বন্ধু হারিয়েছে ক্ষমতা। প্রধানমন্ত্রীর গদিতে আর নেই ইমরান খান। রমিজকে পিসিবি প্রধানের পদে এনেছিলেন ইমরানই। তার সরকার পতনের পর সঙ্গত কারণেই রমিজের এই পদে থাকা নিয়ে শঙ্কা জেগে উঠেছে। অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারিয়েছেন রমিজের বন্ধু ইমরান খান।

রমিজ রাজার দায়িত্বে থাকা নিয়ে সংশয়ের প্রধান কারণ পাকিস্তানের রাজনীতি ও ক্রিকেট একে অপরের সাথে প্রচন্ড ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকা। পদাধিকার বলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চিফ প্যাট্রনও হয়ে থাকেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীই। ইমরান খানের সরকার পরিবর্তনে তাই আবারও রদবদল হতে পারে ক্রিকেট বোর্ডের নেতৃত্বেও।

পিসিবি প্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পর অবশ্য পাকিস্তানের ক্রিকেটকে নতুন করে সাজিয়েছেন রমিজ। তার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের মাঠের পারফরম্যান্সই কথা বলে রমিজের পক্ষে। এমনকি দীর্ঘদিন পর ঘরের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়েছেন রমিজ রাজাই। সম্প্রতি ২৪ বছর পর পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। অজিদের ঐতিহাসিক এই সফরে চোখ ছিল সারা দুনিয়ার ক্রিকেটপ্রেমীদের। মাঠে ও বাইরে বেশ সাফল্যের সঙ্গে সিরিজটি শেষ করেছে পিসিবি। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারলেও, ওয়ানডেতে বাজিমাত করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানে অজিদের এই সফরের সুবাদে প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় করেছে পিসিবি।

অজি সিরিজ থেকে প্রাপ্ত অর্থের খরচ করার পথও বাতলে দিয়েছেন রমিজ, 'ক্রিকেট ও আর্থিক দিক থেকে আমরা সঠিক পথেই আছি। কিন্তু অবকাঠামোতে অনেক পিছিয়ে আছি। আমি অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। এখন আমরা তরুণদের কোচিং, অনুশীলন এবং পড়াশোনার দিকে গুরুত্ব দেব।'

পাকিস্তানের এক দৈনিকের খবর, রমিজ নিজেও তৈরি আছেন। নিজে থেকেই সরে দাঁড়াতে চাইছেন তিনি। ধারাভাষ্যকার হিসেবে পুরনো পেশায় ফিরে যাবে বলে মনে করছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বর্তমানে দুবাইয়ে আইসিসির সভায় ব্যস্ত পিসিবির সভাপতি রমিজ রাজা। নিজের উদ্ভাবিত চার দলের টি-টোয়েন্টি সুপার সিরিজের প্রস্তাব, এফটিপি নিয়ে আইসিসির কাছে বড়সর প্রস্তাব জানিয়েছেন রমিজ। তার সেই প্রস্তাবে ক্রিকেটের বড় দেশগুলোর অনেকেই নাকি সমর্থন জানিয়েছে।