বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিলেন দেশ সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। মা এবং শাশুড়ির অসুস্থতার চিন্তা মাথায় নিয়েই ধরেছিলেন বিমান। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন। কিন্তু ওই খুশি উৎফুল্ল করতে পারেনি তাকে। কারণ ততক্ষণে ছোট দুই সন্তানের অসুস্থতার খবর পৌঁছে গেছে তার কানে।

প্রথম ওয়ানডে খেলেই তাই দেশে ফেরার বিমান ধরতে চেয়েছিলেন বাঁ-হাতি স্পিন অলরাউন্ডার সাকিব। বোর্ডের চাপে, সংবাদ মাধ্যমের সমালোচনায় শেষ পর্যন্ত প্রোটিয়া সফরে গিয়ে এক ম্যাচ খেলেই তিনি ফেরার ইচ্ছা পোষণ করলে বোর্ড আপত্তি করেনি। বরং সাকিবই নিজ ইচ্ছায় থেকে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়।

দল ও দেশের প্রতি তার ওই নিবেদন ও ত্যাগে মুগ্ধ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। মঙ্গলবার তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের পরেই ও (সাকিব) বলে ছিল পরিবারে মেডিকেল ইমাজেন্সি চলে আসতে পারে। আমরা বলেছি সমস্যা নেই। পরিবার আগে। পরে জানায় দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলে আসবে।’

সাকিবের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলে দেশে ফেরার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। বিসিবি থেকে তার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিল। বিমানের টিকিটও চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সাকিব কিছুক্ষণ পরেই সিদ্ধান্ত বদলে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পাপন বলেন, ‘কালকে আবার ফোন করে বললো, শেষ ম্যাচ খেলেই আসবে। ওর (সাকিব) ফিরে আসার ব্যাপারে আমাদের সবসময় গ্রিন সিগনাল আছে। ও যেটা করছে দলের জন্য এটা ওর সেক্রিফাইস।’

বাংলাদেশ সেঞ্চুরিয়ানে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে জয় পেয়েছে। দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে জোহানেসবার্গে হেরেছে বড় ব্যবধানে। সেঞ্চুরিয়ানে বুধবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টেম্বা বাভুমাদের মুখোমুখি হবেন সাকিব-তামিমরা। টেস্ট সিরিজের দলে থাকলেও ওই ম্যাচ খেলেই দেশে ফিরবেন সাকিব।