ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ইমরানুরের সঙ্গে আলোকিত বক্সার সেলিম

ফিরে দেখা ২০২৩

ইমরানুরের সঙ্গে আলোকিত বক্সার সেলিম

ইমরানুর রহমান - বক্সার সেলিম হোসেন

সাখাওয়াত হোসেন জয়

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৩:২০

ক্রিকেট-ফুটবলের বাইরে ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য ডিসিপ্লিনে ২০২৩ সালটা ছিল উত্থান-পতনের। অ্যাথলেটিকসে লন্ডনপ্রবাসী স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান এবং বক্সার সেলিম হোসেন ছাড়া বাকি ইভেন্টগুলোতে সাফল্য খুব একটা নেই। শেষ হতে যাওয়া ২০২৩ সালে বাংলাদেশের অন্যান্য খেলাধুলার সাফল্য-ব্যর্থতার গল্প তুলে ধরেছেন সাখাওয়াত হোসেন জয়

কাজাখস্তানে ইমরানুরের ইতিহাস

তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখে আসছিল বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। ফেব্রুয়ারিতে কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকসে স্বর্ণ জিতে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন লন্ডনপ্রবাসী স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান। ৬০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জিততে ইমরানুর সময় নিয়েছিলেন ৬.৫৯ সেকেন্ড। কাজাখস্তানে ইতিহাস গড়া ইমরানুর আলো কেড়েছিলেন বিশ্বমঞ্চেও। গত আগস্টে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০ দশমিক ৫০ সেকেন্ড নিয়ে হিটে প্রথম হয়েছিলেন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এ কীর্তি গড়লেও দ্বিতীয় রাউন্ডে ভালো করতে না পারায় সেমিফাইনালে ওঠা হয়নি তাঁর। প্রবাসী অ্যাথলেট হিসেবে ইমরানুরকে নিয়ে স্বপ্ন ছিল গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর হ্যাংঝুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে। সেমিফাইনালে উঠে পদকের স্বপ্নও দেখিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৬০ মিটারের ইমরানুর ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নিজের সেরাটা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

রোমানের ফেরা এবং হাকিমের ঝলক

২০২২ সালের নভেম্বরে ট্রেনিং ক্যাম্পে সতীর্থ আরচারের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন আরচার রোমান সানা। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গত মার্চে ফিরে স্বাধীনতা দিবস আরচারিতে স্বর্ণ জিতেছিলেন এ তীরন্দাজ। সেই সঙ্গে এ বছরই সতীর্থ আরচার দিয়া সিদ্দিকীর সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন তিনি। রোমানের ফেরার বছরে আরচারিতে ঝলক দেখিয়েছেন হাকিম আহমেদ রুবেল। মার্চে থাইল্যান্ডের ফুকেটে এশিয়ান আরচারিতে রিকার্ভ মিশ্র দলগত ইভেন্টে দিয়া সিদ্দিকীর সঙ্গে জুটি বেঁধে দেশকে স্বর্ণ এনে দিয়েছিলেন তিনি। তবে এশিয়াডে পদকের ভালো সম্ভাবনা জাগিয়েও হতাশ করেছেন বাংলাদেশের আরচাররা। ছেলেদের রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের সেমিফাইনালে ভারত আর ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে হেরে পদক জিততে পারেননি রোমান, রুবেল, সাগর ইসলামরা।

শুটিংয়ে ব্যর্থতার গল্প

বছরব্যাপী যে কয়েকটি ইভেন্টে ট্রেনিং হয়, তার মধ্যে অন্যতম শুটিং। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বছরজুড়ে শুটিংয়ে শুধুই ছিল ব্যর্থতার গল্প। এশিয়ান গেমসে কোনো ইভেন্টেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি শুটাররা। কামরুন নাহার কলিকে ঘিরে আশা দেখলেও এশিয়াডে তার ছিটেফোঁটাও পূরণ করতে পারেননি। জাতীয় শুটিংয়ে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে স্বর্ণজয়ী অর্ণব শারার দিল্লিতে বিশ্বকাপ শুটিংয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের রেজাল্টও করতে পারেননি।

বক্সার সেলিমের চমক, জিনাতের হতাশা

এশিয়ান গেমসে সব আলো ছিল আমেরিকানপ্রবাসী বক্সার জিনাত ফেরদৌসের দিকে। এশিয়াডে তাঁকে ঘিরে পদকের স্বপ্নও দেখেছিলেন অনেকে। কিন্তু হ্যাংঝুতে গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে মঙ্গোলিয়ার ইয়েসুগেনের বিপক্ষে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে না পারা জিনাত হেরে যান ৫-০ ব্যবধানে। ঘটা করে গেমসে প্রবাসী হিসেবে জিনাতকে আনলেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অপেশাদার বক্সারের মতো। বরং যাঁকে নিয়ে কোনো আলোচনায়ই ছিল না, সেই বক্সার সেলিম হোসেন চমক দেখিয়েছিলেন। তাঁকে ঘিরে ১৯৮৬ সালে এশিয়াডে বক্সিংয়ে পদকের সম্ভাবনা জাগে। কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানি বক্সার হারদা সুদাইয়ের সঙ্গে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ৫-০ ব্যবধানে হেরে পদক বঞ্চিত হন তিনি। সেই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠলেই নিয়ম অনুযায়ী পদকও নিশ্চিত হতো তাঁর।

হকিতে ভরাডুবি

মাঠের চেয়ে বেশির ভাগ সময়ই টেবিলের খেলাতে আলোচনায় ছিল বাংলাদেশের হকি। গত পাঁচ বছরে প্রিমিয়ার লিগ হয়েছে মাত্র একটি; সেটা ২০২১ সালে। অনিয়মিত ঘরোয়া লিগের ছাপ পড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স ছিল না আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে এশিয়ান গেমসে আগের আসরের চেয়েও এবার বাজে রেজাল্ট করেছিল হকি। গত আসরে ষষ্ঠ হওয়া বাংলাদেশ এবার হয়েছে অষ্টম।

প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি মেলেনি কাবাডিতে

এশিয়ান গেমসে কাবাডির হাত ধরেই অনেকবার পদক জিতেছে বাংলাদেশ। কিন্তু হ্যাংঝুতে এবারও প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি মেলাতে পারেনি বাংলাদেশের কাবাডি। ২০১০ সালের পর এশিয়াডে পদক শূন্য দেশের জাতীয় এ খেলা। নেপালের কাছে হেরে নারী কাবাডি দল পাঁচ দলের মধে হয়েছে চতুর্থ। পদকের প্রতিশ্রুতি দেওয়া তুহিন তরফদাররা হয়েছেন ব্যর্থ।

আরও পড়ুন

×