ভেতরে বারুদ ছিলই। বিস্ম্ফোরণের জন্য শুধু সলতের মধ্যে আগুন লাগাতে হতো। গতকাল পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে সে কাজটিই করলেন সমকালের প্রতিনিধি। প্রশ্ন শেষ করার আগেই দপ করে জ্বলে ওঠেন মাহমুদউল্লাহ। কথার বিস্ম্ফোরণ ঘটিয়ে সবাইকে উড়িয়ে দিতে চাইলেন টাইগার দলপতি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, মিডিয়ার ওপর রেগে থাকায় মাহমুদউল্লাহর ফেটে পড়া। বিষয়টি আসলে তেমন নয়। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর সমালোচকরা যেভাবে তোপ দাগিয়েছিলেন, তাদের উদ্দেশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিলেন মাহমুদউল্লাহ। কে না জানে, প্রথম ম্যাচে হারের পর টাইগারদের বড় সমালোচক ছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তার বেফাঁস কথায় দলের ভেতরে ক্ষোভ জমেছিল প্রবলভাবে। মাহমুদউল্লাহ পরোক্ষে বিসিবি সভাপতিকেই কড়া জবাব দিলেন।

বিশ্বকাপের আগে টানা তিন সিরিজে জয়ের ছন্দে ছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ মিশন সফল করতে ওমানে কন্ডিশনিং ক্যাম্পও করেছে তারা। তারাই কিনা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে। ব্যাটিং-বোলিং কোনো বিভাগেই সেরাটা খেলতে পারেনি সেদিন। হেরে যাওয়া দর্শক এবং মিডিয়ার চেয়েও বেশি প্রতিক্রিয়া দেখান বিসিবির কর্মকর্তারা। কেউ কেউ কটু কথা বলতেও ছাড়েননি। ক্রিকেটারদের দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বোর্ড কর্তাদের বলা সব কথাই পৌঁছে যায় মাহমুদউল্লাহদের কানে। দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে সাকিব আল হাসান সংবাদ সম্মেলনে এসে কাটাকাটা উত্তর দেন। গতকাল পাপুয়া নিউগিনিকে রেকর্ড ৮৪ রানে হারিয়ে মাহমুদউল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে এসে চোয়াল শক্ত করে ছিলেন। স্পর্শকাতর জায়গায় টোকা দিতেই আবেগে ফেটে পড়লেন টাইগার দলপতি, 'শক্ত হওয়াটাই মনে হয় স্বাভাবিক। আমরাও মানুষ, আমরাও ভুল করি। এই কারণে একেবারে ছোট করে ফেলা ঠিক নয়। আমরা সবাই দেশের সঙ্গে। আমরা যখন খেলি পুরো দেশ একসঙ্গে খেলি। এটা আমাদের মাথায় থাকে। আমাদের থেকে ফিলিংস কারও বেশি না। সমালোচনা অবশ্যই হবে, কারণ খারাপ খেলেছি। কিন্তু একেবারে ছোট করে ফেলা ঠিক না। এটা আমাদের সবারই খারাপ লেগেছে।'

অধিনায়ক সুযোগ করে দেওয়ায় একের পর এক এ বিষয়ে প্রশ্ন হলো। বিসিবি কর্মকর্তাদের কথায় খারাপ লেগেছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'সবার ব্যাপারেই খারাপ লেগেছে। অনেক প্রশ্ন এসেছে আমাদের স্ট্রাইক রেট নিয়ে। বিশেষ করে আমাদের তিনজন সিনিয়র ক্রিকেটারের স্ট্রাইক রেট নিয়ে। আমরা তো চেষ্টা করেছি। চেষ্টার বাইরে তো আমাদের কাছে কিছু নেই। এমন না যে, আমরা চেষ্টা করিনি। আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। হয়তো বা রেজাল্ট আমাদের পক্ষে আনতে পারিনি। সমালোচনা পাওয়া অবশ্যই আমাদের কাম্য, সমালোচনা হবেই। কিন্তু আরেকটু স্বাস্থ্যকর হলে সবার জন্যই ভালো।' পরের প্রশ্নেই মাহমুদউল্লাহ যোগ করেন, 'বাংলাদেশের জার্সিটা যখন গায়ে জড়াই আমাদেরও অনুভূতি দেশের জন্য থাকে। ব্যথা থাকে, কারও অনেক ধরনের ইনজুরি থাকে। আমরা ওগুলো নিয়েই খেলি। দিনের পর দিন ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে খেলি। ভেতরের খবর অনেকেই জানে না। তো আমার মনে হয়, এগুলো নিয়ে কমেন্ট করা ঠিক না।'

ক্ষোভ ও হতাশা ঝেড়ে দেওয়ার পর দলের পারফরম্যান্স নিয়েও উত্তর দেন মাহমুদউল্লাহ। সাকিবকে চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটের আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, 'আমি সব সময় ওকে চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার বলি। ওর মতো একজন ক্রিকেটারকে পাওয়া আমাদের সৌভাগ্য। ও বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনেক কিছু দিয়েছে। আরও অনেক দেবে।'