পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী-নিয়ন্ত্রিত দনবাস অঞ্চলে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইতোমধ্যে ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা করেছে রাশিয়া। এমন অবস্থায় দেশের মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। দেশটিতে জারি করা হয়েছে মার্শাল ল। দুই দেশের এই লড়াই যে সহজে থামবে না, তা অনুমেয়ই। এই লড়াইয়ের প্রভাব পড়বে ফুটবলেও!

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে হওয়ার কথা এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল। যদি চলমান সংকট চলতে থাকে, তাহলে ম্যাচটির ভেন্যুতে পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও এ ব্যাপারে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি উয়েফা। আপাতত, টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে উয়েফা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাহিরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়বে ইউক্রেন-রাশিয়া দ্বন্দের প্রভাব। মার্চের ফিফা উইন্ডোতে ম্যাচ খেলতে পোল্যান্ডের যাওয়ার কথা রাশিয়ায়। অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে এই ম্যাচ নিয়েও। পোল্যান্ড বেঁকে বসতে পারে রাশিয়ায় ম্যাচ খেলতে। এই ম্যাচে রাশিয়া জিতলে ঘরের মাঠে তাদের খেলার কথা সুইডেন অথবা চেক রিপাবলিকের সঙ্গে। সেই ম্যাচ নিয়েও তখন দেখা দেবে শঙ্কা।

ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার দেখা হতে পারে কাতার বিশ্বকাপেও। মার্চে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেলে ইউক্রেন প্লে-অফ খেলবে ওয়েলস অথবা অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। যদি রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দলই বিশ্বকাপে মূলমঞ্চে যায়, তখন উভয় সঙ্কটে পড়বে ফিফা। যদিও ফিফার জন্য এটি নতুন কিছু নয়, অতীতেও যুদ্ধরত দেশ এক মঞ্চে বিশ্বকাপ খেলেছে। ১৯৮২ এর বিশ্বকাপে ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর একসঙ্গে খেলেছিল ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, নর্দান আয়ারল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচে ফকল্যান্ড যুদ্ধের হারের প্রতিশোধ নেন ম্যারাডোনা ও তার দল।