করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পরের ছয় মাসে গুরুতর রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সুইডেনে করা একটি গবেষণায় এমনটি দেখা যায়। গবেষণা প্রতিবেদনটি পিয়ার রিভিউ জার্নাল বিএমজেতে প্রকাশিত হয়েছে।  

গবেষণায় দেখা যায়, যারা করোনায় তীব্রভাবে সংক্রমিত হয়েছেন এবং যারা করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় সংক্রমিত হয়েছেন তারা রক্ত জমাটা বাঁধার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনলাইন। 

এই গবেষণার গবেষকরাও করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাজ্যের একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, টিকা নেওয়ার পরও রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সেই ঝুঁকি খুবই কম। 

যারা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন বিশেষ করে যাদেরকে হাসপাতালে নিতে হয়েছিল সেসব রোগীদের ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধার মতো ঘটনা ঘটে। রক্ত জমাট বাঁধার এই অবস্থা কখন পূর্বের পর্যায়ে ফিরে আসবে বিজ্ঞানীরা সেটি খুঁজে বের করতে চাইছেন এবং সেটি কি সংক্রমণের এক ঢেউ থেকে পরবর্তী ঢেউয়ে পরিবর্তন হয়েছেন কি না তাও দেখতে চাইছেন। 

গবেষকরা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত সুইডেনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এমন ১০ লাখের বেশি মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য অনুসরণ করেন। পরে এসব তথ্যের সঙ্গে করোনায় সংক্রমিত হননি এবং একই বয়স ও লিঙ্গের ৪০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য তথ্যের তুলনামূলক পর্যালোচনা করেন গবেষকরা। 

এতে দেখা যায়, করোনা আক্রান্তের পরের তিন মাস পর্যন্ত পা অথবা ডিপ ভেইন থ্রোম্বাইসিসে (ডিভিটি) রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ছয় মাস পর্যন্ত ফুসফুস বা পালমোনারি এমবোলিজমে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া দুই মাস পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের (ইন্টারনাল ব্লিডিং) ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। 

করোনা সংক্রমণের পর রক্ত জমাট বাঁধা এবং করোনায় আক্রান্ত না হওয়া ব্যক্তির রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকির তুলনামূলক পর্যালোচনায় দেখা যায়: করোনায় আক্রান্ত প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে চার জনের ডিভিটিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে করোনা আক্রান্ত হননি এমন মানুষের ক্ষেত্রে সেটি প্রতি ১০ হাজারে একজন। আর করোনা আক্রান্ত প্রতি ১০ হাজারে ১৭ জনের ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার বিপরীতে করোনায় আক্রান্ত হননি এমন প্রতি ১০ হাজারে এক জনেরও কম মানুষ ফুসফুসের রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটেছে।