পোশাকের রং কাছাকাছি হওয়ায় দল দুটিকে আলাদা করা যাচ্ছিল না। ভালো করে খেয়াল না করলে চেনা কষ্ট। দূরের দলটি পাকিস্তান, কাছেরটি বাংলাদেশ। একটি বিশ্বকাপের হট ফেভারিট, অন্যটি বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। চোখের ভ্রম কেটে যাওয়ার পর পারফরম্যান্সের দর্পণে প্রতিবিম্বিত হয় মুখ ও মুখোশের প্রতিচ্ছবি। চোখের সামনে ভেসে ওঠে একই ক্যানভাসে পূর্ণতা আর শূন্যতা আঁকা। পাকিস্তান তিন ম্যাচ খেলে দুই নম্বর গ্রুপের সেরা। আর এক নম্বর গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল বাংলাদেশ। গ্রুপ ভিন্ন হলেও বাবর আজমদের কাছ থেকে প্রেরণা নিয়ে আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের ফুল ফোটানো গেলে পয়েন্ট টেবিলের ঘরে বাংলাদেশকে শূন্য থাকতে হবে না। রাসেল ডমিঙ্গোর কথা সত্যি হলে মাহমুদউল্লাহরা আজ সামর্থ্যের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে খেলবেন জয়ের ফুল ফোটাতে।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারে। বাকি দুটি ম্যাচ থেকে কেবল প্রাপ্তি যোগ হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিততে পারলে এক ধরনের প্রাপ্তি। ভালো খেলে ম্যাচ হারলেও নেওয়ার মতো অনেক কিছুই থাকে। বাংলাদেশের ফোকাস এখন সেদিকে। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রাসেল ডমিঙ্গো সেটাই বোঝাতে চাইলেন, 'শ্রীলঙ্কা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট
খেলেও হেরেছি। বিশ্বকাপে আমাদের সুযোগ শেষ হয়ে গেছে। এখনও দুটি ম্যাচ বাকি আছে। কালকের (আজ) ম্যাচের জন্য আমরা প্রস্তুত। ছেলেরা উন্মুখ হয়ে আছে ভালো খেলতে।'
বিশ্বকাপের আগে টানা তিনটি সিরিজ ভালো খেলায় প্রত্যাশা আকাশ ছুঁয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে বিশ্বকাপেও ভালো কিছুর আশায় বুক বেঁধে ছিলেন সমর্থকরা। মাহমুদউল্লাহরাই প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেমিফাইনালে খেলে ইতিহাস গড়তে চেয়েছিলেন তারা। প্রত্যাশার বেলুন ফুটো হতে থাকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় স্কোর করেও জিততে না পারায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারলেও আশা ছিল, উইন্ডিজকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত রেসে থাকবে দল। টানা তিন ম্যাচ হারের পর সেমির আশা শেষ হয়ে যায়। সমালোচিত হতে থাকেন খেলোয়াড়রা। প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে দল। হোটেলের বায়োসিকিউর বাবলে নিজেদের একঘরে করে ফেলেন তারা। খেলোয়াড়দের চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন বোর্ড কর্মকর্তারা। কোচিং স্টাফও মিটিংয়ের পর মিটিং করে শেষ ম্যাচ দুটিতে হৃদয় দিয়ে খেলার আহ্বান জানান। গতকাল অনুশীলনে মুশফিকদের বেশ চনমনে দেখাচ্ছিল। অনুশীলনের সেই পুরোনো নিয়মে ফিরে গেলেন মুশফিক। সেন্টার উইকেটে একা একা ব্যাটিং প্র্যাকটিস করলেন। গা গরম শেষে ক্যাচিং ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ দিলেন সবাই। শেখ মেহেদী ক্যাচ ফেলাতে চিৎকার করে ওঠেন কোচ। যেন ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্যাচ পড়েছে। নৈরাশ্যের শেষেই তো আলোর রেখা থাকে। আজ আবুধাবিতে সেই আলোর খোঁজে নামবে বাংলাদেশ।
যদিও ছন্দে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ জেতা সহজ ব্যাপার নয়। শ্রীলঙ্কা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে তারা। টি২০ সংস্করণের সেরা দলগুলোর একটি দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের পেস বোলিং ইউনিট খুবই শক্তিশালী। এমন একটি দলের বিপক্ষে সেরা একাদশ খেলাতে পারছে না বাংলাদেশ। পেস বোলার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান স্কোয়াডে থাকলেও খেলতে পারবেন না। তলপেটের ব্যথাটা ভালোই ভোগাচ্ছে তাকে। ১৩ জনের দল নিয়ে খেলতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সাকিব ও সোহানের জায়গা পূরণ করবেন স্পিনার ও ব্যাটার দিয়ে। আবুধাবির পিচের কন্ডিশনের কারণে স্পিননির্ভর বোলিং লাইনআপ রাখা হতে পারে। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ আবার একাদশে ফিরছেন। কোচ জানান, বিশ্বকাপে অভিষেক হবে শামীম পাটোয়ারীর। নাঈম শেখের সঙ্গে ব্যাটিং ওপেন করতে পারেন সৌম্য সরকার। তবে তিন পেসার খেলালে সৌম্যর সুযোগ কমে যাবে। যদিও ডমিঙ্গো বলছেন, স্পিন দিয়ে কাবু করতে চান প্রোটিয়াদের। তার মতে, 'দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সঙ্গে আমি তিন বছর কাজ করেছি। স্পিন খেলা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তাদের। উইকেট থেকেও হয়তো স্পিনাররা কিছুটা সাহায্য পাবে। আশা করি, কালকের (আজ) ম্যাচে ভালো কিছু হবে।' প্রোটিয়াদের সঙ্গে খুব বেশি টি২০ খেলেনি বাংলাদেশ। ছয় ম্যাচ খেলে সবক'টিতেই হেরেছে। ২০০৭ সালের টি২০ বিশ্বকাপের সুপার এইটে প্রথম মুখোমুখি হয় এ দুই দল। ম্যাচটিতে ভালো খেলেছিলেন আশরাফুলরা। এ দুই দল শেষ টি২০ খেলেছে ২০১৭ সালে। দ্বিপক্ষীয় সে সিরিজে মোটেও একেবারেই ভালো খেলতে পারেননি মাহমুদউল্লাহরা। টাইগারদের সামনে এটাই সুযোগ, চাপহীন ক্রিকেট খেলে ম্যাচ জিতে নেওয়া। সাহস নিয়ে বুঝেশুনে খেললে জয় অসম্ভব নয়।