৮ উইকেটে হারলো মাহমুদউল্লাহর বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দেয়া ৭৪ রানের লক্ষ্যে ৮ উইকেট ও ৮২ বল অক্ষত রেখেই জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। এতে বড় হার দিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ করল বাংলাদেশ। বাছাইপর্বে দুই ম্যাচ জেতার পর মূল পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে বিদায় নিল বাংলাদেশ।

৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো গতিতে শুরু করেন অজি দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার। তাদের তাণ্ডব দেখে সবাই ধরেই নিয়েছিল বাংলাদেশ হয়তো ১০ উইকেটে হারবে। কিন্তু সেই দুর্নাম থেকে দলকে রক্ষা করেন তাসকিন আহমেদ। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে অ্যারন ফিঞ্চকে বোল্ড করেন টাইগার এই পেসার। ২০ বলে ৪০ রান করেন ফিঞ্চ।

এরপর পাওয়ার প্লের শেষ বলে ডেভিড ওয়ার্নারের স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন শরীফুল। ১৪ বলে ১৮ রান করে বিদায় নেন ওয়ার্নার। প্রথম ছয় ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দুই উইকেটে ৬৭। শেষদিকে তাসকিন আহমেদকে ছক্কা হাঁকিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ জেতালেন মিচেল মার্শ। বাংলাদেশের ৭৩ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেটের বিনিময়ে ৭৮ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায়। ২ চার ও এক ছক্কায় ৫ বলে ১৬ রানে অপরাজিত মার্শ। কোন বল খেলার সুযোগ হয়নি ম্যাক্সওয়েলের।

এর আগে দুবাইয়ে ফের হতশ্রী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখালো বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ৫ ওভার বাকি থাকতেই সবকটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ থামলো মাত্র ৭৩ রানে। টাইগারদের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন শামীম পাটোয়ারী। অজিদের পক্ষে অ্যাডাম জ্যাম্পা ১৯ রানে নেন ৫ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান। এর আগে এই ফর‌ম্যাটে সর্বনিম্ন রান ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭০ রান।

টস হেরে বাংলাদেশের হয়ে বাংলাদেশের হয়ে ওপেন করতে নামেন নাঈম ও লিটন। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল নেন নাঈম। পরের বলেই লিটনের স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন স্টার্ক। ১ বলে খেলে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরতে হয় বাংলাদেশ ওপেনারকে। দ্বিতীয় ওভারে হ্যাজেলউডের শেষ বলে বোল্ড হন সৌম্য সরকার। ১ বাউন্ডারির সাহায্যে ৮ বলে ৫ রান করেন তিনি। দলীয় ১০ রানে মুশফিক হারায় বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে ম্যাক্সওয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হন মুশফিক। ২ বলে ১ রান করে আউট হন তিনি।

ষষ্ঠ ওভারে হ্যাজেলউডের বলে কামিন্সের হাতে ধরা পড়েন নাঈম। ৩ বাউন্ডারির সাহায্যে ১৬ বলে ১৭ রান করে আউট হন টাইগার এই ওপেনার। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩৩/৪।

ম্যাচের সপ্তম ওভারে বল হাতে আসেন অ্যাডাম জাম্পা। তার ঘূর্ণিতে প্রথম বলেই পরাস্থ হন আফিফ। ৪ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই আফিফ ধরা পড়েন ফিঞ্চের হাতে।

৩৩ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেছিলেন শামীম পাটোয়ারী ও মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু শামীমের বিদায়ে সেই জুটি বেশিক্ষণ টেকেনি। দলীয় ৬২ রানে অ্যাডাম জ্যাম্পার বলে কাট করতে যেয়ে ক্যাচ আউট হন ১৮ বলে ১৯ রান করা শামীম। এর পরের বলেই নতুন ব্যাটসম্যান মেহেদীকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে জড়ান জাম্পা। ১ বল খেলে খাতা খোলার আগেই মাঠ ছাড়তে হয় মেহেদীকে। 

পুরো বিশ্বকাপের মত শেষ ম্যাচেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ১৩তম ওভারে স্টার্কের বলে ওয়েডের তালুবন্দী হয়ে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। ২ বাউন্ডারির সাহায্যে ১৮ বলে ১৬ রান করেন তিনি। ১৫তম ওভারের চতুর্থ বলে জাম্পার বলে স্মিথের হাতে ধরা পড়েন মোস্তাফিজুর। ৯ বলে ৪ রান করে আউট হন তিনি। এরপর শরীফুল ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ৭৩ রানে গুটিয়ে দিলেন অ্যাডাম জ্যাম্পা। ১৯ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন এ লেগস্পিনার।

চার ম্যাচ খেলে সবকটিতেই হেরে ইতোমধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সুপার টুয়েলভের গ্রুপ ওয়ানে এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচ খেলে দুটিতে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। তাই সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য জয়ের বিকল্প নেই ফিঞ্চ-ওয়ার্নারদের।

টি-টোয়েন্টির ক্ষুদ্র এই ফরম্যাটে এর আগে ৯ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলো বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। ৫ ম্যাচে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া আর চার ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশ একাদশে আছে এক পরিবর্তন। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের জায়গায় একাদশে ফিরেছেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। এক পরিবর্তন আছে অস্ট্রেলিয়া একাদশেও। অ্যাশটন অ্যাগারের জায়গায় ফেরানো হয়েছে মিচেল মার্শকে।

বাংলাদেশ একাদশ:

লিটন দাস, মোহাম্মদ নাঈম, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, শামীম হোসেন, মেহেদী হাসান, শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান 

অস্ট্রেলিয়া একাদশ:

অ্যারন ফিঞ্চ (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, ম্যাথু ওয়েড, মিচেল মার্শ, অ্যাডাম জাম্পা, জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স।