৩৬ বছর বয়স যে শুধুই সংখ্যা। তা আবারও প্রমাণ করলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ইউরোপিয় অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দেখা পেলেন হ্যাটট্রিকের। পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর জয়ীর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে পর্তুগাল ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লুক্সেমবার্গকে।

'এ' গ্রুপে ইউরোপিয় অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পর্তুগাল ৬ ম্যাচে পঞ্চম জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। লুক্সেমবার্গ সমান ম্যাচে চতুর্থ হারে আগের ৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রইল।

স্তাদিও আলগ্রেভে মঙ্গলবার রাতে পেনাল্টি থেকে জোড়া গোলের পর শেষ দিকে আরেকটি গোল করেন রোনালদো। একটি করে গোল করেন ব্রুনো ফের্নান্দেস ও জোয়াও পালিনিয়া।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় পর্তুগাল। এর সুফল দলটি পায় প্রথম ১৭ মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে। অষ্টম মিনিটে রোনালদোর সফল স্পট কিকে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। সেবাস্তিন থিল স্বাগতিকদের বের্নার্দো সিলভাকে ফাউল করায় পেনাল্টি পেয়েছিল দলটি। দুই মিনিট পর আবার পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। এবার ডি-বক্সে রোনালদোকেই ফাউল করেন লুক্সেমবার্গ গোলরক্ষক এন্থনি মরিস। ফের পেনাল্টি থেকে বল জালে পাঠান রোনালদো। কিন্তু তিনি শট নেওয়ার আগেই পেপে ডি-বক্সে ঢুকে যাওয়ায় গোল দেননি রেফারি। আবারও শট নেন রোনালদো। ঠিক দিকেই ঝাঁপ দেন মরিস, কিন্তু বলের জালে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি। এরপর ১৭তম মিনিটে সিলভার থ্রু বল ধরে নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ফের্নান্দেস। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

বিরতির আগে ফের গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু এবার তার শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। এদিকে ৬৮তম মিনিটে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে রোনালদোর দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক কোনমতে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান মরিস। এর কিছুক্ষণ পরে অবশ্য ফের্নান্দেসের কর্নার থেকে চমৎকার হেডে জাল খুঁজে নেন জোয়াও পালিনিয়া। 

৮৭তম মিনিটে আর রোনালদোকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি লুক্সেমবার্গ। রুবেন নেভেসের দুর্দান্ত ক্রসে ছুটে গিয়ে চমৎকার হেডে জাল খুঁজে নেন পর্তুগাল অধিনায়ক। দেশের হয়ে তার দশম হ্যাটট্রিক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড গোলদাতার এটি ১১৫তম গোল।