টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দেখাটা সুখকর হলো না বাংলাদেশের। বিশ্বকাপের মূলপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে হেরেছে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা। বাংলাদেশের দেয়া ১২৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৪.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে জয় পায় ইংল্যান্ড। এতে টানা দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় সাকিব- মাহমুদউল্লাহরা।

১২৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আক্রমণাত্মকভাবে শুরু করেন দুই ইংলিশ ওপেনার জস বাটলার ও জেসন রয়। প্রথমে সাকিবের ওভারে ৭ রান, মোস্তাফিজের ওভার থেকে ১১। ম্যাচের তৃতীয় ওভারেই বল হাতে আসেন সাকিব, ইনিংসের প্রথম ছয় মেরে তাকে স্বাগত জানান বাটলার। আগের ম্যাচে শুরুতে বল করা নাসুম আজ আসেন পঞ্চম ওভারে। নিজের ৫ম বলে সফল হন তিনি। নাসুম আহমেদ আউট করেন বাটলারকে। বিপজ্জনক এই ওপেনার বিদায় নেন ১৮ রান করে।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ডেভিড মালানকে সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান জেসন রয়। সেই সঙ্গে তুলে নেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। জয় পেতে যখন ইংল্যান্ড মাত্র ১৩ রান দূরে। তখন বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে শরিফুল ইসলাম পেলেন প্রথম উইকেট। তার শিকার ইংল্যান্ডের ওপেনার জেসন রয়। তার বিদায়ে ভাঙলো ৭৩ রানের জুটি। জেসন ৩৮ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে ৬১ রান করে নাসুম আহমেদকে ক্যাচ দেন।

এরপর জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন মালান এবং বেয়ারস্টো। ২৮ রানে মালান এবং ৪ রানে বেয়ারস্টোর অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নেন শরিফুল ও নাসুম।

এর আগে টস জেতার পর আবু ধাবির আজকের উইকেটকে ব্যাটিং উপযোগী বলে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নামার পর তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে। ব্যাটিং বিপর্যয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহে মাত্র ১২৪ রান। 

টস জিতে ব্যাট করতে এসে ভালো কিছুর আভাস দিয়েছিল লিটন দাস। মঈন আলীর ওভারের শেষ দুই বলে টানা চার মেরেছেন টাইগার এই ওপেনার। তাতে প্রথম ওভারেই উড়ন্ত সূচনা হয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না লিটন। পরের ওভারে ইংল্যান্ড স্পিনারের খেলা প্রথম বলেই আউট তিনি। ৮ বলে ৯ রান করে আবারো ব্যর্থ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। লিটন ফেরার পরের বলেই ওকসের ক্যাচ হয়ে ফেরেন নাঈম। ১৪ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ, নাঈম ৫ রান করেন ৭ বল খেলে।

দুই ওপেনারকে দ্রুত হারিয়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং প্রত্যাশা করা হচ্ছিল সাকিব আল হাসানের কাছ থেকে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। ৭ বল খেলে ৪ রানে আউট টাইগার অলরাউন্ডার। ক্রিস ওকসের বলে শর্ট ফাইনে আদিল রশিদের দুর্দান্ত ক্যাচ হন সাকিব।

চতুর্থ উইকেটে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৩৭ রানের জুটি গড়ার পর আউট হন মুশফিকুর রহিম। লিয়াম লিভিংস্টোনকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন মুশফিক। ৩০ বলে ২৯ করে আউট হন সাবেক অধিনায়ক। 

লিভিংস্টোনের বলে ঠিকঠাক সিঙ্গেল পূর্ণ করেন মাহমুদউল্লাহ। তবে টাইমাল মিলসের মিসফিল্ডে ডাবলস নেওয়ার জন্য আফিফকে অধিনায়ক। তার ডাকে দ্রুতই বেরিয়ে এসেছিলেন আফিফ। কিন্তু হুট করেই তাকে ফিরিয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ক্রিজে ফিরতে পারেননি আফিফ। ৬ বলে ৫ রান করে রান আউটে কাটা পড়েন তিনি। 

দলের এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে মাহমুদউল্লাহর কাছে অধিনায়কোচিত ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু আজ শুরু থেকেই ধুঁকেছেন তিনি, শেষ পর্যন্ত আর পারলেন না। পার্ট টাইমার লিভিংস্টোনের ওপর চড়াও হতে গিয়ে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ। সাজঘরে ফেরার আগে ২৪ বলে ১৯ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

দলীয় ৯৮ রানে সপ্তম উইকেট হারালো বাংলাদেশ। টাইমাল মিলসের বলে ক্রিস ওকসকে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন মেহেদী হাসান। মাত্র ১০ রান করেন তিনি। ১৯তম ওভারে আদিল রশিদের ওপর চড়াও হয়েছেন নাসুম আহমেদ। প্রথমে মেরেছেন ইনিংসের প্রথম ছয়। ২ বল পর মেরেছেন আরেকটি। শেষ বলে থার্ডম্যান দিয়ে মেরেছেন চার। এই ওভারে উঠেছে ১৭ রান। শেষ ওভারের পঞ্চম বলে কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ১৮ বলে ১৬ রান করেন সোহান। আর শেষ বলে শূন্যরানে বোল্ড হন মোস্তাফিজ। এদিকে শেষ পর্যন্ত খেলে মাত্র ৯ বলে ১৯ রানে নাসুম অপরাজিত থাকেন।

ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন তাইমাল মিলস। দুটি করে উইকেট নেন দুই স্পিনার মঈন আলি এবং লিয়াম লিভিংস্টোন। এছাড়া একটি উইকেট পেয়েছেন ক্রিস ওকস।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ দলে ছিল এক পরিবর্তন। পিঠের চোটে ছিটকে যাওয়া সাইফউদ্দিনের বদলি হিসেবে দলে ফেরেন পেসার শরিফুল ইসলাম। অন্যদিকে অপরিবর্তিত দল নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছে ইংল্যান্ড।

বাংলাদেশের একাদশ: 

মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নাঈম, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, নুরুল হাসান (উইকেট কিপার), আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান।

ইংল্যান্ডের একাদশ: 

ইয়ন মরগ্যান (অধিনায়ক), জেসন রয়, জশ বাটলার, ডেভিড মালান, জনি বেয়ারস্টো, লিয়াম লিভিংস্টোন, মঈন আলী, ক্রিস ওকস, ক্রিস জর্ডান, আদিল রশিদ, টাইমাল মিলস।