প্রতিপক্ষ নেপাল, প্রতিযোগিতাও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, বদলেছে শুধু ভেন্যু। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত টুর্নামেন্টে আবারও নেপালের মুখোমুখি বাংলাদেশ। মালের ন্যাশনাল ফুটবল স্টেডিয়ামে আজকের লড়াইটি বাংলাদেশের জন্য 'ডু অর ডাই' ম্যাচ। জিতলে টুর্নামেন্টের ফাইনালে, হারলে কিংবা ড্র করলে বিদায় নিশ্চিত হবে। নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের অঘোষিত 'সেমিফাইনাল' ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৫টায়। রাউন্ড রবিন লিগভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে রাত ১০টায় স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচটিও সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের জন্য বাঁচামরার।

তিন বছর আগের স্মৃতি ফিরে এসেছে পর্যটনের জন্য বিখ্যাত নগরী মালেতে। ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই নেপালের বিপক্ষে ড্র করলেই সেমিফাইনালে চলে যেতেন জামাল ভূঁইয়ারা। কিন্তু ২-০ গোলে হেরে ঘরের মাঠের টুর্নামেন্টে দর্শক বনে যান তপু বর্মণ-সাদ উদ্দিনরা। সেই একই অবস্থানে এবার দাঁড়িয়ে লাল-সবুজের দলটি। ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট পাওয়া নেপালের জন্য ফাইনালে ওঠার সমীকরণ মেলাতে হলে প্রয়োজন শুধুমাত্র ড্র। সমান ম্যাচে চার পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে যাওয়ার একটাই পথ, সেটা হলো জয়। নেপালকে হারালেই ২০০৫ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এ টুর্নামেন্টের শিরোপামঞ্চে পা রাখবে লাল-সবুজের দলটি। কিন্তু সর্বশেষ মালদ্বীপের কাছে যেভাবে হেরেছে অস্কার ব্রুজোনের দল, তাতে অনেকেই হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে হাল ছাড়ছেন না রাকিব-বিশ্বনাথরা। মালদ্বীপের কাছে হারের জন্য টানা ম্যাচ খেলার ক্লান্তিকে সামনে এনেছেন ফুটবলাররা। পাঁচ দিনের বিরতিতে সতেজ হয়েই হিমালয়ের দেশটির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর নেপাল বিশ্রাম পেয়েছে মাত্র দু'দিন। এই জায়গায় বাংলাদেশ এগিয়ে।

কিন্তু র‌্যাঙ্কিং এবং সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে নেপালের চেয়ে পিছিয়ে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৮৯ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ ২১ ধাপ পিছিয়ে নেপালের (১৬৮) চেয়ে। মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৩-৮ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক দেখায় নেপালের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ২৯ মার্চ কাঠমান্ডুতে তিন জাতি টুর্নামেন্টের ফাইনালে হিমালয়ের দেশটির কাছে ২-১ গোলে হেরেছিলেন জামালরা। সেই ম্যাচের কোচ ছিলেন জেমি ডে। মূলত ১৮ বছর পর ট্রফি জয়ের সুযোগ থাকলেও দল নিয়ে জেমি পরীক্ষা করানোয় নেপালে হেরেছিল বাংলাদেশ। শিরোপা জিততে না পারায় জেমির প্রতি ক্ষোভ জমতে শুরু করে। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ সাফ শুরুর দুই সপ্তাহে আগে ব্রিটিশ এ কোচকে অব্যাহতি দেয় বাফুফে। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ অস্কার ব্রুজোনের অধীনে সাফে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দারুণ সূচনার পর ভারতের সঙ্গে ড্রয়ে ফাইনালের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মালদ্বীপের কাছে পরাজয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেলেও এখন ফাইনালের ভাগ্য জামালদের হাতেই।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সাতবারের লড়াইয়ের প্রথম চার ম্যাচেই নেপালকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সর্বশেষ তিনবারের সাক্ষাতে হিমালয়ের দেশটির সঙ্গে পেরে ওঠেনি তারা। যে কারণে মনস্তাত্ত্বিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে ব্রুজোনের দল। তবে তিন বছর আগে কিংবা সাত মাস আগে কী হয়েছে, তা নিয়ে পড়ে থাকতে চান না বাংলাদেশ কোচ ব্রুজোন। নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার আশা তার।

গতকাল ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আত্মবিশ্বাসের সুরেই ফাইনাল খেলার প্রত্যয় ঝরেছে ব্রুজোনের কণ্ঠে, 'এখন আমরা এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি যেখানে ফাইনাল থেকে মাত্র এক পা দূরত্ব। বাংলাদেশের সবারই চাওয়া ফাইনালে খেলা। ছেলেরা এখন পর্যন্ত দারুণ কাজ করে এসেছে। আমাদের ফুটবলে যে উন্নতি হচ্ছে তা আগামীকাল (আজ) মাঠেই প্রমাণের সুযোগ। আমার দল পূর্ণশক্তি এবং উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে নামবে। আশা করি ফাইনালে খেলতে পারব।' কোচের মতো একই সুর অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ারও, 'মালদ্বীপ ম্যাচ আমরা ভুলে গেছি। এখন আমাদের সামনে ফাইনালের হাতছানি। সমীকরণও সহজ; জিতলেই ফাইনাল। তাই আমরা নেপালকে হারিয়ে ফাইনাল খেলতে চাই।'