পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এবারের বিপিএলের সেরা একাদশ গঠন করেছে ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট ক্রিকইনফো। সেই একাদশে অধিনায়ক মনোনীত হয়েছেন সাকিব আল হাসান। ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক ছাড়াও আছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মোস্তাফিজ। সেরা একাদশে জায়গা হয়নি নাইম শেখ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ, শেখ মেহেদী, শামীম পাটোয়ারী, তাসকিন ও শরিফুলদের। একাদশে স্থানীয় ৭ পারফরমারের পাশে ৪ বিদেশি পেয়েছেন জায়গা। 

দল চ্যাম্পিয়ন হলেও ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারেননি ইমরুল। পুরো আসরে ১১ ম্যাচ খেলে মাত্র ১৯.৬০ গড়ে ১৯৬ রান করেছেন এ বাঁহাতি ব্যাটার। এক ম্যাচে করা সর্বোচ্চ ৮১ রান বাদে বাকি ১০ ম্যাচ মিলে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ১১৫ রান। তাই চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক হয়েও ইমরুলকে রাখা হয়নি সেরা একাদশে। অন্যদিকে দল রানার আপ হলেও সাকিবকে বিপিএলের সেরা একাদশের অধিনায়কের দায়িত্ব দিয়েছে ক্রিকইনফো। এই আসরে ব্যাট হাতে ২৮৪ ও বল হাতে ১৬ উইকেট নেন সাকিব।

ওপেনার হিসেবে সবার আগে জায়গা করে নেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। ৯ ম্যাচ খেলে এক সেঞ্চুরির সঙ্গে হাঁকিয়েছেন চারটি হাফসেঞ্চুরি। আসরে ৫৮.১৪ গড়ে ৪০৭ রানের মালিক তামিমের স্ট্রাইকরেটটাও ছিল ঈর্ষণীয় ১৩২.৫৭। 

তামিমের সঙ্গী হিসেবে সেরা একাদশে আছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ওপেনার উইল জ্যাকস। ৪১৪ রান করে চলতি বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের রেকর্ডটা নিজের করে নেন জ্যাকস। ১১ ম্যাচ খেলে ৪৬ গড়ে ৪১৪ রান করেছেন তিনি। সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ৯২। পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস রয়েছে চারটি। ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ১৫৬.২২।

এর পরের পজিশনে আছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের আন্দ্রে ফ্লেচার। ১ সেঞ্চুরি, ৩ ফিফটিতে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান করে (৪১০) টপ অর্ডারে জায়গা পেয়েছেন তিনি। তার স্ট্রাইক রেট ১৩৮.৯৮।

২৮.৪০ গড়ে ২৮৪ রান এবং ১৪.৫৬ গড়ে ১৬ উইকেট পেয়ে সেরা অলরাউন্ড পারফর্ম করায় ফলচুন বরিশালের সাকিব আল হাসান আছেন সেরা একাদশে। ফরচুন বরিশালের জার্সি গায়ে টানা পাঁচ ম্যাচে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে গড়েছেন রেকর্ড। টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারও তিনি।

সাকিবের পরের স্থানটা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মঈন আলীর। এক ফিফটিতে ২২৫ রানের সঙ্গে তার শিকার ৯ উইকেট। এরপরের পজিশনটি ইয়াসির আলীর। খুলনার হয়ে এক ফিফটিতে তার রান সংখ্যা ২১৯ রান।

ওপেনিংয়ে জায়গা করে নিতে না পারলেও ক্রিকইনফোর সেরা একাদশে উইকেটরক্ষক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় দলে অনিয়মিত ওপেনার এনামুল হক বিজয়। ১২১.৭৩ স্ট্রাইকরেটে এক ফিফটিতে তার টুর্নামেন্টে রান সংখ্যা ২৮০ রান। সঙ্গে  উইকেটের পেছনে তার ডিসমিসাল আছে ৪টি। এর পরের জায়গাটা আসরের শেষ দুই ম্যাচে ঝড় তোলা সুনীল নারিনের। বিপিএলের দ্রুতগতির ফিফটির মালিক নারিন ব্যাট হাতে ১৯৮.৭৫ স্ট্রাইকরেটে দুই ফিফটিতে করেছেন ১৫৯ রান। বল হাতে তার শিকার ৪ উইকেট।

পেসারদের নেতৃত্বে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৬.৬২ ইকোনমিতে ১৯ উইকেট শিকার করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ফিজ। এরপর আছেন শহিদুল ইসলাম। ফাইনালে তার বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে শেষ ওভারে ১ রানের জয় পায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ৯ ইকোনমিতে আসরে এই তরুণ তুর্কির শিকার ১৪ উইকেট। সেরা একাদশে চমক হিসেবে আছেন আসরে একমাত্র হ্যাটট্রিক করা বোলার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।

একনজরে এবারের বিপিএলের সেরা একাদশ:

তামিম ইকবাল, উইল জ্যাকস, আন্দ্রে ফ্লেচার, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মঈন আলী, এনামুল হক বিজয় (উইকেটরক্ষক), ইয়াসির আলী রাব্বি, সুনীল নারিন, শহিদুল ইসলাম, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও মোস্তাফিজুর রহমান।