দিনাজপুর বিকেএসপিতে উদ্বোধন হল দেশের সপ্তম হকি গ্রাউন্ডের। শুক্রবার দুপুরে বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ.কে.এম মাজহারুল হক হকি গ্রাউন্ডটি উদ্বোধন করেন। এ সময় বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্ণেল মিজানুর রহমান, দিনাজপুর আঞ্চলিক বিকেএসপির উপ-পরিচালক রোকন উদ্দীন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিকেএসপি মহাপরিচালক বলেন, ক্রিকেট-ফুটবলের পাশাপাশি হকি বিভাগকেও অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, জাতীয় দলের শতভাগ খেলোয়াড়ই বিকেএসপি থেকে উঠে এসেছে। মানসম্মত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বাড়াতে খেলোয়াড়দের জন্য দিনাজপুর বিকেএসপিতে দেশের সপ্তম হকি গ্রাউন্ডটি চালু করা হলো। 

এর আগে তিনি ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এবারে দিনাজপুর বিকেএসপিতে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার দেড় হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেছে।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিকেএসপির ২১টি ক্রীড়া বিভাগের সব বিভাগেই ভর্তি নেয়া হচ্ছে। এবারে প্রায় ১৩০-১৫০ জনের ভর্তির সুযোগ আছে। এখানে প্রাথমিক বাছাই শেষে উর্ত্তীণদের ঢাকায় ৭ দিনের জন্য প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করা হবে। সেখানে যাচাই বাছাই করে চুড়ান্ত ভাবে বাছাই করা হবে। করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর থেকে বন্ধ থাকা ট্যালেন্ট হান্ট কার্যক্রমটি পুনরায় চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলা থেকে আসা আর্চারি বিভাগে ভর্তি ইচ্ছুক সালমা মিজান নিশি বলেন, ছোট বেলায় টিভিতে আর্চারি খেলা দেখে আগ্রহ জন্মে। তারপরে যখন এক মাসের ক্যাম্প করলাম তখন জাতীয় লের খেলোয়াড় আপুকে দেখে ভাল লাগল, তখন থেকে আরো খেলার প্রতি আকৃষ্ট হই। ভালো কিছু করার চেষ্টা করব, যদি জাতীয় দলে সুযোগ হয় তাহলে ক্রিকেট-ফুটবলের মত আর্চারির মাধ্যমেও বাংলাশেকে তুলে ধরতে চেষ্টা করব।

হকি বিভাগে ভর্তি ইচ্ছুক দিনাজপুর সদর উপজেলার মোহিনী ইসলাম মিম বলেন, আমার বড় আপুকে দেখে খেলার ইচ্ছে জন্মে। কিন্তু প্রথমদিকে খেলা এবং প্রাক্টিস শুরু করাটা অনেকটা কঠিন ছিল আমার জন্য। মেয়ে মানুষ হয়ে খেলতেছি এজন্য অনেকেই অনেক কিছু বলতো, অপমান করতো। আমি তাদের কথা এড়িয়ে চলেছি। তারপর বাংলাদেশ গেমস খেলার পর এখন আমার পরিবার ও প্রতিবেশী সবাই সাপোর্ট করে।

রংপুর থেকে আসা ক্রিকেট বিভাগে ভর্তি ইচ্ছুক বাদল মিয়া জানান, আমার ক্রিকেট খেলা অনেক ভালো লাগে। লেগ স্পিনার এ্যাডাম জাম্পার খেলা দেখে তার মত হত চাই। এখন আমিও লেগ স্পিন বোলিং করি। কোথাও ট্রাইল হলেই সেখানে যাই। বাংলাদেশ দলে সুযোগ হলে লেগ স্পিনারের ঘাটতি পূরণ করতে চাই।