বাংলাদেশ দলে সুযোগ পাওয়া রেজাউর রহমান রাজার ক্রিকেটের হাতেখড়ি হয় টেপ টেনিস বলেই। ছোটবেলা থেকেই এই টেপ টেনিস বলে এলাকার অলিগলি দাপিয়ে বেড়াতেন। পাড়ার টেপ টেনিস টুর্নামেন্টে ভালো করায় বিশেষ খ্যাতি ছিল তার। বড় ভাইদের পরামর্শেই মূল ধারায় আসার চেষ্টা চালান। ছয় ভাই-বোনের বড় সংসারে রাজাকে ক্রিকেট তীর্থে আসার মিশনে সমর্থন যুগিয়েছিলেন মা।

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কুরুয়া গ্রামে ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি রাজার জন্ম। টেপ টেনিস ক্রিকেটের আঙিনা ছাড়িয়ে এখন ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনায় অভিষেকের অপেক্ষায় রাজা।

সিলেট, ঢাকার বিভিন্ন একাডেমিতে বোলিং করে নেট বোলার হয়ে রাজা আসেন মিরপুর স্টেডিয়ামে। গতি, বাউন্সের কারণে নজর কাড়েন বিসিবির পেস বোলিং কোচ চম্পকা রমানায়েকের। ২০১৯ সালের এপ্রিলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে লিস্ট-এ ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। একই বছর অক্টোবরে এবাদত-খালেদ-রাহীদের অনুপস্থিতিতে সিলেট বিভাগীয় দলের হয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগ তথা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাম লেখান রাজা।

গত বছর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর হয়ে অভিষেক হয় রাজার। এই টুর্নামেন্টের পরই বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ক্যাম্পেও ডাক পান। তাতেই ক্রিকেটে রাজার স্বপ্ন আলোর দেখা পেয়ে যায়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০ ম্যাচে ৩৩ উইকেট, টি-টোয়েন্টিতে ১৬ ম্যাচে ১৫ উইকেট ও লিস্ট-এ ম্যাচে ৩ ম্যাচে ৬ উইকেট রয়েছে ২২ বছর বয়সী এ পেসারের।

সব মিলিয়ে টেস্টের অভিজাত আঙিনায় পা দেওয়ার প্রথম ধাপটা ঠিকই পার করে ফেলেন এই পেসার। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। ২২ বছর বয়সী এই পেসার বলেছেন, 'আসলে টেপ টেনিস ক্রিকেট থেকেই অনুপ্রাণিত হওয়া। এলাকায় টেপ টেনিস খেলার পর একটা ক্রিকেট বলের টুর্নামেন্ট হয়েছিল। সেখানে খেলতে যাই। তখন বড় ভাইরা বোলিং দেখে বলছিলেন, 'তোর বোলিং ভালো হচ্ছে, তুই চাইলে স্টেডিয়ামে গিয়ে ক্রিকেট প্র্যাকটিস করতে পারিস। তো আমি বড় ভাইদের কথা শুনে প্র্যাকটিসে গেলাম। প্র্যাকটিসে গিয়ে আমার মনে হলো ইনশাআল্লাহ আমি পারবো। তো এভাবেই আসলে আমার ক্রিকেটে আসা।'

রাজার ভাষ্যে, ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করে যাওয়ার সামর্থ্যই তার শক্তি। তিনি বলেন, 'আমার নিজের যেটা মনে হয়, আমি এক জায়গায় টানা বল করতে পারি। বলে কিছু মুভমেন্ট করাতে পারি, এক ছন্দে টানা বল করতে পারি। দিনের শুরুতে যে গতিতে বোলিং করি, দিনের শেষে আলহামদুলিল্লাহ তারচেয়ে একটু বেশি পেসেই বল করতে পারি।'