টি২০ বিশ্বকাপের আগেও আকরাম খান ছিলেন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের সক্রিয় চেয়ারম্যান। বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতা কোচিং স্টাফের মতো আকরামের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও কেড়ে নেয়। আইসিসি ট্রফিজয়ী অধিনায়ক এখন নীরব দর্শক। জাতীয় দলকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তগুলো নেন তৃতীয় কেউ, আকরাম শুধু কাগজে স্বাক্ষর করেন। গতকালও বিসিবিতে গিয়েছিলেন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে। কাজ শেষে নীরবে বেরিয়ে গেছেন বোর্ড কার্যালয় থেকে। যেন প্রতিবাদহীন প্রতিবাদ আকরামের।

২০১২ সালে বিসিবির তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা গঠনতন্ত্র সংশোধনের নামে ক্রিকেটারদের পরিচালক হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়। সে সময় আকরাম উদ্যোগী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ক্রিকেটারদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন গঠনতন্ত্রের ধারা পরিবর্তন করলে আকরাম খানদের পরিচালক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। যাদের অধিকার রক্ষায় একদিন উদ্যোগী হয়েছিলেন আকরাম, সেই সতীর্থ ক্রিকেটাররাই তাকে পেছন থেকে ল্যাং মারছেন বলে অভিযোগ দেশের ক্রিকেটপাড়ায়। বিসিবি পরিচালকদের মধ্যেও এ নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে।

নাম গোপন রাখার শর্তে একজন পরিচালক বলেন, 'আকরামকে না জানিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হলো, এটা স্বাস্থ্যকর কিছু না। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে জানিয়েও কাজগুলো করা যেত।'

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলে জাতীয় দল দেশে ফেরার কয়েকদিন পর দুবাই থেকে ঢাকার বিমান ধরেন আকরাম। তিনি দেশে পৌঁছানোর আগেই পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো হয়ে যায়। টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের অধীনে অনুশীলনেও নেমে পড়ে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার।

জাতীয় দলে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্তেও ছিল না ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যানের অংশগ্রহণ। মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে সহকারী কোচ হওয়ার প্রস্তাবের বিষয়েও জানা ছিল না তার। পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজের দল গড়া, কোচিং স্টাফের রোল ঠিক করেছিলেন তৃতীয় কেউ। সবকিছু হয়ে যাওয়ার পর ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জেনেছেন বলে অভিযোগ। নিউজিল্যান্ড সফর নিয়েও নিষ্ক্রিয় তিনি।

ক্রিকেট সংগঠকরা এক্ষেত্রে আকরামেরও ব্যর্থতা দেখেন। তারা মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বললে ব্যাকফুটে যেতে হতো না ক্রিকেট অপারেশনের চেয়ারম্যানকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে আকরাম শুধু বলেন, 'কী বলব? বিসিবিতে যাই, যেটুকু কাজ থাকে করি।'

পাকিস্তান সিরিজের ভরাডুবির পর নিউজিল্যান্ড সফর করছে টেস্ট দল। কিউইদের বিপক্ষে টাইগারদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ক্ষমতা দখলের লড়াই কতদিন চলবে। বাংলাদেশ সিরিজ জিতে গেলে ক্ষমতার পালা বদল হতে পারে। হোয়াইটওয়াশ হলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফিরে পেতে পারেন আকরাম। কারণ বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্টকে তিন মাস সময় দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।