বঙ্গবন্ধু বিপিএল টি২০ টুর্নামেন্ট কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বিসিবি। ডিআরএসের বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। চট্টগ্রাম পর্ব থেকে কার্যকর হবে আম্পায়ার্স সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন ব্যবস্থার। বিদেশি আম্পায়ারও দেখা যাবে চট্টগ্রামের ম্যাচে। শ্রীলঙ্কান আন্তর্জাতিক আম্পায়ার প্রাগিথ রামবুকওয়ালাকে যোগ করা হয়েছে বিপিএল আম্পায়ার্স প্যানেলে। আজ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স-খুলনা টাইগার্স ও সিলেট সানরাইজার্স-মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার মধ্যকার ম্যাচের যে কোনো একটিতে ফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

ডিআরএসের চেয়েও এ মুহূর্তে বেশি প্রয়োজন ছিল আম্পায়ার বাড়ানো। দেশের চারজন আন্তর্জাতিক আম্পায়ারের মধ্যে একজন করোনা আক্রান্ত। গাজী সোহেল কভিড পজিটিভ হয়ে ঢাকাতে নিজ বাসায় আইসোলেশন করছেন। করোনা নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত আম্পায়ারিং করতে পারবেন না তিনি। লঙ্কান প্রাগিথ রামবুকওয়ালা আসায় আম্পায়ার্স বিভাগের চাপ কিছুটা কমে গেল। বিপিএলের সপ্তম আসরেও ফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সুযোগ সৃষ্টি হলে আরও একজন আম্পায়ার আনা হতে পারে। 

ঢাকা পর্বে ডিআরএস না থাকায় অনেক বিতর্কের মুখোমুখি হয়ে এবার এডিআরএস আনলো বিপিএল কর্তৃপক্ষ। ডিআরএসের বিকল্প এই পদ্ধতিতে বল ট্র্যাকিংয়ের জায়গায় ব্যবহৃত হবে ম্যাট, স্প্লিট, স্ক্রীন, সুপার স্লো মোশন রিপ্লে আর আল্ট্রা এজের জায়গায় থাকবে স্মার্ট মাইক্রোফোন অডিও।

বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানান, টুর্নামেন্ট সফল করতে যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সম্ভব, তা করা হবে। সমকালকে তিনি বলেন, 'আমাদের চেষ্টা থাকবে টুর্নামেন্টের হাইপ বাড়াতে, যখন যেটার প্রয়োজন পড়ে সেগুলো নিশ্চিত করা। ডিআরএসের জন্য আমরা সব পর্যায়ে চেষ্টা করেও পাইনি। টেকনিশিয়ান পাওয়া গেলে হকআই রিমোটলি হলেও ডিআরএস সাপোর্ট দিত। যেহেতু সেটা পাওয়া যাচ্ছে না, সে কারণে বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্লো মোশন দিয়ে সিদ্ধান্তগুলো রিভিউ করা হবে। দেখেন ডিআরএস ছাড়া আট ম্যাচে ভুল হয়েছে মাত্র দুটি। ৮০টি সিদ্ধান্তের মধ্যে দুটি ভুল শতকরা হিসেবে খুবই সামান্য। ত্রিশটা ক্যামেরা থাকলেও এতটুকু ভুল হতে পারে। আইসিসি ইভেন্টগুলোতেও ভুল থাকে। আমি মনে করি, চেষ্টা করলে ভুলত্রুটি আরও কমানো সম্ভব। সে চেষ্টাই করা হবে চট্টগ্রাম থেকে।'

বিসিবির আম্পায়ার্স বিভাগ থেকে জানায়, পিচ করার পর বলের দিক নির্ণয় করা হবে 'গ্রাফিক্যাল প্রেজেন্টেশন' বা স্লো মোশন দেখে। সব বলে সেটা করা হবে, তা না। মূলত এলবিডব্লিউ বা ক্যাচের মতো সিদ্ধান্তে রিভিউ নিতে পারবেন ব্যাটার ও বোলাররা। স্নিকো মিটারের মতো শব্দ নির্ণয় যন্ত্র না থাকায় এজ বা ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচের সিদ্ধান্তগুলো রিভিউ করা কঠিন। বোঝাই যাচ্ছে গ্রাফিক্যাল ডিরেকশন দেখে কেবল বলের বাঁক বোঝা যেতে পারে। প্রাক-ডিআরএস যুগে টিভি প্রোডাকশন দল স্লো মোশন ব্যবহার করে বলের দিক দেখানোর চেষ্টা করত। তখন অবশ্য রিভিউ নিতে পারতেন না ক্রিকেটাররা। সে যা-ই হোক, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আম্পায়ার ও খেলোয়াড়দের সন্তুষ্টির জন্য প্রযুক্তিগত কিছু সুবিধা চলমান বিপিএলে যোগ করা হয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে, ভালো উইকেটে ম্যাচ খেলাতে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা গত আট ম্যাচে মোটামুটি রানের উইকেট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। চট্টগ্রামের উইকেট পুরোপুরি ব্যাটিংবান্ধব। সিলেটেও রানের উইকেট বানাতে নির্দেশ দিয়েছে বিসিবির গ্রাউন্ডস বিভাগ।