গোড়ালির চোটে অনেক দিন ভুগছিলেন। ছয় মাস আগে তো অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল রাফায়েল নাদালকে। ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলা এ স্প্যানিয়ার্ডের সঙ্গে পুরো টেনিস দুনিয়ার সবার ধারণা ছিল, হয়তো কোর্টে আর দেখা মিলবে না নাদালের। ইনজুরির সঙ্গে বয়সটাও যে বড় হয়ে ওঠে তার জন্য। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী নাদাল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে যেভাবে শিরোপা জিতেছেন, তাতে অবাক সবাই। 

রোববার মেলবোর্ন পার্কে টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন ঘটান নাদাল। রড লেভার অ্যারেনায় দুই সেটে পিছিয়ে থাকা নাদাল পাঁচ ঘণ্টা ২৪ মিনিটের মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পর রাশিয়ার দানিল মেদভেদেভকে ৩-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে গড়েন নতুন ইতিহাস। সব যন্ত্রণা সহ্য করে বিশ্বের প্রথম পুরুষ টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে জিতলেন ২১তম গ্র্যান্ডস্ল্যাম। 

সোমবার সকালে মেলবোর্নের সবুজ ঘাসের ওপর ট্রফির সঙ্গে বসে ছবি তোলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মন খুলে কথা বলেন নাদাল। ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখে ট্রফি জেতায় নাদালের কাছে ২১তম গ্র্যান্ডস্ল্যামটি বিশেষ কিছু। ১৩ বছর পর দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা নাদালের মনে পড়ে যায় গত এক বছরের নানা ঘটনা, 'নিজের প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল। আমি শুধু চেষ্টা করেছি শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে। সেটা পেরেছি বলেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এমন অনেক মুহূর্ত ছিল, যেটা ফাইনালে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। এই ট্রফিটা আমার জন্য অনেক কিছু। আমি জানি, ২১তম গ্র্যান্ডস্ল্যামটি আমার কাছে বিশেষ কিছু। এর তাৎপর্য এবং গুরুত্ব কী, আমি ভালো করেই অনুধাবন করছি।'

রোববার রাতটি অন্য রকমই কেটেছে নাদালের। গতকাল সকালটাও তার জন্য বিশেষ কিছু। যাদের পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়েছেন, সেই রজার ফেদেরার ও নোভাক জকোভিচের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছেন। নোভাক জকোভিচ বলেন, '২১তম গ্র্যান্ডস্ল্যামটি জেতার জন্য অনেক অভিনন্দন নাদালকে। অসাধারণ এক কৃতিত্ব দেখিয়েছ তুমি। তোমার লড়াকু মানসিকতা আমাকে বরাবরই অনুপ্রাণিত করে। আরও একবার তোমার লড়াকু মানসিকতা দেখলাম।'

রজার ফেদেরার বলেন, 'কী অসাধারণ এক ম্যাচ। বিশ্বের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ২১তম গ্র্যান্ডস্ল্যাম জেতায় আমার পরম বন্ধু ও 'চরম শত্রু' নাদালকে হৃদয়ের গভীর থেকে শুভেচ্ছা জানাই। কয়েক মাস আগেই আমরা একে অন্যকে মজা করে বলেছিলাম, আমাদের জীবনটা যে পুরোপুরি ক্র্যাচের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অথচ কী অসাধারণ উপায়েই না ঘুরে দাঁড়াল নাদাল। গ্রেট চ্যাম্পিয়নদের কখনও বাতিলের খাতায় রাখতে নেই।'

স্মরণীয় মুহূর্তে নাদাল তুলে ধরলেন তার গত ছয় মাসের কঠিন সময়টাকে, 'আজকের দিনটি এমন, যা আমি কোনোদিন ভুলব না। কী বলব- শুভসন্ধ্যা নাকি শুভসকাল। আমি সত্যিই জানি না, এ মুহূর্তে কী বলা উচিত। তবে আমি অভিভূত। সত্যি বলতে কি, দেড় মাস আগে জানতাম না যে আমি আবারও টেনিস কোর্টে ফিরতে পারব। আজ সেই আমি আপনাদের সামনে এই ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে। আপনারা ভাবতেও পারবেন না, এটা আমার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা অসাধারণ। ধন্যবাদ আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতার জন্য। নিঃসন্দেহে এটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগপূর্ণ অধ্যায়ের একটি। গত তিন সপ্তাহে আমি যে সমর্থন পেয়েছি, তা আমার হৃদয়ে থাকবে।' ইতিহাস গড়লেও তা নিয়ে ভাবছেন না নাদাল; বরং ২০০৯ সালের পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার আনন্দটাই বেশি তার। টিকা না দেওয়ায় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলতে না পারলেও ছেলেদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন জকোভিচ। দুইয়ে মেদভেদেভ এবং পাঁচে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা নাদাল।