যুব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। টুর্নামেন্টের শিরোপাধারী দল বাংলাদেশ। আর ভারত যুব বিশ্বকাপে রেকর্ড চারবার চ্যাম্পিয়ন। ক্যারিবিয়ান সাগরতীরে আজ উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে দুই দলের লড়াইয়ে টসভাগ্যে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়েছে টাইগার যুবারা।

ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপাকে পড়ে চ্যাম্পিয়নরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার মাহফিজুল ইসলামকে ২ (৪) রানে বোল্ড করে ফেরান রবি কুমার। আরেক ওপেনার ১৭ বল খেললেও ১ রান করে বিদায় নেন রবি কুমারের বলে ক্যাচ দিয়ে। মাত্র ১৪ রানে বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটারকে সাজঘরের পথ দেখান রবি। এরপর দলের হাল ধরেন আইচ মোল্লা। কিন্তু আইচ মোল্লা একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অপরপ্রান্তে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৪৮ বলে আইচ মোল্লা ফেরেন ১৭ রানে।

আইচ মোল্লার বিদায়ে ৫৬ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলীয় রান তিন অঙ্কে নিতে দলকে উদ্ধার করলেন মেহরব হাসান ও আশিকুর রহমান। দুজনের ৫০ রানের জুটিতে বাংলাদেশের দলীয় রান একশ পেরিয়ে যায়। কিন্তু তাদের জুটি ভাঙার পর আবার ওলটপালট বাংলাদেশের ইনিংস। ১১১ রানেই অল আউট বাংলাদেশ। আটে নেমে মেহেরব হোসেন ৩০ ও নয়ে নেমে আশিকুর জামান ১৬ রান করেন।

ভারতের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন রবি কুমার। ২টি উইকেট নিয়েছেন ভিকি ওস্তওয়াল। রাজবর্ধন হাঙ্গার্গেকর, কৌশল তাম্বে এবং রঘুবংশী ১টি করে উইকেট নিয়েছেন। বাকি ২টি রান আউট হয়েছে।

চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাজেভাবে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পাত্তা না দিয়ে শেষ আটে এসেছে বাংলাদেশ। 

দুই দলের সর্বশেষ চার লড়াইয়ে তিনবার জিতেছে ভারত। তবে বাংলাদেশ জিতেছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি। দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জুনিয়র টাইগাররা। দুই বছর আগের সেই ম্যাচের সুখস্মৃতি বাংলাদেশ যুব দলের জন্য অবশ্যই অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। অধিনায়ক রকিবুল হাসান স্মরণীয় সে জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। এবার ইংল্যান্ডের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করলেও পরের দুই ম্যাচ দাপটের সঙ্গে জিতে শেষ আট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

ভারত এবং বাংলাদেশের যুব দল মোট ২৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। তার মধ্যে একটি ম্যাচ খেলা হয়নি। বাকি ২৩টি ম্যাচের মধ্যে ভারত ১৯টিতেই জিতেছে। বাংলাদেশ মাত্র ৪টি ম্যাচ জিতেছে।

বাংলাদেশ একাদশ

মাহফিজুল ইসলাম, ইফতেখার হোসেন, প্রান্তিক নবিল, আইচ মোল্লা, মোহম্মদ ফাহিম (অধিনায়ক), আরিফুল ইসলাম, মেহেরুব জামান, তানজিম হাসান, রাকিবুল হাসান (অধিনায়ক), রিপন মণ্ডল।

ভারত একাদশ

রঘুবংশী, হারনুর সিং, এসকে রশিদ, যশ ধুল (অধিনায়ক), রাজ বাওয়া, সিদ্ধার্থ যাদব, কৌশল তাম্বে, দীনেশ বানা (উইকেটকিপার), রাজবর্ধন হাঙ্গার্গেকর, ভিকি ওস্তওয়াল, রবি কুমার।