টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হারলো সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। শুরুতে ব্যাট করে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ৫৫ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ৪ উইকেট হারিয়ে ৮.২ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। এতে পোলার্ডদের ৬ উইকেটে হারালো ইংল্যান্ড।

ক্যারিবিয়দের মামুলি টার্গেটে ইংল্যান্ডের হয়ে ওপেন করতে নামেন জেসন রয় ও জস বাটলার। ম্যাচের চতুর্থ ওভারে রামপালের বলে গেইলের হাতে ধরা পড়েন জেসন রয়। ১ ছক্কায় ১০ বলে ১১ রান করে মাঠ ছাড়েন জেসন। পরের ওভারেই আকিল হোসেনের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হন জনি বেয়ারস্টো। ২ বাউন্ডারির সাহায্যে ৬ বলে ৯ রান করেন তিনি।

এত অল্প পুঁজি নিয়েও লড়াই করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ষষ্ঠ ওভারে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন মঈন আলি। ৪ বলে ৩ রান করে ক্রিজ ছাড়েন তিনি। দলীয় ৩৯ রানে আকিল হোসেনের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হন লিভিংস্টোন। ২ বলে ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন লিয়াম। এরপর মরগ্যান ও বাটলার মিলে ৮.২ ওভারে জয় নিশ্চিত করে।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বনিম্ন রান ৪৫। ২০১৯ সালে ক্যারিবিয়দের এই রানেই অলআউট করেছিল ইংল্যান্ড। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেমেই তেমন লজ্জা পেল গেইল-পোলার্ডরা। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছেন আদিল রশিদ, মইন আলি, টাইমাল মিলসরা। ইংলিশদের বোলিং তোপে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এটি টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবিয়দের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর।

টি-টোয়েন্টির নিজেদের সর্বনিম্ন রান টপকাতে পারলেও বিশ্বকাপে সেটি টপকাতে পারেনি কাইরন পোলার্ডের দল। এর আগে বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ছিলো ২০০৯ সালের আসরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০১ রানে অলআউট হওয়া। এই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একশ রানের নিচে অলআউট হলো দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। 

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই এভিন লুইসকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রিস ওকসের বলে ৬ রান করে মাঠ ছাড়েন ক্যারিবিয়ান ওপেনার। স্কোরকার্ডে ১ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন সিমন্স। ৭ বলে ৩ রান করে লিভিংস্টোনের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

মঈন আলীর পরের শিকার হন শিমরন হেটমায়ার। ৯ বলে ৯ রান করেন তিনি। গেইলের ব্যাটে বড় রানের আশা দেখলেও ১৩ রানেই প্যাভিলিয়নের পথে হাটা দিয়েছেন তিনি। মিলসের বলে মালানের তালুবন্দী হয়ে দলীয় ৩১ রানেই আউট গেইল। ৪ উইকেট হারিয়ে এখন চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ম্যাচের ৮ম ওভারে ব্র্যাভোর উইকেট তুলে নেন ক্রিস জর্ডান। ১ বাউন্ডারির সাহায্যে ৫ বলে ৫ রান করে বেয়ারস্টোর হাতে ধরা পড়েন ব্র্যাভো। পরের ওভারে মিলসের বলে বাটলারের হাতে ধরা পড়েন পুরান। ৯ বলে ১ রান করে আউট হন তিনি। 

এরপর এগারোতম ওভারের প্রথম বলেই রাসেলকে বোল্ড করেন আদিল রশিদ। ২ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেনি রাসেল। দলীয় ৪৯ রানে আদিল রশিদের বলে বেয়ারস্টোর তালুবন্দী হন পোলার্ড। ১৪ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। পোলার্ডকে আউট করার ঠিক পরের বলেই ওবেদ ম্যাকয়ের উইকেট তুলে নেন রশিদ। ১৫তম ওভারে সেই আদিল রশিদের বলে বোল্ড হন রামপাল। ৮ বলে ৩ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি। আকিল হোসেন ৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

আদিল রশিদ ২.২ ওভারে মাত্র ২ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট দখল করেন। দুটি করে উইকেট নেন মঈন আলী ও টাইমাল মিলস। ১টি করে উইকেট নেন ক্রিস জর্ডার ও ক্রিস ওকস।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ:

এভিন লুইস, লেন্ডল সিমনস, ক্রিস গেইল, শিমরন হেটমায়ার, নিকোলাস পুরান, কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল, ডোয়াইন ব্রাভো, আকিল হোসেন, ওবেদ ম্যাকয় ও রবি রামপল।

ইংল্যান্ড একাদশ:

জেসন রয়, জস বাটলার, ডেভিড মালান, জনি বেয়ারস্ট, লিয়াম লিভিংস্টোন, ইয়ন মরগ্যান, মইন আলী, ক্রিস ওকস, ক্রিস জর্ডান, আদিল রশিদ ও টাইমাল মিলস।