প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুল ম্যাচকে ক্ল্যাসিকো বলা হতো। লিগে এই দুই দলের লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সেই চিত্র বদলে গেছে। ম্যানইউ হারিয়েছে জৌলুস। ম্যানচেস্টার সিটি নিয়েছে ওই জায়গা। গত কয়েক মৌসুমে লিগ শিরোপার লড়াই ম্যানইউ-লিভারপুলে সীমাবদ্ধ। এবার তাদের শিরোপা লড়াই আরও দৃঢ়।

শিরোপার সুরহা হতে পারে এমন ম্যাচে ইতিহাদে রোববার (রাত সাড়ে নয়টা) মুখোমুখি হবে লিভারপুল ও ম্যানসিটি। ইংলিশ ক্লাসিকোর এই লড়াই জিতে দু’দলই চাইবে শিরোপার অঙ্কটা মিলিয়ে নিতে। শিরোপার পথে এগিয়ে যেতে। লড়াই হবে দুই দলের কৌশলের। গতি বনাম গতি এবং আরো অনেক কিছুর। 

গতি আর বুদ্ধির টক্কর

ক’দিন ধরেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে ম্যাচটি। দুই দলের দুই এলিট কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ ও পেপ গার্দিওলা একে অপরকে বসিয়েছেন সেরার আসনে। নিখুঁত বুদ্ধি ও মাঠের টেকনিকে কেউ কারও থেকে কম নন। দু'জনের ঝুলিতে আছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা। তবে উনিশ-বিশ হিসাব কষলে কিছুটা এগিয়ে রাখতে হবে গার্দিওলাকে।

খোদ লিভারপুল কোচ ক্লপও তা মানছেন। দুই কোচই আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী। যেখানে গতিকে মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখেন ক্লপ। আর গার্দিওলা গতির সঙ্গে বুদ্ধির চালও দেন ঝোপ বুঝে। গতি, বুদ্ধির ম্যাচে ঘরের মাঠে খেলায় কিছুটা এগিয়ে থাকবে ম্যানসিটি।   

গোলপোস্টে ব্রাজিলিয়ান দেয়াল

ম্যানসিটি ও লিভারপুলের ম্যাচ মানেই ব্রাজিলিয়ান টক্কর। দু'দলের নিয়মিত একাদশেই রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান একাধিক তারকা। লিভারপুলে ফাবিনহো, রবার্তো ফিরমিনো ও অ্যালিসন বেকার। সিটিতে গ্যাব্রিয়েল জেসুস, ফার্নান্দিনহো ও এডারসন।

তবে দুই গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন দুই ব্রাজিলিয়ান। তাও এই সময়ের অন্যতম সেরা দুই গোলকিপার তারা। গোল আটকানোর লড়াইটাও তাদের মধ্যে বেশ জমবে। ব্রাজিলের জাতীয় দলে এডারসনের চেয়ে অ্যালিসনকে বেশি দেখা গেলেও মোটেও পিছিয়ে নেই এদেরসন। 

মহামূল্যবান তিন পয়েন্ট

পেপ গার্দিওলার কাছে এই ম্যাচের তিনটি পয়েন্ট মহামূল্যাবান। যদিও লিভারপুল কোচ ক্লপ বলছেন ভিন্ন কথা, তার কাছে এই তিন পয়েন্টের গুরুত্ব বেশি হলেও এটাই যে শিরোপা নির্ধারণী সেটি মানতে নারাজ তিনি। দুই দলের বর্তমান অবস্থান প্রায় সমান।

একে থাকা ম্যানসিটি ৩০ ম্যাচ থেকে তুলেছে ৭৩ পয়েন্ট। সমান ম্যাচ খেলা লিভারপুলের পয়েন্ট ৭২। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে লিভারপুল। যে দল জিতবে তার শিরোপা জেতার পথটা সহজ হয়ে যাবে। তবে প্রিমিয়ার লিগ বলে কথা। বাকি সাত ম্যাচে গা ছাড়া দেওয়ার কোন সুযোগ নেই তাদের।