জয় দিয়ে নতুন বছরটা শুরু করতে চেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু বাস্তবে সেটা হলো না। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে ইকুয়েডর। ৩২ ফাউলের ম্যাচে পয়েন্ট হারাল ব্রাজিল। সেলেসাওদের বিদায়ী বছরটা শেষ হয়েছিল গোল শূন্য ড্র দিয়ে। এবার নতুন বছরটাও শুরু হলো ড্র দিয়ে। ম্যাচের ৬ মিনিটে গোল করে সেলেসাওদের এগিয়ে দেন ক্যাসেমিরো। পরে ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে গিয়ে সমতা টানেন ইকুয়েডরের ফেলিক্স তোরেস। এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচে জয় বঞ্চিত হলো তারা। দুটি ম্যাচই হলো প্রতিপক্ষের মাঠে।

উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মোট ৩২টি ফাউল করেছেন দুই দলের ফুটবলাররা। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই মোইজেজ কাইসেদোকে বাজে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিলের এমারসন। এর রেশ যেন চলে পুরো ম্যাচজুড়ে।

ম্যাচের ৬ মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ক্যাসেমিরো। কৌতিনহোর বলে হেড করেন ম্যাথিউস কুনহা। সেটা কোনোরকমে বাঁচান ইকুয়েডর গোলরক্ষক। বল পেয়ে ডান পায়ের আলতো টেকায় গোলবারের কাছ থেকে নেওয়া শটে গোল করেন ক্যাসেমিরো।

এরপরই ১০ জনের দল হয়ে পড়ে ইকুয়েডর। ১৫তম মিনিটে ব্রাজিলের এক খেলোয়াড়কে বেপরোয়াভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসেন স্বাগতিকদের গোলরক্ষক আলেক্সান্দার ডমিঙ্গেজ। ভিএআরের সাহায্যে তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। কিন্তু সুবিধাটা নিতে পারেনি ব্রাজিল। উল্টো ২০তম মিনিটে দ্বিতীয় হলদু কার্ড দেখে বসে তাদের ডিফেন্ডার এমেরসন। এরপর দু’দলই খেলেছে ১০ জন নিয়ে। 

ম্যাচের ২৬তম মিনিটে ৯ জনের দল হতে বসেছিল ব্রাজিল। ইকুয়েডরের কাউন্টার-অ্যাটাক রুখতে গিয়ে ডি-বক্স থেকে বেরিয়ে শট নেন গোলরক্ষক অ্যালিসন। কিন্তু তার পা লাগে এনের ভালেন্সিয়ার মাথায়। লাল কার্ড দেখান রেফারি। পরে দীর্ঘক্ষণ ভিএআরে দেখে অ্যালিসনকে হলুদ কার্ড দেন তিনি।

বিরতি থেকে ফিরে এসে ৭৫তম মিনিটে গোলের দেখা পায় ইকুয়েডর। নসালা প্লাতার কর্নারে হেডে গোলটি করেন ফেলিক্স তোরেস। ম্যাচের শেষদিকে আর কেউ উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায়নি। তবে নাটকীয়তা শেষ হয়নি তখনও। পাঁচ মিনিট যোগ করা অতিরিক্ত সময় টানতে হয় ১২ মিনিট পর্যন্ত। 

যোগ করা সময়ে এসে ব্রাজিলের গোলরক্ষক বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডার প্রেসিয়াদোর মুখে আঘাত করেন। এরপর তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি, ইকুয়েডরকে দেন পেনাল্টি। কিন্তু সিদ্ধান্ত দুটিই পরে বদলে গেছে।

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্রাজিল ১৪ ম্যাচে ১১ জয় ও তিন ড্রয়ে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। ১৫ ম্যাচে সাত জয় ও তিন ড্রয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে ইকুয়েডর।