৬ মার্চ: বিমানবন্দরে সাকিবের বোমা

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ নিয়ে বলতে হয়, আমি মানসিক ও শারীরিকভাবে সে অবস্থায় আছি, আমার মনে হয় না আমার পক্ষে এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সম্ভব। এ কারণেই আমার মনে হয় আমি যদি একটা ব্রেক পাই, যদি ওই আগ্রহটা ফিরে পাই, তাহলে আমার জন্য খেলাটা সহজ হবে। কারণ আফগানিস্তান সিরিজে মনে হয়েছে, আমি একজন প্যাসেঞ্জার। আমি খেলাটা একদমই উপভোগ করতে পারিনি। আমি চেষ্টা করেছি; কিন্তু হয়নি। আমার মনে হয়, এমন মানসিকতা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ খেলাটা ঠিক হবে না। আমার নিজের প্রতি নিজের যে প্রত্যাশা, মানুষের যে প্রত্যাশা, সেটা যদি আমি পূরণ করতে না পারি, তাহলে দলে থাকাটা খুবই দুঃখজনক হবে। এটা আমার টিমমেটদের সঙ্গে প্রতারণা করার মতো হবে।


৭ মার্চ: নিজ বাসভবনে পাপনের কড়া সুর
'তার যদি অফ ফর্ম থাকে, খেলতে ইচ্ছা না করে, সে বলুক আমি খেলব না। খেলা শেষ হওয়ার পর- আমি উপভোগ করিনি, আগ্রহ পাচ্ছি না। মোটিভেশন পাচ্ছি না- এগুলো না থাকলে খেলেছ কেন? আমার মনে হয়, যে কোনো কারণে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমি মনে করি, এটি তার একটি চমক। এই চমকে আমি বিচলিত নই। তবে আমার খারাপ লেগেছে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা উপভোগ করেনি। এটাই আমার কাছে উদ্বেগের। একজন জাতীয় দলে খেলছে, অথচ খেলা উপভোগ করছে না। ধরুন আইপিএলে ওকে নেওয়া হলো, তখন কি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতো?


৯ মার্চ: সাকিবকে বিশ্রামে পাঠাল বোর্ড
দু'দিন হয়ে যাওয়ায় আজ ওকে কল করেছিলাম। ও বললো- আমি এখনও মনে করি মানসিক ও শারীরিকভাবে আমি ক্রিকেট খেলার মতো অবস্থায় নেই। একজন ক্রিকেটার শারীরিক ও মানসিকভাবে খেলার জন্য প্রস্তুত নয়। তাকে তো জোর করে খেলানো যায় না। বিসিবি সভাপতির সঙ্গে ফোনে সে বলেছে তার বর্তমান পরিস্থিতি। সে বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে ভালো খেলতে না পারলে সমালোচনা হবে। দল উপকৃত না হলে খেলতে চায় না সে। যে কারণে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে তাকে। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলবে সে। আসলে সাকিবের ব্যক্তিগত চাওয়ার কথা চিন্তা করে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।


১২ মার্চ: বিসিবির ঘোষণা সাকিব যাবেন দ. আফ্রিকায়
'ও আমাকে প্রথমে বলেছে ছুটি চায়, তারপর বলল সে খেলবে। তারপর আবার বলল, ও ফিট না। তারপর আবার বলল খেলব না। তারপর আবার বলছে খেলব। ওর যে সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হচ্ছে, এটা তো বোঝাই যাচ্ছে। পরশু এসে ও আমাকে বলেছে, ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমাদের সবারই কোনো না কোনো সময় এরকম হয়। আপনারা অনেক কারণ বের করে নিচ্ছেন- এটার জন্য, ওটার জন্য- এরকম আসলে কিছু না। যে কোনো মানুষেরই এমন জিনিস থাকতে পারে, যেটা কেউ জানেই না। এখন আমরা ওকে সাপোর্ট করি। এখানে কোনো চাপ নেই। সে স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে খেলতে চাইলে অবশ্যই আমরা তাকে স্বাগত জানাই।'