সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুরনো ডেরা রেড ডেভিলস তথা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রিয়াল, পিএসজি আর ম্যানসিটি সবগুলোকে টপকে দুই বছরের জন্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরা রীতিমতো এক নাটকীয় ঘটনা ৩৬ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকার ভক্তদের জন্য।

তিন বছর আগে রিয়াল ছেড়ে দেওয়া রোনালদোর আরও এক বছরের চুক্তি ছিল জুভেন্তাসের সঙ্গে। শেষ বছরটি তুরিনে থেকে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে নানান গুঞ্জন শোনা গেলেও কোনোটিই দৃঢ় ছিল না। তার দলবদলের আলোচনা রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি ঘুরে দু'দিন আগে ম্যানসিটিতে গিয়ে স্থির হয়। দীর্ঘদিন হ্যারি কেনের অপেক্ষায় থেকে বিফল হওয়া সিটি রোনালদোর এজেন্টের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি ও ১৫ মিলিয়ন ইউরো বেতনও চূড়ান্ত করে ফেলে। তবে পর্তুগিজ অধিনায়কের জন্য ট্রান্সফার ফি দিতে রাজি ছিল না পেপ গার্দিওলার দল।

এদিকে জুভেন্তাস তাকে বিনা ফিতে ছাড়বে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। ফি না দিতে রাজি না হওয়া ম্যানসিটি আর জুভেন্তাসের সঙ্গে যোগাযোগই করেনি। নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপটে চলে আসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ক্লাবের মালিকানায় থাকা গ্লেজার পরিবার কিংবদন্তি কোচ স্যার আলেপ ফার্গুসনকে রোনালদোর সঙ্গে আলাপ করতে বলে। এর পরই সাবেক গুরুর সঙ্গে রোনালদোর আলাপ এবং দ্রুতই কাগজপত্র তৈরি শুরু ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে।

অপরদিকে তুরিনে জুভেন্তাস সতীর্থদের কাছ থেকে বিদায় নেন রোনালদো, মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি জানান সিআর সেভেন তাকে ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। এর ঘণ্টা দুয়েক পরই রোনালদোকে কিনতে জুভেন্তাসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠায় ম্যানইউ। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমের মতে, ট্রান্সফার ফি হিসেবে ২৮ মিলিয়ন ইউরোর কথা বলেছে ইংলিশ ক্লাবটি। তবে ফি বা বেতন যেমনই হোক, রোনালদোর জন্য বড় সুখবর হচ্ছে ফিরছেন তিনি ক্লাবে, নিজ দেশের বাইরে প্রথম পা রেখেছিলেন যেখানে, রিয়ালে যাওয়ার আগে ছয়টি বছর কাটিয়ে গেছেন যে শহরে!

২০০৩ সালে প্রথম দফায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে ২০০৯ পর্যন্ত ইউনাইটেডের জার্সিতে ২৯২টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ১১৮টি গোল করেন। ম্যানইউ থেকে রোনালদো যোগ দিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে। সেখান থেকে জুভেন্টাস ঘুরে দীর্ঘ ১২ বছর পর ফের ইউনাইটেডে ফিরলেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা।