টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডের পর এবার ভারতের টেস্ট দলের নেতৃত্বও ছেড়ে দিলেন বিরাট কোহলি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারের পরই এমন ঘোষণা দিলেন তিনি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটার ও ফেসবুকে বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন তিনি।

পোস্টে কোহলি লিখেছেন, 'গত সাত বছর ধরে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম, একটানা ধৈর্য দেখিয়ে দলকে একটা সঠিক দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে এই কাজ করেছি এবং কিছু বাদ রাখিনি। কোনো একটা স্তরে এসে সবকিছুই এক সময় থেমে যায় এবং টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে, আমার কাছেও এটাই থেমে যাওয়ার সময়।'

তিনি আরো লিখেন, 'এই যাত্রাপথে অনেক উথান এবং কিছু পতন হয়েছে। কিন্তু কখনওই চেষ্টা বা বিশ্বাসের কমতি রাখিনি। যা-ই করি না কেন, নিজের ১২০ শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যদি সেটা না পারি, তা হলে আমি জানি এটা সঠিক কাজ নয়। দলের প্রতি অসৎ হতে পারব না।'

কোহলির বিবৃতিতে উঠে এসেছে ভারতের সাবেক কোচ রবি শাস্ত্রীর কথা। কোহলি লিখেছেন, 'রবি শাস্ত্রী এবং বাকি সাপোর্ট স্টাফদের প্রশংসা প্রাপ্য। ভারতীয় দল যে ভাবে একটা গাড়ির মতো ধারাবাহিক ভাবে উপরে উঠে এসেছে, সেই গাড়ির ইঞ্জিন ছিলেন ওরা। আমার দর্শনকে সত্যি করার জন্য তোমাদের ভূমিকা অসামান্য।'

কোহলির বিবৃতিতে সব থেকে বেশি ধন্যবাদ পেয়েছেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। কোহলি একদম শেষে লিখেছেন, 'এমএস ধোনিকে সব থেকে বেশি ধন্যবাদ আমাকে অধিনায়ক হিসেবে যোগ্য মনে করার জন্য। ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, এই বিশ্বাস ধোনির ছিল।'

২০১৪ সালে টেস্ট দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন কোহলি। সেই থেকে ২০২২ পর্যন্ত ৬৮ টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দেন তিনি। তার মধ্যে ৪০টিতে জিতে ভারত। ১৭টি হার মানে। ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সফল অধিনায়ক তিনি। ধোনি (৬০ ম্যাচে ২৭ জয়) ও সৌরভ গাঙ্গুলীর (৪৯ ম্যাচে ২১ জয়) সঙ্গে তার ব্যবধান অনেক।

২০২১ সালে টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন কোহলি। পরে বছরের শেষের দিকে নানা নাটকীয়তা আর কথার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তাকে ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এবার টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ালেন।