১৯৫৬ সালে বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব ব্যালন ডি'অর চালু হওয়ার পর থেকে এবার সপ্তমবারের মত এই পুরস্কার জয় করে রেকর্ড গড়েছেন পিএসজি তারকা লিওনেল মেসি। সোমবার দিবাগত রাতে প্যারিসের আলো ঝলমলে থিয়েটার ডু চ্যাটেলেটের অডিটোরিয়ামে মেসির হাতে তুলে দেয়া হয় এই পুরস্কার। এতে ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যালন ডি'অর অর্জনের রেকর্ডে নিজেকে ছাড়িয়ে যান মেসি। একই সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে গেছেন আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি।

ট্রফি হাতে তুলে নিয়ে মেসি বলেন, 'আবারও ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি'অর জিতে আমি সত্যিই গর্বিত। সপ্তমবারের মতো এটি জিততে পারাটা অবিশ্বাস্য।' 

এরপরে তিনি নিজের পরিবারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন 'ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার পরিবার, বন্ধুদের এবং যারা আমাকে অনুসরণ করে, সবসময় আমাকে সমর্থন করে। তাদেরকে ছাড়া আমি এটি অর্জন করতে পারতাম না।'

করোনা মহামারির প্রভাবে গত বছর ব্যালন ডি'অর দেওয়া হয়নি। গত বছর এই পুরষ্কার জয়ের বড় দাবিদার ছিলেন ২০২০ সালের ফিফা বর্ষসেরা হওয়া রবার্ট লেভান্ডোভস্কি। মেসি আশা করেন একদিন ব্যালন ডি'অর উঠবে লেভান্ডোভস্কির হাতে। 

মেসি বলেন, 'রবার্ট, ব্যালন ডি'অর তোমার প্রাপ্য। গত বছর সবাই তোমার এই পুরস্কার জয়ের ব্যাপারে একমত ছিল। আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া একটি সম্মানের, এবং সবাই বলবে যে আপনি গত বছর এটি জয়ের যোগ্য।

২০০৯ সালে প্রথম বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন মেসি। ফিফার বর্ষসেরা ও ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর ব্যালন ডি'অর পুরস্কার শুরুতে আলাদাভাবে দেওয়া হতো। সেবছর দুটিই জিতেছিলেন তিনি। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছর দুটি পুরস্কার একীভূত হয়ে নাম হয় ফিফা ব্যালন ডি'অর। পরপর তিন বছর ওই পুরস্কার জিতেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এর পরের দুই বছর রোনালদো জেতার পর ২০১৫ সালে আবারও পুরস্কারটি জিতে নেন মেসি, জিতেন ওই সময়ের রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো।

২০১৬ সাল থেকে আবার আলাদাভাবে দেওয়া হচ্ছে পুরস্কার দুটি। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ফিফা বর্ষসেরা ও ব্যালন ডি'অর জিতেন রোনালদো। আর ২০১৮ সালে সবকটি পুরস্কার জিতেন লুকা মাদ্রিচ। ২০১৯ সালে ষষ্ঠবারের মত ব্যালন ডি'অর জিতে সবাইকে ছাড়িয়ে যান মেসি। এবার সপ্তমবারের মত এই পুরস্কার জয় করে নিজেকে ছাড়িয়ে যান আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি।

আগের প্রতিবারই এই স্বীকৃতি তিনি পেয়েছেন বার্সেলোনায় থাকাকালীন। এবারে তিনি যখন এই পুরস্কার জিতলেন তখন তিনি পিএসজির ফুটবলার। তবু এদিনের পুরস্কার জিতে বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনাকে তিনি ভুললেন না। মেসি বললেন, 'আমি জানি না আমার কত বছর বাকি রয়েছে। তবে আমি আরও অনেক আশা করি। আমি বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনায় আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।'