সেমিফাইনালের দৌঁড় থেকে  ছিটকে পড়ার দ্বারপ্রান্তে থাকলেও পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের হতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এমন লক্ষ্য নিয়েই আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামে টাইগাররা। কিন্তু টস হেরে ব্যাট করতে নেমেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন টাইগার ব্যাটাররা। প্রোটিয়া বোলারদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে মাত্র ৮৪ রানে হারিয়েছে সবকটি উইকেট।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নড়বড়ে নাঈম। চতুর্থ ওভারে রাবাদার বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে হেন্ডরিকসের তালুবন্দী হন তিনি। ১১ বলে ৯ রান তুলেন নাঈম। এর পরের বলেই সৌম্যকে হারালো বাংলাদেশ। রাবাদার আবেদনে শুরুতে আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওর্থ সাড়া দেননি। পরে বাভুমার রিভিওতে শূন্যরানেই এলবিডব্লিউতে ফিরলেন সৌম্য।

ষষ্ঠ ওভারে বল করতে এসে হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও ওভারের শেষ বলে মুশফিককে ফেরান রাবাদা। ৩ বল খেলে শূন্যরানে আউট হন মুশফিকুর রহিম। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে রাবাদার তোপে যেন দাঁড়াতেই পারলো না বাংলাদেশের ব্যাটাররা। প্রথম ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৮ রান বাংলাদেশের।

৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন বিপদে তখন দলের বিপদ আরো বাড়িয়ে দিলেন দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নর্টজের বাউন্সার তার গ্লাভস ছুঁয়ে ধরা পড়েছে মারক্রামের হাতে। আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দিলে রিভিও নেন অধিনায়ক। রিভিওতে সফল না হওয়ায় ৩ রানেই ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয়েছে মাহমুদউল্লাহকে। 

পরের ওভারের প্রথম বলে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন আফিফ হোসেন(০)। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে লিটন দাসি যা একটু হাল ধরেছিল। শামসির ছোবল থেকে সেও রক্ষা পেল না। এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার  আগে ৩৬ বলে ২৪ রান করেন লিটন। তার আউটে চাপ আরো বাড়লো বাংলাদেশের।

দলীয় ৬৪ রানে শামসির স্পিনে ক্যাচ আউট হলেন শামীম। যুব বিশ্বকাপজয়ী এই ক্রিকেটার বিশ্বকাপের অভিষেক স্মরণীয় করতে পারলেন না। ২০ বল খেলে কোন বাউন্ডারি না মেরে ১১ রানেই ফিরলেন মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে নাম কুড়ানো এই ক্রিকেটার।

পুরো দলের মধ্যে বলার মত টি-টোয়েন্টিসুলভ ব্যাটিং করেছেন মেহেদী হাসান। ইনিংসের একমাত্র ছক্কাও এসেছে তার ব্যাট থেকে। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে নর্টজের বলে ফিরলেন তিনি। ২৫ বলে ২ চার  ও এক ছক্কায় মেহেদীর ঝুলিতে ২৭ রান। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নামেন শরীফুল, তাকে খেলারই সুযোগ দেননি নাসুম। হিট উইকেটে আউট হয়ে শরীফুলকে রেখেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছয়টি ম্যাচ খেলে সবকটিতেই পরাজিত হয়েছে  বাংলাদেশ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরমাটে আফ্রিকান দেশটির বিপক্ষে জয়ের খরা কাটাতে ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো তেম্বা বাভুমার দলের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।

সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে ৫ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। এরপর ইংল্যান্ডের কাছে হারে ৮ উইকেটে। তবে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে জয়ের কাছে গিয়েও ৩ রানে হার।

যদিও গাণিতিকভাবে বাংলাদেশের শেষ চারে উঠার সুযোগ এখনও সম্ভব। তবে কার্যত বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পথে মাহমুদউল্লাহরা। বিশ্বকাপের দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। যেটি টাইগার শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা।

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে দু’টি করে জয় পেয়ে দারুণ ফর্মে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আবার ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এমন অবস্থায় এই গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে যাবার দৌঁড়ে টিকে থাকতে  বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের ম্যাচগুলোতে জিততে চাইবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরমেন্স আশানুরুপ নয়। এখন পর্যন্ত ১১৮ ম্যাচ খেলে ৪৩টি জিতেছে তারা। ৭৩ ম্যাচে হার ও দু’টি পরিত্যক্ত হয়েছে। 

এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বকাপে ৩০টি ম্যাচ খেলেছে এবং মাত্র সাতটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাছাই পর্বে একটি ম্যাচ জিতেছে তারা।

বাংলাদেশের একাদশে দুই পরিবর্তন। চোট পাওয়া সাকিবের জায়গায় বিশ্বকাপে অভিষেক হলো শামীম হোসেন পাটোয়ারির। আর মোস্তাফিজের জায়গায় ফিরেছেন স্পিনার নাসুম আহমেদ।

বাংলাদেশ একাদশ:

লিটন দাস, মোহাম্মদ নাঈম, শামীম হোসেন, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ।