ইংল্যান্ডপ্রবাসী জুনাইন আহমেদকে ঘিরে বড় স্বপ্ন দেখে আসছিল বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন। সাউথ এশিয়ান গেমস, এমনকি বাংলাদেশ গেমসেও পুলে নেমেছিলেন তিনি। সম্ভাবনাময় এই নারী সাঁতারু নেই বার্মিংহামে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ গেমসে। ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার ব্যস্ততার কারণে ট্রেনিং করতে পারবেন না বলেই তাকে বিবেচনায় নেয়নি ফেডারেশন। বৃত্তি নিয়ে ফ্রান্সে থাকা সাঁতারু আরিফুল ইসলামের বাদ পড়ার কারণ তিনি সেখানে নতুন জীবন গড়তে চান। 

২৮ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য এই গেমসে মোট পাঁচটি ইভেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত। সাঁতারের সঙ্গে অ্যাথলেটিকস, কুস্তি, জিমন্যাস্টিকস ও বক্সিংয়ে খেলবে লাল-সবুজের অ্যাথলেটরা। বাছাইপর্বে উতরাতে না পারায় ক্রিকেটে মেয়েরা কমনওয়েলথ গেমসের টিকিট পায়নি। এখনও সুযোগ আছে ভারোত্তোলন ও হকি ডিসিপ্লিনের।

চলতি বছরে একাধিক গেমস ও টুর্নামেন্ট হবে। যে কারণে করোনার মধ্যেও ব্যস্ততা ফেডারেশনগুলোতে। বড় আসরের মধ্যে সবার আগে শুরু হবে কমনওয়েলথ গেমস। এখনও ছয় মাস বাকি থাকলেও অন্য সব গেমসের কথা চিন্তা করে এখন থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের। এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে সাঁতার ডিসিপ্লিনে কোন পাঁচ ক্রীড়াবিদ পুলে নামবেন। ৫০ ও ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে আসিফ রেজা, ৫০ ও ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে সুকুমার রাজবংশী, ৫০ ও ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে মাহমুদুন্নবী নাহিদ ছেলেদের বিভাগে অংশ নেবেন। মেয়েদের ইভেন্টে সোনিয়া খাতুন ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল ও সমান মিটার বাটারফ্লাইয়ে এবং মরিয়ম আক্তার অংশ নেবেন ৫০ ও ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে। এই পাঁচ সাঁতারুকে নিয়ে মিরপুরে চলছে ক্যাম্প। 

অন্য চার ডিসিপ্লিনের মধ্যে এখনও খেলোয়াড়দের নাম চূড়ান্ত না হলেও অ্যাথলেটিকসে পাঁচ, কুস্তিতে চার, জিমন্যাস্টিকস ও বক্সিংয়ে সমান তিনজন করে অ্যাথলেট অংশ নেবেন। জুনাইনকে খুব করে চেয়েছে ফেডারেশন। নাম চূড়ান্তের আগে তার পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেন সাঁতার ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। কিন্তু জুনাইনের পরিবারের ভাষ্য, তাদের মেয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য অনুশীলনে নেই, এ মুহূর্তে তার জন্য খেলা অনেক কঠিন। জুনাইনার ব্যাপারে করার কিছু না থাকলেও আরিফুলের সিদ্ধান্তে হতাশ ফেডারেশন কর্তারা। 

তবে গেমসে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ইভেন্ট ভারোত্তোলন থেকে মাবিয়া আক্তার সীমান্তের অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। বৃত্তি নিয়ে ফ্রান্সে যাচ্ছেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। সেই জন্য আগামী মাসে তার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, সিঙ্গাপুরের এই প্রতিযোগিতা খেললে পারফরম্যান্স অনুযায়ী মিলবে কমনওয়েলথ গেমসের টিকিট। তবে ফেডারেশন কর্তাদের স্বস্তি করোনার কারণে সিঙ্গাপুরে এই প্রতিযোগিতা হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত যদি নির্দিষ্ট সময়ে সিঙ্গাপুরে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপ হয়, আর একই সময়ে মাবিয়া ফ্রান্সে গেলে বাছাইপর্বে না খেলায় তার বার্মিংহামে যাওয়া হবে না। এ সুযোগটা হারাতে চান না মাবিয়া।