টি২০ বিশ্বকাপের ছয় আসরে দুবার চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবারও তারা ফেভারিটের তকমা নিয়ে যোগ দিচ্ছে বিশ্বকাপ মঞ্চে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের পক্ষে বাজি ধরছেন ড্যারেন স্যামি। মোহাম্মদ আশরাফুলও উইন্ডিজকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখছেন। ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়াকে সেরা চারে রাখলেও ক্যারিবীয়রা এক নম্বর ফেভারিট টাইগার সাবেক অধিনায়কের কাছে। ২০২১ সালের টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও আশরাফুলের অভিমত জেনেছেন আলী সেকান্দার-

সমকাল: এই বিশ্বকাপে কোন কোন দলকে ফেভারিট মনে হচ্ছে?

আশরাফুল: এবারের ফেভারিট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সমকাল: কেন?

আশরাফুল: এই সংস্করণে ওদের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা খেলবে এবার। ক্রিস গেইল, পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল, ব্রাভোরা বিশ্বকাপ দলে। এই অভিজ্ঞ ও নতুনদের নিয়ে বিপজ্জনক দল তারা। হেটমেয়ার যে কোনো দলের জন্য হুমকি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় প্লাস পয়েন্ট ওরা দুবারের টি২০ বিশ্বকাপজয়ী।

সমকাল: ভারত, পাকিস্তানের সম্ভাবনা কেমন?

আশরাফুল: চারটি দলের কথা বললে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফেভারিট। তবে আমার কাছে এক নম্বর ফেভারিট হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সমকাল: অস্ট্রেলিয়া তো টি২০ বিশ্বকাপ জেতেনি। তারা কি এশিয়ার কন্ডিশনে ভালো করবে?

আশরাফুল: এটা ঠিক, টি২০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ওইরকম সাফল্য নেই। একবারই ফাইনাল খেলেছে। ওদের বেশিরভাগ খেলোয়াড় আইপিএল খেলায় এই কন্ডিশনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আমার কাছে কেন যেন মনে হয়, অস্ট্রেলিয়া এবার ভালো ক্রিকেট খেলবে। ওদের পাওয়ার হিটার আছে। দল হিসেবেও অভিজ্ঞ। সে কারণে মনে হয়, অস্ট্রেলিয়া ভালো করতে পারে। নিউজিল্যান্ডকেও হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। ওরা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে।

সমকাল: বাংলাদেশের সেরা টি২০ বিশ্বকাপ গেছে ২০০৭ সালে আপনার নেতৃত্বে। এবার কেমন যেতে পারে?

আশরাফুল: আমরা ছয়টি টি২০ বিশ্বকাপ খেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পেরেছি একবার। ২০০৭ সালের প্রথম আসরে ডমিনেট করে খেলেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সুপার এইটে উন্নীত হয়েছি। বাকি বিশ্বকাপে বড় কোনো দলের বিপক্ষে জয় নেই। এবার সুপার টুয়েলভে দুটি ম্যাচ জয়ের আশা করতে পারি। যদিও প্রথম ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এই সংস্করণে আফগানিস্তান সহজ প্রতিপক্ষ নয়। এর পরও আমরা আশাবাদী, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড উন্নীত হলে জিততে পারি। ধরে নিচ্ছি, এই দুটি ম্যাচ জিতব।

সমকাল: বাংলাদেশ দল হুমকি হতে পারে?

আশরাফুল: ব্যক্তিগত খেলোয়াড় দেখলে আমরা খুব ভালো দল। পারফরম্যান্স ও স্ট্যাট দেখলে অতটা বিপজ্জনক দল মনে হয় না। লিটনের নাম যেভাবে চিন্তা করি, সেভাবে খেললে বিপজ্জনক। সেভাবে না খেললে সাদামাটা দল।

সমকাল: আমিরাতে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। সে অভিজ্ঞতা থেকেও কি আশাবাদী হওয়া যায় না?

আশরাফুল: আশাবাদী না হওয়াই ভালো। তাতে চাপ কম থাকবে। আমরা ফাইনাল খেলেছি ওয়ানডে টুর্নামেন্টে। এবার খেলব টি২০ বিশ্বকাপ। পাওয়ার হিটিংটা খুব কম আমাদের দলে। যদিও ওমানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সোহান পাওয়ার হিটিং করেছে। কিন্তু ওদের বলের পেস ছিল ১২০ বা ১১৫ কিলোমিটার। সুপার টুয়েলভে প্রতিপক্ষ দলের বোলারদের পেস থাকবে ১৪০ কিলোমিটার। আমরা দেখেছি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল হলে সোহান, শামীম পাটোয়ারী কেমন খেলে। ওই জায়গায় অত আশাবাদী না হওয়াই ভালো। তাহলে ওদের ওপর চাপ কম থাকবে।

সমকাল: বাংলাদেশ দলের কেউ তারকা হতে পারেন এই বিশ্বকাপে?

আশরাফুল: বিশ্বকাপ বড় মঞ্চ, এখানে ভালো খেললে বিশ্বব্যাপী ফোকাস পাবে। আমার কাছে মনে হয়, আফিফ হোসেন ধ্রুব ভালো খেলছেন। ছোট ছোট ইনিংস খেলছেন। ওর একটা ভালো সম্ভাবনা আছে বিশ্বব্যাপী নাম করার। মুস্তাফিজ এরই মধ্যে পরিচিত। ও সুপারস্টার। শরিফুলের একটা সম্ভাবনা আছে। যেহেতু অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য। এই মঞ্চে ভালো করলে আলাদা একটা ফোকাস পাবে।

সমকাল: বাংলাদেশের বোলিং না ব্যাটিং বিভাগকে শক্তির জায়গা মনে করেন?

আশরাফুল: বোলারদের জন্য একটা বড় পরীক্ষা হবে। ওমানের 'এ' দল ১৫০ করা মানে অনেক কিছু। ওই জায়গায় বোলারদের জন্য একটা কঠিন পরীক্ষা হতে পারে। ব্যাটারদের জন্য তো পরীক্ষাই। বোলারদের জন্য বিরাট পরীক্ষা।

সমকাল: ওমান বা অন্য কোনো দল সারপ্রাইজ দিতে পাতে পারে?

আশরাফুল: আমার মনে হয় না, ওমান বড় কিছু করতে পারবে। আমরা অভিজ্ঞতা দিয়ে উতরে যাব। আফগানিস্তান একটু আলাদা। ওমান পারবে না। সাকিব, মুস্তাফিজের বলে খেলা কঠিন হবে। অভিজ্ঞতা দিয়েই বাংলাদেশের উতরে যাওয়া উচিত।