জয়ের পরে ম্যাচ সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার নিতে এলেন সাকিব আল হাসান। দলের জয়ের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বললেন। নিজের ‌ব্যাটিং, দলের রানের লক্ষ্য ও ইয়াসির রাব্বির সঙ্গে জুটি নিয়ে কথা বললেন। এরপর পরাজিত দলের অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা এসে জানালেন, তাদের পরিকল্পনা ঠিক মতো কাজে লাগেনি।

প্রোটিয়া ওয়ানডে অধিনায়কের মতে, নতুন বলে এবং স্লগে তাদের হাত থেকে ম্যাচ বেরিয়ে গেছে। ওই দুই জায়গায় বহু চেষ্টা করেও ম্যাচের লাগাম হাতে পাননি তারা, 'শেষ ২০ ওভারে ওরা (বাংলাদেশ) ১৮০ রানের মতো করেছে। বোলারদের সঙ্গে পরামর্শ করেও কোন কুলকিনারা করতে পারিনি।'

প্রোটিয়া টপ অর্ডার ব্যাটার বাভুমা এরপর বললেন, 'ইনিংসের শুরুতে আমরা উইকেট আদায় করতে পারিনি। নরম্যালি, টপ অর্ডার থেকে আমরা উইকেট পাই এবং ডট বলের ধারা বজায় রাখতে পারি। নরম্যালি, স্লগ ওভারে আমাদের পরিকল্পনা কী সেটাও আমরা জানি। আমাদের লক্ষ্যটা ২৭০-২৮০'র মধ্যে রাখতে হতো। তিনশ'র ওপরের ওই রান তাড়া করতে হলে কাউকে সেঞ্চুরি করতে হতো।'

ঠিক তার আগেই পুরস্কার নিতে এসে সাকিব বললেন, কোথায় তারা ঝুঁকি নেওয়ার পরিকল্পনাটা করেছিলেন, 'আমাদের কিছু ক্যালকুলেটিভ ঝুঁকি নিতে হতো। ইনিংসের ৩০-৪০ ওভারে ওই ঝুঁকিটা নিয়ে রানের গতি বাড়াতে পারা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ আমরা জানতাম, স্লগে রাবাদা বোলিংয়ে আসবে এবং ওকে খেলা কঠিন হবে। সেজন্য পরিকল্পনা ছিল, ওকে (রাবাদা) আগে-ভাগেই (৩০-৪০ ওভারের মধ্যে) আক্রমণে আনা।'

সাকিবের পরিকল্পনা যে দুর্দান্তভাবে কাজে লেগেছে ম্যাচের ফলই তা বোঝাতে যথেষ্ঠ। আর ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে তার সঙ্গে ১১৫ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েছেন ইয়াসির রাব্বি। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে খেলতে নেমে তার ওই ৪৪ বলে ৫০ রানের ইনিংসের প্রশংসা করলেন দেশ সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান।

তিনি বলেন, 'আমি জানতাম, জিততে হলে আমাদের ৩০০ রান করতে হবে। শুরুতে ব্যাটিংটা ভালো হয়েছে। পুরনো বলে ব্যাটিং করা আমাদের জন্য সহজ ছিল। ইয়াসির খুবই ভালো ব্যাটিং করেছে। ওকে অনেক বেশি কৃতিত্ব দিতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে ক্যারিয়ারের তৃতীয় (চতুর্থ) ম্যাচ খেলতে নামা একজনের জন্য কাজটা সহজ নয়।'