ধৈর্যের খেলায় অধৈর্যের প্রতিচ্ছবি। মেরে খেলতে গিয়ে একের পর এক উইকেট হারাল দল। মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্ত উইকেটে গিয়েই মারতে গেলেন। আউট হতে হতেও ক্ষণিক সময়ের জন্য বেঁচে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি কারওই। কেন মারতে যাওয়া- এ নিয়ে প্রশ্ন হলো বিস্তর। ডিফেন্স করার সামর্থ্যের ঘাটতি কিনা জানতে চাওয়া হলে মেনে নেননি দলের প্রতিনিধি হয়ে জুম সংবাদ সম্মেলনে আসা শান্ত। প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা হলেও শান্ত থেকেই একের পর এক উত্তর দিলেন। মাঠের বাইরের এই ধৈর্যটা ২২ গজে দেখাতে পারলে কতই না ভালো হতো।

বাংলাদেশ দলের ব্যাটারদের মন খুব ভালোভাবে পড়ে নিয়েছিলেন বাবর আজমরা। তারা বুঝে গিয়েছিলেন, স্পিন দিয়েই কুপোকাত করতে হবে মুমিনুলদের। সেভাবে বোলিং করালেন স্পিন দিয়েই। শাহিন শাহ আফ্রিদিরা গা গরম করে প্রস্তুত হলেও বোলিং পেলেন মাত্র এক ওভার। চৌকস বাবর সাজিদ খানের সঙ্গে নোমান আলিকে দিয়ে টানা বল করালেন। একদিক থেকে নোমান চাপ তৈরি করে গেলে অন্য প্রান্তে সাজিদ উইকেট পেতে থাকেন। মৌমাছির মতো ব্যাটারকে ঘিরে থাকলেন ফিল্ডাররা। ছোঁয়া দূরত্বে দাঁড়ানো ফিল্ডাররা শিকার ধরতে মুহূর্তের জন্য মনোসংযোগ হারাননি। চাপটা নিতে পারেননি ব্যাটাররা। ব্যাটের কানায় লেগে বেশিরভাগ ব্যাটার ক্যাচ হলেন। মাঝ ব্যাটে শট খেলতে দেখা গেল সামান্যই। বল বের করার ফাঁক না পাওয়ায় বোলারদের ওপর চড়াও হতে গেলেন কেউ কেউ। উইকেট পড়ল মুড়ি-মুরকির মতো। 

ব্যাটারদের এভাবে আগ্রাসী হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে শান্ত বলেন, 'সবাই আগ্রাসী থাকার কারণ এটাই ছিল যে, উইকেট সহজ ছিল না ব্যাটিংয়ের জন্য। রান করাটাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখানে যে যত বেশি রক্ষণাত্মক মানসিকতায় থাকবে, আউট হওয়ার শঙ্কাও তত বেশি থাকবে। আমার মনে হয়, এজন্যই ব্যাটাররা যে যে জায়গায় শক্তিশালী, সেই শট খেলার চেষ্টা করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু যে উইকেট ছিল ও যে রকম বল হচ্ছিল, তাতে করে রক্ষণাত্মক থাকলে সমস্যা আরও বেশি হতো। কারণ রানটাও গুরুত্বপূর্ণ।'

পাকিস্তান ৪ উইকেটে ৩০০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। জবাব দিতে নেমে ৭ উইকেটে ৭৬ রানে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। ফলোঅন এড়াতে আজ আরও ২৫ রান করতে হবে শেষ ৩ উইকেটে। নতুন সকালে সাকিব-তাইজুলের ব্যাটে ফলোঅন এড়ানো সম্ভব হলেও পরজয়ের শঙ্কা তাড়িয়ে বেড়াবে মুমিনুলদের। যদিও শান্ত মনে করেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ভিন্ন ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ, 'বাস্তবায়ন এক দিন হবে, আরেক দিন হবে না। যত বেশি হবে, সাফল্যের পরিমাণ তত বেশি থাকবে। আজ (গতকাল) হয়নি, পরের ইনিংস সুযোগ এলে হয়তো হবে। তবে ব্যাপারটি এমন নয় যে, আমরা পারি না বা এর আগে করিনি। আজকের (গতকাল) দিনটি খারাপ করেছি মানে এই নয় যে, আমাদের সামর্থ্য এটুকু। আমরা এর চেয়েও ভালো ব্যাটিং ও বড় বড় রান করে এসেছি।' গত চার দিনে সাড়ে সাত সেশনই খেলা হয়নি। যে সাড়ে তিন সেশন খেলা হলো তাতেই পরাজয়ের শঙ্কা উঁকি দিচ্ছে। কেবল দ্বিতীয় ইনিংসে জমাট ব্যাটিং বাঁচাতে পারে স্বাগতিকদের।