জ্যাকস ও হাওয়েলদের তাণ্ডবে স্কোরবোর্ডে ২০০ ছাড়ানো স্কোর জমা করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। যেটা চলতি বিপিএলে প্রথম ২০০ ছাড়ানো ইনিংস। একই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করলেন চট্টগ্রামের বোলার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। এটাও এবারের বিপিএলের প্রথম হ্যাটট্রিক। আজকের ম্যাচের মাধ্যমে বিপিএলে অভিষেক হয় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এ বোলারের। ব্যাটে-বলের এমন দাপুটে দিনে সিলেট সানরাইজার্সকে ১৬ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এই জয়ে বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

শুরুতে ব্যাট করে এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ ২০২ রান সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। জবাবে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর হ্যাটট্রিকে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান সংগ্রহ করে সিলেট সানরাইজার্স। বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা দ্বিতীয় বোলার মৃত্যুঞ্জয়। আগেরটি করেছিলেন স্পিনার আলিস-আল ইসলাম।

২০৩ রানের পাহাড় টপকাতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় সিলেট। আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান লেন্ডন সিমন্স ঝড়ো শুরুর আভাস দিয়ে আউট হন ৯ রান করে। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় সিলেট। এনামুল হক বিজয় আর কলিং ইনগ্রাম আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে গড়েন ১১৩ রানের পার্টনারশিপ। এতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে সিলেট। দুজনের জুটির মাঝে দুই ব্যাটসম্যানই তুলে নেন ব্যক্তিগত ফিফটি। দলের পক্ষে ওপেনার আনামুল হক ৪৭ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন। নয়টি চার ও তিনটি ছক্কা মারেন। তার সংগে ভালো জুটি গড়েন কলিন ইনগ্রাম। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৭ বলে ৫০ রান। রবি বোপারা করেন ১৬ রান।

চট্টগ্রামের হয়ে ১৮তম ওভারে হ্যাটট্রিক করেন মৃত্যুঞ্জয়। ওই ওভারের প্রথম বলে তাকে ছক্কা হাকান এনামুল। পরের বলে হাঁকান বাউন্ডারি। কিন্তু এরপর বল হাতে চমক দেখান মৃত্যুঞ্জয়। পরের তিন বলেই তুলে নেন এনামুল, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও রবি বোপারার উইকেট। টানা তিন উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের উচ্ছ্বাসে ভাসেন মৃত্যুঞ্জয়। এবারের আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক এটি। সব মিলিয়ে সপ্তম বাংলাদেশি হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। বাকিদের মধ্যে লেন্ডন সিমন্স ৯, মুক্তার আলি ৮  ও মিঠুন ৭ রান করে। চট্টগ্রামের হয়ে ৩ উইকেট নেন মৃত্যুঞ্জয়। দুটি উইকেট পান নাসুম।

এর আগে টস  হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ঝড় তোলেন উইল জ্যাকস। তিনি মাত্র ১৯ বল খেলে ৫২ রান করেন। এটি বিপিএলের ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড, যা এবারের আসরে দ্রুততম। এরপর শেষ দিকে বেনি হাওয়েল ২১ বলে ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। মাঝে আফিফ হোসেন ২৮ বলে ৩৮ ও সাব্বির রহমান ২৯ বল খেলে ৩১ রান করে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন। 

সিলেটের হয়ে একটি করে উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ, সোহাগ গাজী, মোসাদ্দেক হোসেন, রবি বোপারা ও মোক্তার আলী।

এই ম্যাচে চট্টগ্রামের হয়ে অধিনায়কত্ব পালন করছেন নাঈম ইসলাম। ফোকাস ধরে রাখতে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মিরাজ।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: 

কেনার লুইস, উইল জ্যাকস, সাব্বির রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, বেনি হাওয়েল, নাঈম ইসলাম (অধিনায়ক), শরীফুল ইসলাম, রেজাউর রহমান, নাসুম আহমেদ, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।

সিলেট সানরাইজার্স: 

লেন্ডল সিমন্স, এনামুল হক বিজয়, মোহাম্মদ মিঠুন, কলিন ইনগ্রাম, রবি বোপারা, মোসাদ্দেক হোসেন (অধিনায়ক), সোহাগ গাজী, আলাউদ্দিন বাবু, মুক্তার আলী, তাসকিন আহমেদ, সানজামুল ইসলাম।