মিনিটের মধ্যেই পগবার পাস থেকে আবার ম্যানইউকে লিড এনে দেন গ্রিনউড। দুই মিনিট পর লিড ৩-১-এ নিয়ে যান ব্রুনো। ৬০ মিনিটে পগবার পাস ধরে দারুণ শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন পর্তুগিজ স্ট্রাইকার। আট মিনিট পর পগবার পাসেই লিডসের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকেন ফ্রেড।

ম্যানইউর এই গোলবন্যার পেছনের কারিগর ছিলেন পগবা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একের পর এক লিডসের গোলমুখে বল বাড়িয়ে গেছেন তিনি। তাই তো হ্যাটট্রিক হিরো ব্রুনোর কণ্ঠেও ছিল পগবা বন্দনা, 'অনেকেই পলের (পগবা) কোয়ালিটি নিয়ে কথা বলে। কিন্তু তার কোয়ালিটি আলোচনার ঊর্ধ্বে। সে কী করতে পারে, তা আমরা জানি। আজ সেটা মাঠে করে দেখিয়েছে সে। আমাদের দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পল।'

শুক্রবার রাতে লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে অঘটনের জন্ম দিয়েছে ব্রেন্টফোর্ড। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুমের পর এই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফিরেছে তারা। আর এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রেখেছে তারা আর্সেনালকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়ে। তাদের পক্ষে গোল দুটি করেন সের্গেই ক্যানিওস ও ক্রিস্টিয়ান নরগার্ড।