রূপকথা লিখে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দলকে ৪ উইকেটের জয় এনে দিয়েছেন মেহেদি মিরাজ ও আফিফ হোসেন। দু’জন সপ্তম উইকেটে গড়েছেন রেকর্ড জুটি। ওই জয়ের পরই সংবাদ মাধ্যমে উচ্ছ্বাসে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলে বসেন, ‘অথচ তাদের (মিরাজ-আফিফ) দলেই থাকার কথা ছিলো না!

বিজয়ের উল্লাসে আড়ালে থেকে গেছে ‘বোমার মতো শব্দ হওয়া’ বিসিবি কর্তার মন্তব্য। তোলা হয়নি মিরাজ-আফিফ কেন দলে অনিশ্চিত ছিলেন সেই প্রশ্ন। বিসিবি সভাপতি ইঙ্গিত করে বলতে চেয়েছেন, তার চাওয়াতেই একাদশে রাখা হয়েছে দুই স্পিন অলরাউন্ডার আফিফ ও মিরাজকে। প্রশ্ন তাহলে, ওই দুই লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটারকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন কে? অধিনায়ক, কোচ না কি নির্বাচকরা?

বল হাতে ওয়ানডে ফরম্যাটে মিরাজ আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। আইসিসি’র ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে পঞ্চম সেরা বোলার তিনি। আইসিসি’র র‌্যাংকিংয়ে দেশ সেরা বোলার সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘরের মাঠে শ্রীলংকা, এরপর জিম্বাবুয়ে সফরের ওয়ানডে সিরিজে দারুণ বোলিং করেছেন তিনি। বিপিএলও খারাপ করেননি। অথচ মিরাজই না কি দলে ও একাদশে অনিশ্চিত ছিলেন!

সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরের ওয়ানডে সিরিজে খারাপ করেননি আফিফ হোসেনও। প্রথম ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৫ বলে দুই ছক্কা ও এক চারে ৪৫ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ম্যাচে করেছিলেন ২৩ বলে ১৫ রান। সিরিজের শেষ ম্যাচে বাঁ-হাতি ব্যাটার ১৭ বলে ২৬ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন।

প্রথম ওই ম্যাচ শেষে পাপন বলেছিলেন, তাদের বাদ দিলে বাংলাদেশ হয়তো এই জয় পেতো না। তারা দলকে উদ্ধার করেছে, বাঁচিয়েছে। ‘যুক্তিহীনভাবে’ বাংলাদেশ দল থেকে ক্রিকেটারদের বাদ পড়ার নজির কম নয়। বিসিবি বস পাপনের কথা মতো মিরাজ-আফিফ বাদ পড়লে এই স্মরণীয় জয়ের সাক্ষী বাংলাদেশ হতো কি না সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।