বিপিএল উন্মাদনার রেশ কাটতে না কাটতেই দরজায় কড়া নাড়ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলতে আজ সকালে চট্টগ্রামের ফ্লাইট ধরবেন তামিম ইকবালরা। বিকেলেই রাখা হয়েছে অনুশীলন। তিন দিন প্রস্তুতি নিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামবেন টাইগাররা। জাতীয় দলের বিদেশি কোচিং স্টাফরাও ঢাকায় পৌঁছে গেছেন। এই সিরিজেও প্রধান কোচ থাকছেন রাসেল ডমিঙ্গো। দেশে চাকরি নিশ্চিত করতে না পারায় বাধ্য হয়েই বিসিবির চাকরিতে যোগ দেন তিনি। প্রধান কোচ হলেও ডমিঙ্গোকে কাজ করতে হবে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের অধীনে। কোচিং প্যানেলের পাশাপাশি খেলোয়াড়দেরও বস বিসিবির এ পরিচালক।

ডমিঙ্গোর কাজ হবে ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। খালেদ মাহমুদের নির্দেশনা মেনে গেম প্ল্যান করবেন তিনি। এবারের সিরিজে কোচিং প্যানেলে থাকছেন ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। যদিও করোনা আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টাইন করতে হচ্ছে তাকে। বিসিবির চিকিৎসক মঞ্জুর হোসেন জানান, গতকাল কভিড টেস্ট করা হয়েছে জেমির। রিপোর্ট নেগেটিভ হলে চট্টগ্রামে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। সেক্ষেত্রে ড্রেসিংরুমে ডমিঙ্গোর প্রতিদ্বন্দ্বী বেড়ে যাবে। 

কোচিং স্টাফ যে বা যারাই থাকেন না কেন ক্রিকেটারদের জন্য কঠিন একটি সিরিজ অপেক্ষা করছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। উপমহাদেশে ভালো ক্রিকেট খেলে তারা। সীমিত ওভারের ম্যাচে যে কোনো দলের জন্যই হুমকি আফগানরা। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবিদের নিয়ে শক্তিশালী স্পিন লাইনআপ তাদের। বাংলাদেশের কন্ডিশনে হুমকি হয়ে উঠতে পারে দলটি। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সুপার লিগের সিরিজ থেকে পয়েন্ট পেতে বাংলাদেশে কন্ডিশনিং ক্যাম্পও করেছে তারা। সিলেটে সাত দিনের ক্যাম্প শেষ করে গতকাল ম্যাচ ভেন্যু চট্টগ্রামে পাড়ি জমায় দলটি। স্বাগতিকরা বন্দরনগরীতে পৌঁছানোর পূর্বে অনুশীলন করা হয়ে যাবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে এবং টি২০ সিরিজ থেকে পয়েন্ট নেওয়ার জন্য কোচিং প্যানেলও সমৃদ্ধ করেছে দলটি। টাইগারদের সাবেক প্রধান কোচ স্টুয়ার্ট লকে এই সিরিজে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সেদিক থেকে দেখলে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে দলটি।

বিপিএলের খেলা চলায় স্বাগতিকরা খেলার মধ্যেই ছিল। টি২০ সংস্করণে ভালো ছন্দে ছিলেন জাতীয় দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার। ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিয়ে টুর্নামেন্টসেরা হন। তামিম ইকবাল রানের ছন্দে ছিলেন। লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ ভালো করেছেন। মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্ত সেভাবে রান করতে পারেননি। তবে বোলাররা দারুণ ছন্দে ছিলেন। স্পিনের চেয়েও পেস বোলিং ইউনিটের পারফরম্যান্স চোখে পড়েছে। মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন নজর কাড়েন। তামিম ইকবাল সেরা দলটাই বেছে নেন। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকায় ছুটিতে থাকায় প্রধান কোচ বিপিএল ফলো করেননি। তাই একাদশ নির্বাচনে তামিমকে নির্ভর করতে হবে খালেদ মাহমুদের ওপর।