আরও একবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হল শাখা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। পদপ্রার্থীদের চাপের মুখে পড়ে শনিবার রাতে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৩০ জানুয়ারি সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। 

এর আগে গতবছরের ৩০ অক্টোবর রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সেই বছরের ২৮ নভেম্বর হল সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন সনজিত-সাদ্দাম। 

শনিবারের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল শাখা ছাত্রলীগের সমন্বিত হল সম্মেলন ২০২১’ আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, গত বুধবার দিবাগত রাতে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ঢাবির হল শাখা ছাত্রলীগের হল কমিটি না দিলে ধর্মঘট করে কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন বিভিন্ন হলের পদপ্রার্থীরা।

হল শাখা ছাত্রলীগের সমন্বিত হল সম্মেলন ২০২১’ আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

হল কমিটি নিয়ে শীর্ষ দুই নেতার গড়িমসির প্রতিবাদ জানিয়ে সেদিন রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনস্থ লেখক ভট্টাচার্যের বাসার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন হলের পদপ্রার্থীরা। পরে জয়-লেখক তাদেরকে নিয়ে টিএসসিতে এসে কথা বলে সমাধানের আশ্বাস দেন।

জানা যায়, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় টিএসসিতে ছাত্রলীগের এই দুই নেতার সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা শেষে চলতি জানুয়ারির মধ্যেই হল কমিটি ঘোষণা দিতে আল্টিমেটাম দেন পদপ্রার্থীরা। প্রয়োজনে সম্মেলন ছাড়াই কমিটি ঘোষণার প্রস্তাব করেন তারা। অন্যথায় ধর্মঘট করে সভাপতি জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ার দেন পদপ্রার্থীরা।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে এ বিষয়ে ছাত্রলীগের ওই চার নেতা আলোচনা করে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে হল সম্মেলন দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন বলে জানা যায়।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ঢাবি ছাত্রলীগের হল কমিটি হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সনজিত ও সাদ্দাম। একই সময়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী।

নৈতিক স্খলনসহ নানা অভিযোগে ২০১৯ সালের শেষে রেজওয়ানুল ও রাব্বানী ছাত্রলীগের পদ হারালে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দায়িত্ব পান জয় ও লেখক। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি তাদের ভারমুক্ত করে দেওয়া হয়। রেজওয়ানুল-রাব্বানী ও জয়-লেখকের দীর্ঘ সময়ের মেয়াদকালেও হয়নি ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার হল কমিটিগুলো। সম্প্রতি কয়েক দফায় তারিখ ঠিক করেও কমিটি গঠনে হল সম্মেলন আয়োজন করতে পারেনি ছাত্রলীগ।