বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৫ রানে অলআউট করে ঢাকা টেস্টে ইনিংস ও ৮ রানের জয় তুলে নিল পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টির পর টেস্ট সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হল বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের করা প্রথম ইনিংসে ৩০০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। পঞ্চম দিনের শুরুতে দলীয় স্কোরবোর্ডে ১১ রান যোগ করতে সমাপ্তি ঘটে টাইগারদের ইনিংসের। এতে ফলোঅনে পড়ে মুমিনুলের দল।

২১৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে আরও একবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। বরাবরের মত শুরুতেই হতাশ করলেন দুই ওপেনার ব্যাটসম্যান। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে হাসান আলীর বলে বোল্ড হন মাহমুদুল জয়।  ৬ বলে ৬ রান করা মাহমুদুল প্রথম ইনিংসে ০ রানে আউট হন। এরপর সাদমানও বেশিক্ষণ থাকতে চাইলেন না। আফ্রিদির ডেলিভারীতে পরাস্ত হয়ে এলবিডব্লিউ হন বাঁহাতি ওপেনার। ১২ রানেই সাজঘরে বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

দুই উইকেট হারানোর পর দায়িত্ব নিতে পারেননি অধিনায়ক মুমিনুল। পুরো সিরিজেই ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ টাইগার অধিনায়ক। হাসান আলীর বলে এলবির শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ৭ রানেই মাঠ ছাড়েন তিনি। মুমিনুল রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারলেন না। ড্রেসিংরুমে ফিরতে খুব তাড়া বাংলাদেশের ব্যাটারদের। সহজ ক্যাচে ১১ বল খেলে ৬ রান করে মাঠ ছেড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তও।

৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দল যখন খাদের কিনারায় তখন মুশফিক-লিটনে একটু স্বস্তি পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৭৩ রানের জুটি গড়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলেন লিটন। হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতেই সাজিদের বলে ফাওয়াদকে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। ৮১ বলে ৭ চারে সাজানো ছিল তার ৪৫ রানের ইনিংস। এতে দলীয় রান ১০০ ছোঁয়ার আগে পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে আশা দেখাচ্ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। কিন্তু চা বিরতির ঠিক আগে ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রান আউটের শিকার হন মুশফিক। বেশ কয়েকবার টিভি রিপ্লে দেখে তাকে আউটের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ১৩৬ বল মোকাবেলায় মুশফিকের রান ৪৮। ৫২.১ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৭ রানে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

মুশফিকের বিদায়ের পর থিতু হয়ে ব্যাট করে অর্ধশতক তুলে নেন সাকিব আল হাসান। ৮ চারে ৯০ বলে ফিফটির দেখা পান তিনি। মুশফিকের বিদায়ের পর থিতু হয়ে ব্যাট করে অর্ধশতক তুলে নেন সাকিব আল হাসান। ৮ চারে ৯০ বলে ফিফটির দেখা পান তিনি। এর আগেই মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালের পর বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ৪ হাজার রানের মাইলফলকের দেখা পান সাকিব। 

এছাড়াও টেস্টে ন্যূনতম ৪ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের ক্লাবে ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখালেন সাকিব। গ্যারি সোবার্স, ইয়ান বোথাম, কপিল দেব, জ্যাক ক্যালিস ও ড্যানিয়েল ভেট্টোরিদের মতো খেলোয়াড়েরা আগেই নাম লিখিয়েছেন এই অলরাউন্ড ক্লাবে। সাকিব তাদের মধ্যে দ্রুততম। ক্যারিয়ারের ৫৯তম টেস্টে এসে এই মাইলফলকের দেখা পেলেন তিনি। ৬৯তম টেস্টে এসে এই মাইলফলকের দেখা পেয়েছিলেন বোথাম।

পিছিয়ে পড়েও সাকিব-মিরাজে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু অধিনায়ক বাবর বল হাতে নিয়েই মিরাজকে বিদায় করে ভাঙলো এই জুটি। ১৩৯ বলে ৫১ রানের জুটি গড়ে বাবরের বলে এলবির শিকার হন মিরাজ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটাই বাবরের প্রথম উইকেট। ​৭০ বলে ১৪ রান করেছিলেন মিরাজ। 

১০ বলের ব্যবধানে সাকিবও ফিরে যান। সাজিদ খান তাকে ৬৩ রানে বোল্ড করেন। ১৩০ বলের ইনিংসে ছিল ৯ চার। এরপর ২০৫ রানে অলআউট স্বাগতিকরা। এতে ইনিংস ও ৮ রানের ব্যবধানে হার বাংলাদেশ দলের। আর ৫ ওভার ব্যাট করতে পারলে গল্পটা ভিন্ন হতো।

এর আগে ফলোঅন এড়াতে ২৫ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। হাতে উইকেট ছিল ৩টি। ৭ উইকেটে ৭৬ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছিল বাংলাদেশ। আজ পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলায় দ্বিতীয় ওভারে তাইজুল ইসলামকে (০) তুলে নেন সাজিদ খান। পরের ওভারে খালেদ আহমেদকে (০) ফিরিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি। তারপর শেষ উইকেট হিসেবে সাকিবকেই(৩৩) তুলে নেন সাজিদ। বাংলাদেশ অলআউট ৮৭ রানে। বাংলাদেশকে ফলোঅন করানোর সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান।