রাসেল ডমিঙ্গো এমনিতে খুব আমুদে মানুষ। কুশল জিজ্ঞেস করলে বলেন, আমি সবসময় ভালো থাকি। হাসিখুশি সে মানুষটিই হতাশায় মুষড়ে পড়েছেন। গতকাল কুশল জানতে চাওয়া হলে ম্লান মুখে বললেন, 'খুব হতাশ লাগছে। জেতা ম্যাচগুলো হারছি।' শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সত্যিই জেতা ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। এভাবে একের পর এক ম্যাচ হারায় ক্রিকেটারদের কোনো অনুশোচনা আছে কিনা জানা নেই; তবে কোচিং স্টাফ, ম্যানেজমেন্টের সদস্য, বিসিবি পরিচালক আর সমর্থকরা যে ভালো নেই, তা নিশ্চিত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে একই কথা, জেতা ম্যাচ কেন হারল বাংলাদেশ। আরব আমিরাতে বসবাসরত ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার নাগরিকরাও মাহমুদউল্লাহদের হার মেনে নিতে পারছেন না।

যে কোনো খেলায় খেলোয়াড়ের লক্ষ্য থাকে বিশ্বকাপে ভালো খেলা। বিশ্বকাপ জেতা দলের খেলোয়াড়দের আলাদা করে মনে রাখে মানুষ। ম্যারাডোনা কিংবদন্তি হয়েছেন '৮৬-এর বিশ্বকাপ জিতে। কপিল দেব বরণীয় বিশ্বকাপ জেতায়। মাহমুদউল্লাহদের কাছে কেউ বিশ্বকাপ চায় না। দল হিসেবে মোটামুটি ভালো খেললেই খুশি। সমর্থকদের সামান্য চাওয়া পূরণ করতে পারছেন না। ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে জেতায় খুশি তারা। সুপার টুয়েলভে তিন ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত করে ফেলেছে। বাকি দুই ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই বললে চলে। এবারও খালি হাতে ফেরার সম্ভাবনা বেশি। ডমিঙ্গোও আস্থা রাখতে পারছেন না পরের দুই ম্যাচ নিয়ে, 'বুঝতে পারছি না কী হবে। আসলে দুটি জেতা ম্যাচ হেরে যাওয়ায় আমি খুব হতাশ। এভাবে হারব কল্পনাও করতে পারিনি।'

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিং ভালো করার পর বাজে বোলিং, ফিল্ডিংয়ের কারণে হেরেছে। উইন্ডিজের ম্যাচ হার মেনে নেওয়ার মতো নয়। ৩০ বলে ৪৪ রান করতে হতো টাইগারদের। শেষ ওভারে লাগত ১৩ রান। সেই রানও করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহরা। নির্বাচক হাবিবুল বাশারের আক্ষেপটা এখানেই, 'দুটো ম্যাচে হার মেনে নিতে পারছি না। কালকের ম্যাচটা (উইন্ডিজের) জেতা উচিত ছিল। জিতলে আজ মুড থাকত অন্যরকম। এখন সবাই মনমরা। বাকি দিনগুলো অসহ্য যাবে। কোনো সন্দেহ নেই, উইন্ডিজ আমাদের থেকে বেটার দল। কিন্তু কাল সুযোগ এসেছিল জেতার। কাজে লাগানো উচিত ছিল। বিশ্বকাপে কেউ কোনো সুযোগ দেবে না। সুযোগ করে নিতে হবে। আমরা সেটা পারিনি।'

বিশ্বকাপের আগে থেকেই চাপে ছিল দল। রান না পাওয়ায় সমালোচিত হচ্ছিলেন ব্যাটাররা। টুর্নামেন্টের বাছাই রাউন্ডে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে পুরো দল সমালোচনার মুখে ভেঙে পড়ে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত খেলোয়াড়রা। যদিও টিম ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্য বলছেন অন্য কথা, 'আমি মনে করি না ক্রিকেটারদের চাপে পড়ার কিছু আছে। খেলোয়াড়রা সবাই জানে, তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে না। ম্যাচ হারলে কেউ মারবেও না। তাহলে চাপে কেন? আসলে নাসুম যেটা বলেছে ওটাই সত্যি, ওরা পারছে না। ওদের দিয়ে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়।'

মাহমুদউল্লাহরা ম্যাচ তো জিততে পারছেনই না, বরং পরিবেশ খারাপ করে ফেলেছেন মিডিয়ায় নানা কটূক্তি করে। বিসিবি পরিচালকরাও এখন ক্রিকেট নিয়ে কথা বলছেন না। নাঈমুর রহমান দুর্জয় তো বলেই ফেললেন, 'আমাদের এখানে না জড়ানোই ভালো। আপনারা যা দেখেছেন তাই লেখেন। আমরা কথা বললেই দোষ। তাই কিছু বলতে চাই না।' দুর্জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলেও আকরাম খান ফোনই ধরেন না। টুকরো টুকরো এই ঘটনাগুলোই বলে দেয়, বিশ্বকাপে ভালো নেই বাংলাদেশের ক্রিকেট। যদিও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ মনে করেন, বিশ্বকাপ থেকে এখনও অনেক কিছু পাওয়ার আছে। শেষ দুই ম্যাচের একটিও জিততে পারলে প্রাপ্তি যোগ হবে। ক্রিকেটাররা স্বস্তি নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন। যদিও বাস্তবতা ভিন্ন। বাংলাদেশের জন্য সামনের ম্যাচ দুটি আরও কঠিন হবে। সেরা চারে যেতে দক্ষিণ আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়া মরিয়া হয়ে খেলবে। মিরপুরে সিরিজ হারের প্রতিশোধস্পৃহাও কাজ করবে অসিদের মনে। পারিপার্শ্বিক এ চাপের সঙ্গে টাইগার শিবিরে যোগ হয়েছে ইনজুরির উৎপাত। পিঠের ব্যথা নিয়ে দেশে ফিরে যেতে হয়েছে অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনকে। চোটে পড়েছেন সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসান সোহান। তারা দু'জন পরের ম্যাচে না খেলতে পারলে বিষণ্ণতায় ছেয়ে যাবে রাসেল ডমিঙ্গোর মন।