বিপিএল শুরুর আগে দেশের ক্রিকেটে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) প্রযুক্তি না থাকা। বিসিবি কর্মকর্তা, ক্রিকেটার সবাইকে ডিআরএস নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত ডিআরএস ছাড়াই ২১ জানুয়ারি মাঠে গড়ায় বঙ্গবন্ধু বিপিএল টি২০ টুর্নামেন্ট। ঢাকার প্রথম পর্বের যে আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, তাতে আম্পায়ারদের কয়েকটি ভুল সিদ্ধান্তে ডিআরএসের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারছে বিসিবি। যদিও টেকনিশিয়ানের অভাবে ডিআরএস সরবরাহ করতে পারছে না হকআই প্রতিষ্ঠান। বাধ্য হয়েই বিকল্প প্রযুক্তিতে যেতে হচ্ছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে। প্রাক-ডিআরএস যুগে যেভাবে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে খেলা পরিচালনা করা হতো, সে পদ্ধতি কাজে লাগাতে চায় বিসিবি। 

গতকাল সন্ধ্যায় জুম মিটিংয়ে ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি, ম্যাচ অফিসিয়াল ও টিভি প্রোডাকশন দলের সঙ্গে বৈঠক ছিল। সেখানে কোচরা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছেন। অলিখিত একটি সিদ্ধান্তও হয়েছে, ফিল্ড আম্পায়ারের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেটারের অসন্তুষ্টি থাকলে সেটা টিভি আম্পায়ারকে রেফার করা হবে। তিনি রিপ্লে দেখে আরও নিখুঁত সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করবেন। চট্টগ্রাম পর্ব থেকে সামর্থ্যের ভেতরে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্ত কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে বেশি কিছু ভুল সিদ্ধান্ত কয়েকটি দলকে ভুগিয়েছে। সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার ওপেনার নাঈম শেখ ও মিডলঅর্ডার ব্যাটার আন্দ্রে রাসেলের ভুল আউটের পর নড়েচড়ে বসে বিসিবি। বিতর্ক দানা বাঁধার আগেই আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত কিছু সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আম্পায়ার্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার অভি আবদুল্লাহ নোমান বলেন, 'যেহেতু ডিআরএস নেই, সে ক্ষেত্রে কীভাবে বিকল্প প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে ভুল কমানো যায়, সে চেষ্টা করা হবে। টিভি প্রোডাকশন দল কতটা সাপোর্ট দিতে পারছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। কালকের (আজ) বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল হয়তো কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের জাবাবে।'

বিসিবির আন্তর্জাতিক আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত মঙ্গলবার দুটি ভুল এলবিডব্লিউ দেন। তামিম ইকবালও নিজের আউট মেনে নিতে পারেননি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত ভুল হওয়ার শঙ্কা থাকে। বল পিচ করে কোন দিকে কতটা বাঁক নিয়ে ব্যাটারের প্যাডে আঘাত করছে, খালি চোখে সেটা নির্ণয় করা কঠিন বলে মনে করেন আম্পায়াররা। যে কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) এলবিডব্লিউ দিলে বাঁকা চোখে দেখা হয়। টিভিতে খেলা সম্প্রচার করায় বিপিএলের ক্ষেত্রে সেটা হলে বৈশ্বিকভাবে সমালোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দলগুলো এবং ব্যাটাররা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দেশসেরা আম্পায়াররাও সমালোচিত হবেন। এ ক্ষেত্রে বল পড়ে কোন দিকে যাচ্ছে, সেটা গ্রাফিক্যালি দেখানো হতে পারে। তবে বল ব্যাট ছুঁয়ে প্যাডে আঘাত করলে বা কিপারের হাতে ধরা পড়লে সেগুলো নির্ণয় করা কঠিন। 

নাম গোপন রাখার শর্তে একজন আন্তর্জাতিক আম্পায়ার বলেন, 'যেগুলো হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্নিকো মিটারেই নিখুঁতভাবে ধরা পড়ে না। টিভি প্রোডাকশন দল যে সহায়তা দেবে, তাতে এ ধরনের সিদ্ধান্তে সব সময় নির্ভুল নাও হতে পারে। তবে যেটা হবে, সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চটা যাতে দেওয়া যায়, সে চেষ্টা থাকবে।' 

প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হলে বেশি সক্রিয় থাকতে হবে টিভি আম্পায়ারকে। বারবার রিপ্লে দেখে ফিল্ড আম্পায়ারকে সহযোগিতা করতে পারে টিভি আম্পায়ার। এ ক্ষেত্রে ক্যামেরা বাড়িয়ে স্ট্রাইক ব্যাটারের ভিডিও ধারণ করতে রিপ্লেতে দেখলে সমস্যা কিছুটা কমবে।